ঢাকা ১১:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

শরীয়তপুরে অরক্ষিত সেচ পাম্পে প্রাণ গেল গৃহবধূর, এলাকায় ক্ষোভ

শরীয়তপুর পৌরসভার চরপালং এলাকায় একটি সেচ পাম্পের ঘূর্ণায়মান যন্ত্রাংশে বোরখা পেঁচিয়ে রোজিনা বেগম (৩৫) নামে এক গৃহবধূর করুণ মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকালে কীর্তিনাশা নদীর পাড়সংলগ্ন এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রোজিনা ওই এলাকার ইব্রাহিম সরদারের স্ত্রী। এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে বাড়ি থেকে বাজারের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন রোজিনা। পথে নদীর পাড়ে অরক্ষিত অবস্থায় থাকা একটি সেচ পাম্পের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বাতাসে তার বোরখাটি মেশিনের ভেতরে ঢুকে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই তিনি যন্ত্রের টানে আটকে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট এসে লাশ উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের অভিযোগ, জনচলাচলের পথের পাশে কোনো ধরনের নিরাপত্তা বেড়া ছাড়াই এই সেচ পাম্পটি স্থাপন করা হয়েছিল। বারবার মালিকপক্ষকে সতর্ক করা হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এই চরম অবহেলার কারণেই একটি তাজা প্রাণ ঝরে গেল বলে তারা দাবি করেন। নিহতের মেয়ে লাবণী তার মায়ের এই মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চেয়েছেন।

পালং মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, সেচ পাম্পটি সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় ছিল এবং প্রাথমিকভাবে এটিকে অবহেলাজনিত দুর্ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় মালিকপক্ষের দায় খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দুর্ঘটনার পর এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে পাম্প পরিচালনার বিরুদ্ধে জনমনে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে গণভোটের রায় ও অধ্যাদেশ পুনর্বহালের দাবি

শরীয়তপুরে অরক্ষিত সেচ পাম্পে প্রাণ গেল গৃহবধূর, এলাকায় ক্ষোভ

আপডেট সময় : ০২:২৪:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

শরীয়তপুর পৌরসভার চরপালং এলাকায় একটি সেচ পাম্পের ঘূর্ণায়মান যন্ত্রাংশে বোরখা পেঁচিয়ে রোজিনা বেগম (৩৫) নামে এক গৃহবধূর করুণ মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকালে কীর্তিনাশা নদীর পাড়সংলগ্ন এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রোজিনা ওই এলাকার ইব্রাহিম সরদারের স্ত্রী। এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে বাড়ি থেকে বাজারের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন রোজিনা। পথে নদীর পাড়ে অরক্ষিত অবস্থায় থাকা একটি সেচ পাম্পের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বাতাসে তার বোরখাটি মেশিনের ভেতরে ঢুকে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই তিনি যন্ত্রের টানে আটকে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট এসে লাশ উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের অভিযোগ, জনচলাচলের পথের পাশে কোনো ধরনের নিরাপত্তা বেড়া ছাড়াই এই সেচ পাম্পটি স্থাপন করা হয়েছিল। বারবার মালিকপক্ষকে সতর্ক করা হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এই চরম অবহেলার কারণেই একটি তাজা প্রাণ ঝরে গেল বলে তারা দাবি করেন। নিহতের মেয়ে লাবণী তার মায়ের এই মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চেয়েছেন।

পালং মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, সেচ পাম্পটি সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় ছিল এবং প্রাথমিকভাবে এটিকে অবহেলাজনিত দুর্ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় মালিকপক্ষের দায় খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দুর্ঘটনার পর এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে পাম্প পরিচালনার বিরুদ্ধে জনমনে অসন্তোষ বিরাজ করছে।