ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের জেরে দেশের সর্বশেষ সচল সার কারখানা সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (এসএফসিএল) গত ৩ এপ্রিল থেকে উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করেছে। সরকারি সিদ্ধান্তের আলোকে শুক্রবার দুপুরে এই কারখানাটির গ্যাস সরবরাহ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এর আগে দেশের অন্য পাঁচটি সরকারি সার কারখানা গ্যাস সংকটের কারণে একে একে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের গত ২৮ মার্চের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাস গ্যাস রেশনিংয়ের পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই সাময়কি অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়েছে, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে।
সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই বৃহৎ কারখানাটি বন্ধ থাকায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কয়েক দফায় সাড়ে ১৩ মাস বন্ধ থাকায় ইতিমধ্যে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার লোকসান গুনতে হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিকে। গত অর্থবছরে ৩ লাখ ৮০ হাজার টন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে মাত্র ১ লাখ ৯০ হাজার টন। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৩ লাখ টন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হওয়া নিয়েও এখন গভীর সংশয় দেখা দিয়েছে। যদিও কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করছে যে মে ও জুন মাসে পুনরায় গ্যাস সরবরাহ সম্ভব হতে পারে, তবে বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে তা কতটা নিশ্চিত, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যাচ্ছে।
দেশের মোট সারের চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ পূরণ করে এই স্থানীয় কারখানাগুলো। একদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে যুদ্ধের প্রভাবে সার আমদানি সীমিত হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে স্থানীয় উৎপাদনও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল। এই দ্বিমুখী সংকটের ফলে আগামী আমন মৌসুমে সারের জোগান ও দাম নিয়ে সারা দেশের কৃষকরা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। শাহজালাল সার কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী আশরাফুল ইসলাম জানিয়েছেন, সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের আলোকেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, দীর্ঘ সাত মাস বন্ধ থাকার পর গত বছরের অক্টোবরে চালু হওয়া এই কারখানাটি বারবার গ্যাস সংকটের কবলে পড়ে দেশের কৃষি অর্থনীতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
রিপোর্টারের নাম 























