মোবাইল সেবাকে আরও জনবান্ধব করে তুলতে এবং গ্রাহকদের সুবিধা নিশ্চিত করতে মোবাইল ভয়েস ফ্লোর প্রাইস বা সর্বনিম্ন মূল্যসীমা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম ‘ভয়েস ফর রিফর্ম’ এবং ‘টেকনোলজি ইন্ডাস্ট্রি পলিসি অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্ম’ (টিপ্যাপ)। রোববার সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের বিডিবিএল ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। ‘ভয়েস মূল্যসীমা প্রত্যাহার প্রস্তাব: মোবাইল সেবাকে জনবান্ধব করতে নতুন সরকারের করণীয়’ শীর্ষক এই আয়োজনে বক্তারা বলেন, ২০১৮ সালে মোবাইল ফোনে কথা বলার সর্বনিম্ন মূল্যসীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে।
টেলিকম বিশেষজ্ঞ মাহতাব উদ্দিন আহমেদ তাঁর মূল প্রবন্ধে বলেন, ডিভাইসের সহজলভ্যতা না বাড়ালে ইন্টারনেটের ব্যবহার বাড়ানো সম্ভব নয়। এর ফলে অসচ্ছল নাগরিকরা বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৮ সালে যখন মূল্যসীমা চালু হয়, তখন দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল মাত্র ১৮ শতাংশ, যা বর্তমানে ৪৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে, গত তিন বছরে প্রবৃদ্ধির হার আশানুরূপ নয়। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে মোবাইল ফোন উৎপাদনে সরকারের দেওয়া সুযোগ কাজে লাগানো হচ্ছে না এবং অপারেটররা কম তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক মুনাফা অর্জন করছে। দেশজুড়ে শতভাগ ৪জি নেটওয়ার্ক স্থাপনের জন্য আরও ২০ হাজার টাওয়ার প্রয়োজন হলেও অপারেটররা শতভাগ কভারেজের দাবি করছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
সংলাপে রবি কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স কর্মকর্তা শাহেদ আলম এবং বাংলালিংকের কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল মাসুদসহ সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এই মূল্যসীমা প্রত্যাহারের মাধ্যমে মোবাইল সেবাকে আরও সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য করার মাধ্যমে দেশের ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তিতে সহায়ক ভূমিকা রাখা সম্ভব বলে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন।
রিপোর্টারের নাম 




















