ঢাকা ০৫:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

একীভূত হওয়ার পরও ৫ ব্যাংকের সংকট কাটেনি, ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকা ধার দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

দেশের আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং তারল্য সংকট মোকাবিলায় দুর্বল পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করা হলেও পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি। গ্রাহকদের আমানত ফেরতের চাপ সামাল দিতে এসব ব্যাংককে নতুন করে ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকা ধার দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, টাকা ছাপিয়ে তিন মাস মেয়াদী এই বিশেষ ঋণ সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

ব্যাংকারদের তথ্যমতে, ব্যাংকগুলো একীভূত করার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে টাকা উত্তোলনের ব্যাপক প্রবণতা দেখা দেয়। এই অতিরিক্ত চাপ সামলাতে ব্যাংকগুলোর হাতে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ ছিল না। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাধ্য হয়ে এই তারল্য সহায়তা প্রদান করেছে। যে পাঁচটি ব্যাংক এই সুবিধা পেয়েছে সেগুলো হলো—ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক।

জানা গেছে, এই ব্যাংকগুলোর মধ্যে এক্সিম ব্যাংক ছিল বিএবি-র সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে। বাকি চারটি ব্যাংক ছিল বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলমের কবজায়। বিগত সরকারের ঘনিষ্ঠ এই দুই ব্যবসায়ীর নামে-বেনামে নেওয়া বিপুল পরিমাণ ঋণের অর্থ ফেরত না আসায় ব্যাংকগুলো দীর্ঘমেয়াদী সংকটে পড়ে। তথ্য অনুযায়ী, একীভূত হওয়ার পর ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ৪১৬ কোটি, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ৪৮২ কোটি এবং এক্সিম ব্যাংক ১ হাজার ৫৬৪ কোটি টাকা ধার পেয়েছে। এছাড়া ইউনিয়ন ব্যাংক ১৬১ কোটি ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ৯৮ কোটি টাকা কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে গ্রহণ করেছে।

উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ৪০ হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা জোগান দিয়েছে এবং বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের শেয়ার থেকে আসার কথা রয়েছে। পাশাপাশি আমানতকারীদের সুরক্ষা দিতে বীমা তহবিল থেকে মাথাপিছু ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পরিশোধের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরায়েলের ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

একীভূত হওয়ার পরও ৫ ব্যাংকের সংকট কাটেনি, ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকা ধার দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

আপডেট সময় : ১১:০৭:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

দেশের আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং তারল্য সংকট মোকাবিলায় দুর্বল পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করা হলেও পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি। গ্রাহকদের আমানত ফেরতের চাপ সামাল দিতে এসব ব্যাংককে নতুন করে ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকা ধার দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, টাকা ছাপিয়ে তিন মাস মেয়াদী এই বিশেষ ঋণ সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

ব্যাংকারদের তথ্যমতে, ব্যাংকগুলো একীভূত করার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে টাকা উত্তোলনের ব্যাপক প্রবণতা দেখা দেয়। এই অতিরিক্ত চাপ সামলাতে ব্যাংকগুলোর হাতে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ ছিল না। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাধ্য হয়ে এই তারল্য সহায়তা প্রদান করেছে। যে পাঁচটি ব্যাংক এই সুবিধা পেয়েছে সেগুলো হলো—ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক।

জানা গেছে, এই ব্যাংকগুলোর মধ্যে এক্সিম ব্যাংক ছিল বিএবি-র সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে। বাকি চারটি ব্যাংক ছিল বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলমের কবজায়। বিগত সরকারের ঘনিষ্ঠ এই দুই ব্যবসায়ীর নামে-বেনামে নেওয়া বিপুল পরিমাণ ঋণের অর্থ ফেরত না আসায় ব্যাংকগুলো দীর্ঘমেয়াদী সংকটে পড়ে। তথ্য অনুযায়ী, একীভূত হওয়ার পর ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ৪১৬ কোটি, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ৪৮২ কোটি এবং এক্সিম ব্যাংক ১ হাজার ৫৬৪ কোটি টাকা ধার পেয়েছে। এছাড়া ইউনিয়ন ব্যাংক ১৬১ কোটি ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ৯৮ কোটি টাকা কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে গ্রহণ করেছে।

উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ৪০ হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা জোগান দিয়েছে এবং বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের শেয়ার থেকে আসার কথা রয়েছে। পাশাপাশি আমানতকারীদের সুরক্ষা দিতে বীমা তহবিল থেকে মাথাপিছু ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পরিশোধের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।