চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে যেখানে ইঞ্জিন আলাদা করার পর শাটল ট্রেনের কোচগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে শহরের ফতেয়াবাদের দিকে গড়াতে শুরু করে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বগিগুলো সঠিকভাবে ‘জাম’ না দেওয়ার কারণে এই বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে, দ্রুত ইঞ্জিন পুনরায় যুক্ত করে বগিগুলোকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হওয়ায় একটি বড় দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে।
ঘটনাটি ঘটে শনিবার বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে, যখন ২৪৩/২৪৪ নম্বর শাটল ট্রেনটি বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে পৌঁছায়। নিয়ম অনুযায়ী, নগরমুখী যাত্রার জন্য ইঞ্জিনকে বগির পেছন দিকে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু হয়। বিকেল ৪টা ৩৩ মিনিটে ইঞ্জিনটি বগি থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরপরই, বগিগুলো সঠিকভাবে স্থির না থাকার কারণে ধীরে ধীরে ফতেয়াবাদের দিকে গড়াতে শুরু করে। স্টেশনে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা প্রথমে বিষয়টি বুঝতে না পারলেও, বগিগুলোর নড়াচড়া শুরু হলে তারা আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার করে অন্যদের সতর্ক করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বগিগুলো লাইনের উপর দিয়ে এগোচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরা প্রাণের ভয়ে ছুটোছুটি করছে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ইঞ্জিনটিকে পুনরায় বগিগুলোর সাথে যুক্ত করে এবং বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে বগিগুলোকে পুনরায় বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে ফিরিয়ে আনে। এরপর ইঞ্জিন রিভার্স প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শাটল ট্রেনটি বিকেল ৪টা ৫৫ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন ত্যাগ করে। ঘটনার সময় স্টেশনে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা জানান, বগিগুলো হঠাৎ গড়াতে শুরু করায় তারা বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করেছিলেন।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় রেলওয়ে কর্মকর্তারা এই ঘটনাকে ‘জ্যামিং ত্রুটি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তারা জানান, বগিগুলো সঠিকভাবে জ্যাম করা হয়নি বলেই এই রোলিং শুরু হয়েছিল। তবে, চালকের দ্রুত প্রতিক্রিয়ার কারণে কোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটেনি। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে জ্যামিং এবং শান্টিং ব্যবস্থার উপর আরও জোর দেওয়া হবে বলে তারা আশ্বাস দিয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 




















