ঢাকা ০৬:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

আমেরিকার ঋণের বোঝা আকাশচুম্বী: জাতীয় ঋণ ছাড়ালো ৩৯ ট্রিলিয়ন ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণের বোঝা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই মার্কিন অর্থ বিভাগ যে হারে ঋণ গ্রহণ করছে, তা গভীর অর্থনৈতিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিভিন্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী, বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই দেশটির জাতীয় ঋণ ৩৯ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এই বিপুল পরিমাণ ঋণ বৃদ্ধি বর্তমান প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের (সিবিও) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসেই আমেরিকার কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেট ঘাটতি আরও এক ট্রিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান প্রেসিডেন্টের নীতি অব্যাহত থাকলে আগামী দশকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ৬৪ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

মার্কিন সরকার গত পাঁচ মাস ধরে প্রতি সপ্তাহে গড়ে পাঁচ হাজার কোটি ডলার করে ঋণ নিয়েছে। সিবিওর বাজেট পর্যালোচনা বলছে, শুধু ফেব্রুয়ারি মাসেই মার্কিন সরকার ৩০৮ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়েছে।

ইরান যুদ্ধ শুরুর অল্প সময়ের মধ্যেই ঋণের এই দ্রুত বৃদ্ধি দেশটির ওপর বড় আর্থিক চাপের সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের ব্যয়, কর হ্রাস, প্রতিরক্ষা বাজেট বৃদ্ধি এবং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত খরচ—এসবই প্রশাসনের নীতিগত অগ্রাধিকারের সংঘাতকে স্পষ্ট করে তুলেছে। যদিও প্রেসিডেন্ট তার নির্বাচনী প্রচারণায় ঋণ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

গত অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে ঋণের সুদ পরিশোধে মার্কিন অর্থ বিভাগকে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় অতিরিক্ত তিন হাজার ১০০ কোটি ডলার ব্যয় করতে হয়েছে। এই সময়ে সুদ বাবদই যুক্তরাষ্ট্রের খরচ হয়েছে ৪৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আসন্ন নির্বাচনের আগেই যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। হোয়াইট হাউসের ন্যাশনাল ইকোনমিক কাউন্সিলের পরিচালক কেভিন হ্যাসেট জানিয়েছেন, ইরানে হামলার পর ইতিমধ্যে ১২ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে স্থল অভিযানের সম্ভাবনা দেশটিকে ব্যয়বহুল এক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। সরকারি নিরীক্ষা সংস্থা (জিএও) সতর্ক করেছে যে, এই নজিরবিহীন ঋণ সাধারণ মানুষের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উখিয়ায় সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের মহোৎসব

আমেরিকার ঋণের বোঝা আকাশচুম্বী: জাতীয় ঋণ ছাড়ালো ৩৯ ট্রিলিয়ন ডলার

আপডেট সময় : ০৯:৫০:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণের বোঝা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই মার্কিন অর্থ বিভাগ যে হারে ঋণ গ্রহণ করছে, তা গভীর অর্থনৈতিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিভিন্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী, বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই দেশটির জাতীয় ঋণ ৩৯ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এই বিপুল পরিমাণ ঋণ বৃদ্ধি বর্তমান প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের (সিবিও) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসেই আমেরিকার কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেট ঘাটতি আরও এক ট্রিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান প্রেসিডেন্টের নীতি অব্যাহত থাকলে আগামী দশকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ৬৪ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

মার্কিন সরকার গত পাঁচ মাস ধরে প্রতি সপ্তাহে গড়ে পাঁচ হাজার কোটি ডলার করে ঋণ নিয়েছে। সিবিওর বাজেট পর্যালোচনা বলছে, শুধু ফেব্রুয়ারি মাসেই মার্কিন সরকার ৩০৮ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়েছে।

ইরান যুদ্ধ শুরুর অল্প সময়ের মধ্যেই ঋণের এই দ্রুত বৃদ্ধি দেশটির ওপর বড় আর্থিক চাপের সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের ব্যয়, কর হ্রাস, প্রতিরক্ষা বাজেট বৃদ্ধি এবং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত খরচ—এসবই প্রশাসনের নীতিগত অগ্রাধিকারের সংঘাতকে স্পষ্ট করে তুলেছে। যদিও প্রেসিডেন্ট তার নির্বাচনী প্রচারণায় ঋণ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

গত অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে ঋণের সুদ পরিশোধে মার্কিন অর্থ বিভাগকে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় অতিরিক্ত তিন হাজার ১০০ কোটি ডলার ব্যয় করতে হয়েছে। এই সময়ে সুদ বাবদই যুক্তরাষ্ট্রের খরচ হয়েছে ৪৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আসন্ন নির্বাচনের আগেই যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। হোয়াইট হাউসের ন্যাশনাল ইকোনমিক কাউন্সিলের পরিচালক কেভিন হ্যাসেট জানিয়েছেন, ইরানে হামলার পর ইতিমধ্যে ১২ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে স্থল অভিযানের সম্ভাবনা দেশটিকে ব্যয়বহুল এক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। সরকারি নিরীক্ষা সংস্থা (জিএও) সতর্ক করেছে যে, এই নজিরবিহীন ঋণ সাধারণ মানুষের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।