ঢাকা ০৭:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা, সাশ্রয়ী নীতি গ্রহণ সরকারের

সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি বর্তমানে বিবেচনায় রয়েছে। বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল (সাপ্লাই চেইন) স্বাভাবিক রাখতে সরকারকে বর্তমানে উচ্চমূল্যে জ্বালানি তেল আমদানি করতে হচ্ছে। তবে এই পরিস্থিতি আর কতদিন অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মন্ত্রী বলেন, যদিও তেলের দাম এখনই বৃদ্ধি করা হচ্ছে না, তবে এই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে দ্রুত একটি সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় অবস্থিত কোরিয়ান ইপিজেডে ইয়ংওয়ান-চিটাগং ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি এক্সিলেন্স স্কলারশিপ অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মন্ত্রী। সেখানে তিনি আরও বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং এতে কোনো আপস করা হবে না। জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হলে দেশের কৃষি ও শিল্প উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। উচ্চমূল্যে জ্বালানি তেল আমদানির ফলে সরকারি তহবিলের ওপর যে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তা মোকাবিলায় সরকার কঠোরভাবে সাশ্রয়ী নীতি গ্রহণ করেছে। এরই অংশ হিসেবে মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য জ্বালানি তেলের ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমানো হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, সরকার বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি তেল সংগ্রহের চেষ্টা করছে, তবে আমদানির ক্ষেত্রে উচ্চমূল্য একটি বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এটি দেশের তহবিলকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এত উচ্চ দামে কতদিন জ্বালানি তেল কেনা সম্ভব হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এর প্রভাব পড়বে সরকারের সাশ্রয়ী কর্মসূচিগুলোতে এবং জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে, দেশের সামগ্রিক বাজেট এবং উন্নয়ন কর্মসূচির ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

মন্ত্রী স্বীকার করেন যে যুদ্ধ পরিস্থিতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। জ্বালানি তেল ছাড়াও খাদ্যশস্য ও অন্যান্য পণ্যের সরবরাহ চেইন ঠিক রাখতে সরকার সচেষ্ট রয়েছে। এই সংকট নিরসনে তিনি জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন।

পুঁজিবাজার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আশা করা যায় পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবে। বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি সুন্দর পরিবেশ এবং পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘দম’ জয় করছে আমেরিকা, ‘প্রেশার কুকার’ যাচ্ছে লন্ডনে

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা, সাশ্রয়ী নীতি গ্রহণ সরকারের

আপডেট সময় : ১০:৩১:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি বর্তমানে বিবেচনায় রয়েছে। বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল (সাপ্লাই চেইন) স্বাভাবিক রাখতে সরকারকে বর্তমানে উচ্চমূল্যে জ্বালানি তেল আমদানি করতে হচ্ছে। তবে এই পরিস্থিতি আর কতদিন অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মন্ত্রী বলেন, যদিও তেলের দাম এখনই বৃদ্ধি করা হচ্ছে না, তবে এই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে দ্রুত একটি সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় অবস্থিত কোরিয়ান ইপিজেডে ইয়ংওয়ান-চিটাগং ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি এক্সিলেন্স স্কলারশিপ অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মন্ত্রী। সেখানে তিনি আরও বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং এতে কোনো আপস করা হবে না। জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হলে দেশের কৃষি ও শিল্প উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। উচ্চমূল্যে জ্বালানি তেল আমদানির ফলে সরকারি তহবিলের ওপর যে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তা মোকাবিলায় সরকার কঠোরভাবে সাশ্রয়ী নীতি গ্রহণ করেছে। এরই অংশ হিসেবে মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য জ্বালানি তেলের ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমানো হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, সরকার বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি তেল সংগ্রহের চেষ্টা করছে, তবে আমদানির ক্ষেত্রে উচ্চমূল্য একটি বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এটি দেশের তহবিলকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এত উচ্চ দামে কতদিন জ্বালানি তেল কেনা সম্ভব হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এর প্রভাব পড়বে সরকারের সাশ্রয়ী কর্মসূচিগুলোতে এবং জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে, দেশের সামগ্রিক বাজেট এবং উন্নয়ন কর্মসূচির ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

মন্ত্রী স্বীকার করেন যে যুদ্ধ পরিস্থিতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। জ্বালানি তেল ছাড়াও খাদ্যশস্য ও অন্যান্য পণ্যের সরবরাহ চেইন ঠিক রাখতে সরকার সচেষ্ট রয়েছে। এই সংকট নিরসনে তিনি জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন।

পুঁজিবাজার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আশা করা যায় পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবে। বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি সুন্দর পরিবেশ এবং পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।