ঢাকা ০৮:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

২০২৬ বিশ্বকাপে কর জটিলতায় বিপাকে অর্ধেকের বেশি দেশ: আর্থিক চ্যালেঞ্জে ফুটবল ফেডারেশনগুলো

২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী অর্ধেকেরও বেশি দেশ বড় ধরনের আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হতে চলেছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে ফিফার সর্বজনীন কর-ছাড় চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়া এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের করচুক্তির ভিন্নতার কারণে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, যা অনেক ফুটবল ফেডারেশনকে বিপাকে ফেলেছে।

যদিও অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ফিফা ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে করমুক্ত সুবিধা ভোগ করে আসছে, এই সুবিধা আসন্ন বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৪৮টি দেশের সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। ফলস্বরূপ, জাতীয় ফুটবল ফেডারেশনগুলোকে টুর্নামেন্ট থেকে প্রাপ্ত আয়ের ওপর ফেডারেল, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ের কর পরিশোধ করতে হবে, যা তাদের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই করের বোঝা সবচেয়ে বেশি পড়বে ছোট দেশগুলোর ওপর, যাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ডাবল ট্যাক্সেশন অ্যাগ্রিমেন্ট’ (ডিটিএ) বা দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি নেই। ৪৮টি দেশের মধ্যে মাত্র ১৮টির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এমন চুক্তি বিদ্যমান, যার অধিকাংশই ইউরোপীয় দেশ। কানাডা ও মেক্সিকো ছাড়াও ইউরোপের বাইরে অস্ট্রেলিয়া, মিশর, মরক্কো ও দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে এই সুবিধা রয়েছে। তাই কুরাসাও বা কেপ ভার্দের মতো ছোট বা প্রথমবারের মতো অংশ নেওয়া দেশগুলোর করের পরিমাণ ইংল্যান্ড বা ফ্রান্সের মতো বড় দেশের তুলনায় বেশি হতে পারে।

তবে খেলোয়াড়দের আয়ের ক্ষেত্রে এই কর-ছাড় প্রযোজ্য নয়। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, সেখানে পারফর্ম করা খেলোয়াড় ও শিল্পীদের আয়ের ওপর কর দিতে হয়। যদিও কোচ ও সাপোর্ট স্টাফদের ক্ষেত্রে কিছু সুবিধা রয়েছে, যারা সাধারণত ফেডারেশন থেকে পারিশ্রমিক পান। ইউরোপের কিছু ফুটবল ফেডারেশন আগেই বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল; কর-সংক্রান্ত এই নতুন জটিলতা ইউরোপের বাইরের দেশগুলোর উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ফিফা প্রতিটি দলের জন্য অপারেশনাল বাজেট ১৫ লাখ ডলার নির্ধারণ করলেও, দলসংখ্যা ৪৮-এ উন্নীত হওয়ায় সদস্যপ্রতি দৈনিক ভাতা কমিয়ে ২০২২ সালের ৮৫০ ডলার থেকে ৬০০ ডলারে নামানো হয়েছে। অথচ যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ ও আবাসন ব্যয় বেড়েছে। তুলনামূলকভাবে, কাতার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৩২টি দলই করমুক্ত সুবিধা পেয়েছিল। কর পরামর্শক ওরিয়ানা মরিসনের মতে, যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের করচুক্তি রয়েছে, তাদের খরচ তুলনামূলক কম হবে, কিন্তু কুরাসাও বা হাইতির মতো ছোট দেশগুলোর জন্য ব্যয় অনেক বেশি হয়ে দাঁড়াবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কূটনীতির মাধ্যমে ইসরাইল যুদ্ধবিরতিতে বাধ্য হয়েছে: ইরানের প্রেসিডেন্ট

২০২৬ বিশ্বকাপে কর জটিলতায় বিপাকে অর্ধেকের বেশি দেশ: আর্থিক চ্যালেঞ্জে ফুটবল ফেডারেশনগুলো

আপডেট সময় : ০৯:১৮:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী অর্ধেকেরও বেশি দেশ বড় ধরনের আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হতে চলেছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে ফিফার সর্বজনীন কর-ছাড় চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়া এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের করচুক্তির ভিন্নতার কারণে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, যা অনেক ফুটবল ফেডারেশনকে বিপাকে ফেলেছে।

যদিও অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ফিফা ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে করমুক্ত সুবিধা ভোগ করে আসছে, এই সুবিধা আসন্ন বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৪৮টি দেশের সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। ফলস্বরূপ, জাতীয় ফুটবল ফেডারেশনগুলোকে টুর্নামেন্ট থেকে প্রাপ্ত আয়ের ওপর ফেডারেল, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ের কর পরিশোধ করতে হবে, যা তাদের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই করের বোঝা সবচেয়ে বেশি পড়বে ছোট দেশগুলোর ওপর, যাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ডাবল ট্যাক্সেশন অ্যাগ্রিমেন্ট’ (ডিটিএ) বা দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি নেই। ৪৮টি দেশের মধ্যে মাত্র ১৮টির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এমন চুক্তি বিদ্যমান, যার অধিকাংশই ইউরোপীয় দেশ। কানাডা ও মেক্সিকো ছাড়াও ইউরোপের বাইরে অস্ট্রেলিয়া, মিশর, মরক্কো ও দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে এই সুবিধা রয়েছে। তাই কুরাসাও বা কেপ ভার্দের মতো ছোট বা প্রথমবারের মতো অংশ নেওয়া দেশগুলোর করের পরিমাণ ইংল্যান্ড বা ফ্রান্সের মতো বড় দেশের তুলনায় বেশি হতে পারে।

তবে খেলোয়াড়দের আয়ের ক্ষেত্রে এই কর-ছাড় প্রযোজ্য নয়। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, সেখানে পারফর্ম করা খেলোয়াড় ও শিল্পীদের আয়ের ওপর কর দিতে হয়। যদিও কোচ ও সাপোর্ট স্টাফদের ক্ষেত্রে কিছু সুবিধা রয়েছে, যারা সাধারণত ফেডারেশন থেকে পারিশ্রমিক পান। ইউরোপের কিছু ফুটবল ফেডারেশন আগেই বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল; কর-সংক্রান্ত এই নতুন জটিলতা ইউরোপের বাইরের দেশগুলোর উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ফিফা প্রতিটি দলের জন্য অপারেশনাল বাজেট ১৫ লাখ ডলার নির্ধারণ করলেও, দলসংখ্যা ৪৮-এ উন্নীত হওয়ায় সদস্যপ্রতি দৈনিক ভাতা কমিয়ে ২০২২ সালের ৮৫০ ডলার থেকে ৬০০ ডলারে নামানো হয়েছে। অথচ যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ ও আবাসন ব্যয় বেড়েছে। তুলনামূলকভাবে, কাতার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৩২টি দলই করমুক্ত সুবিধা পেয়েছিল। কর পরামর্শক ওরিয়ানা মরিসনের মতে, যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের করচুক্তি রয়েছে, তাদের খরচ তুলনামূলক কম হবে, কিন্তু কুরাসাও বা হাইতির মতো ছোট দেশগুলোর জন্য ব্যয় অনেক বেশি হয়ে দাঁড়াবে।