ঢাকা ০৮:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

পাকিস্তানকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা: ইসলামাবাদে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের প্রস্তুতি

ইসলামাবাদে একটি সম্ভাব্য উচ্চপর্যায়ের বৈঠককে কেন্দ্র করে পাকিস্তানে ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। রাজধানী শহরজুড়ে প্রায় ১০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং পার্শ্ববর্তী প্রদেশগুলো থেকে আরও ১০ হাজার অতিরিক্ত ফোর্স যুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। শুক্রবার ইসলামাবাদ পুলিশের মহাপরিদর্শকের নির্দেশে শহরজুড়ে বিশেষ তল্লাশি ও কম্বিং অপারেশন শুরু হয়েছে। শহরের প্রবেশ ও বাহির পথে অতিরিক্ত চেকপোস্ট বসানো হয়েছে এবং টহল ইউনিটের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে গুরুত্বপূর্ণ বাস টার্মিনালগুলোতেও চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, সেনাপ্রধান এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানরা এই ‘ঐতিহাসিক’ আয়োজনে বিশ্বনেতাদের স্বাগত জানাতে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্যারা-মিলিটারি ফোর্স ও পুলিশ বাহিনীর সমন্বয়ে পুরো শহরকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী বৈঠকের সঠিক তারিখ এখনো নির্ধারিত না হলেও, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের মতে, পরমাণু ইস্যুতে একটি বড় ধরনের অগ্রগতির সম্ভাবনা রয়েছে। এই লক্ষ্যে তেহরান থেকে ওয়াশিংটন পর্যন্ত কূটনীতিকরা নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন।

ইসলামাবাদ মনে করছে, এই সংলাপের মাধ্যমে একটি কার্যকর সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে। বিশ্বনেতাদের জন্য একটি নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিত করতে পাকিস্তান সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি মন্তব্যের পর এই প্রস্তুতি শুরু হয়। ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, চলতি সপ্তাহ শেষে ইসলামাবাদে দুই দেশের মধ্যে দ্বিতীয় দফার বৈঠক হতে পারে। এর আগে গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে প্রথম দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরান যুদ্ধের পর চলতি মাসের শুরুতে হওয়া দুই সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী ২১ এপ্রিল শেষ হতে যাচ্ছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার প্রশংসা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, কোনো চুক্তি সই হলে তিনি নিজে ইসলামাবাদ সফর করতে পারেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার ঘোষণা দিল ইরান

পাকিস্তানকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা: ইসলামাবাদে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের প্রস্তুতি

আপডেট সময় : ০৭:৩১:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

ইসলামাবাদে একটি সম্ভাব্য উচ্চপর্যায়ের বৈঠককে কেন্দ্র করে পাকিস্তানে ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। রাজধানী শহরজুড়ে প্রায় ১০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং পার্শ্ববর্তী প্রদেশগুলো থেকে আরও ১০ হাজার অতিরিক্ত ফোর্স যুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। শুক্রবার ইসলামাবাদ পুলিশের মহাপরিদর্শকের নির্দেশে শহরজুড়ে বিশেষ তল্লাশি ও কম্বিং অপারেশন শুরু হয়েছে। শহরের প্রবেশ ও বাহির পথে অতিরিক্ত চেকপোস্ট বসানো হয়েছে এবং টহল ইউনিটের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে গুরুত্বপূর্ণ বাস টার্মিনালগুলোতেও চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, সেনাপ্রধান এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানরা এই ‘ঐতিহাসিক’ আয়োজনে বিশ্বনেতাদের স্বাগত জানাতে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্যারা-মিলিটারি ফোর্স ও পুলিশ বাহিনীর সমন্বয়ে পুরো শহরকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী বৈঠকের সঠিক তারিখ এখনো নির্ধারিত না হলেও, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের মতে, পরমাণু ইস্যুতে একটি বড় ধরনের অগ্রগতির সম্ভাবনা রয়েছে। এই লক্ষ্যে তেহরান থেকে ওয়াশিংটন পর্যন্ত কূটনীতিকরা নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন।

ইসলামাবাদ মনে করছে, এই সংলাপের মাধ্যমে একটি কার্যকর সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে। বিশ্বনেতাদের জন্য একটি নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিত করতে পাকিস্তান সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি মন্তব্যের পর এই প্রস্তুতি শুরু হয়। ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, চলতি সপ্তাহ শেষে ইসলামাবাদে দুই দেশের মধ্যে দ্বিতীয় দফার বৈঠক হতে পারে। এর আগে গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে প্রথম দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরান যুদ্ধের পর চলতি মাসের শুরুতে হওয়া দুই সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী ২১ এপ্রিল শেষ হতে যাচ্ছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার প্রশংসা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, কোনো চুক্তি সই হলে তিনি নিজে ইসলামাবাদ সফর করতে পারেন।