ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তীব্র অপরিশোধিত তেল সংকটে পড়েছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির হাতে মাত্র ২০ হাজার মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে, যা দিয়ে বড়জোর আগামী ৫ থেকে ৬ দিন উৎপাদন সচল রাখা সম্ভব। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় দৈনিক ৪ থেকে সাড়ে ৪ হাজার টন তেল পরিশোধনের সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে তা কমিয়ে ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টনে নামিয়ে আনা হয়েছে। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ এক লাখ টনের একটি চালান আসার পর থেকে নতুন কোনো অপরিশোধিত তেলের জাহাজ দেশে পৌঁছেনি। বর্তমানে ‘এমটি নরডিক পোলাক্স’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন তেল নিয়ে প্রায় এক মাস ধরে সৌদি আরবের রাস্তানুরা বন্দরে আটকা পড়ে আছে।
জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে এনে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে শোধন করা হয়। বাকি ৮০ শতাংশ পরিশোধিত তেল সিঙ্গাপুর, ভারত ও চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে সরাসরি আমদানি করা হয়। ইআরএল-এর উৎপাদন বন্ধের ঝুঁকি তৈরি হলেও সরকার আশ্বস্ত করেছে যে, পরিশোধিত তেলের সরবরাহ চেইন এখনো স্বাভাবিক রয়েছে। আগামী ১২ থেকে ১৮ এপ্রিলের মধ্যে অপরিশোধিত তেলবাহী আরও দুটি জাহাজ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এছাড়া ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আশ্বাস দিয়েছেন যে, সরকারি অনুমোদন পেলে আটকা পড়া জাহাজটি দ্রুত হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার সুযোগ পাবে।
বিপিসির হিসাব মতে, বর্তমানে দেশে ১০ দিনের ডিজেল, ৮ দিনের অকটেন এবং ৯ দিনের পেট্রোল মজুত রয়েছে। তবে ফার্নেস অয়েল ও জেট ফুয়েলের মজুত তুলনামূলক ভালো অবস্থায় (২৬-২৮ দিন) আছে। ইস্টার্ন রিফাইনারির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়া কেবল তেলের অভাবে কখনো উৎপাদন বন্ধ হয়নি, যা এবারই প্রথম ঘটার উপক্রম হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইআরএল-এর দ্বিতীয় ইউনিট চালুর পরিকল্পনা থাকলেও অর্থায়নের অভাবে তা থমকে আছে। বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সরকার বিকল্প উৎস থেকে পরিশোধিত তেল আমদানির ওপর জোর দিচ্ছে যাতে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি ঘাটতি তৈরি না হয়।
রিপোর্টারের নাম 























