ঢাকা ০২:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

জীবনযাত্রার ব্যয়ে নতুন রেকর্ড: এলপিজি ও ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধিতে দিশেহারা সাধারণ মানুষ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২৮:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৯ বার পড়া হয়েছে

দেশের বাজারে নিত্যপণ্যের দাম ও সেবামূল্য আবারও আকাশচুম্বী হতে শুরু করেছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় নাভিশ্বাস দশা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তার অজুহাতে ভোজ্যতেল, রান্নার গ্যাস এবং যাতায়াত ভাড়ায় নতুন করে বিশাল চাপের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর মাসিক বাজেটে এই অতিরিক্ত খরচ মেলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানি খাতের এই অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে মূল্যস্ফীতির দ্বিতীয় ধাপের ধাক্কা বাজারকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে রান্নার গ্যাসের বাজারে। এপ্রিল মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক লাফে ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১,৭২৮ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ গত ২ এপ্রিল এই নতুন দর ঘোষণা করেন, যা ইতিমধ্যে কার্যকর হয়েছে। একই সাথে গাড়িতে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও লিটারপ্রতি প্রায় ১৮ টাকা বেড়েছে। অন্যদিকে, ভোজ্যতেলের বাজারেও অস্থিরতা বিরাজ করছে। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে খোলা সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম লিটারপ্রতি ৭ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে, যার পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা।

জ্বালানি সংকটের এই প্রভাব কেবল রান্নাঘরেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং শিল্প উৎপাদন ও কৃষি খাতেও বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে। ডিজেল সরবরাহে অনিশ্চয়তার কারণে অনেক কারখানা আংশিক সচল থাকায় উৎপাদন খরচ বাড়ছে এবং পণ্য পরিবহনে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দিচ্ছে। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল জানিয়েছেন, পরিবহন সংকটের কারণে অনেক সময় পণ্য বাজারে পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে, যা কৃত্রিম সংকটের আভাস দিচ্ছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ’-এর মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের ওপর বছরে অতিরিক্ত প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার আর্থিক চাপ পড়তে পারে। এই সংকট মোকাবিলায় সরকারকে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাজার তদারকি জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালী থেকে মাইন সরাতে ন্যাটোর সহায়তা পাবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

জীবনযাত্রার ব্যয়ে নতুন রেকর্ড: এলপিজি ও ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধিতে দিশেহারা সাধারণ মানুষ

আপডেট সময় : ১০:২৮:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

দেশের বাজারে নিত্যপণ্যের দাম ও সেবামূল্য আবারও আকাশচুম্বী হতে শুরু করেছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় নাভিশ্বাস দশা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তার অজুহাতে ভোজ্যতেল, রান্নার গ্যাস এবং যাতায়াত ভাড়ায় নতুন করে বিশাল চাপের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর মাসিক বাজেটে এই অতিরিক্ত খরচ মেলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানি খাতের এই অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে মূল্যস্ফীতির দ্বিতীয় ধাপের ধাক্কা বাজারকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে রান্নার গ্যাসের বাজারে। এপ্রিল মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক লাফে ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১,৭২৮ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ গত ২ এপ্রিল এই নতুন দর ঘোষণা করেন, যা ইতিমধ্যে কার্যকর হয়েছে। একই সাথে গাড়িতে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও লিটারপ্রতি প্রায় ১৮ টাকা বেড়েছে। অন্যদিকে, ভোজ্যতেলের বাজারেও অস্থিরতা বিরাজ করছে। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে খোলা সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম লিটারপ্রতি ৭ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে, যার পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা।

জ্বালানি সংকটের এই প্রভাব কেবল রান্নাঘরেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং শিল্প উৎপাদন ও কৃষি খাতেও বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে। ডিজেল সরবরাহে অনিশ্চয়তার কারণে অনেক কারখানা আংশিক সচল থাকায় উৎপাদন খরচ বাড়ছে এবং পণ্য পরিবহনে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দিচ্ছে। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল জানিয়েছেন, পরিবহন সংকটের কারণে অনেক সময় পণ্য বাজারে পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে, যা কৃত্রিম সংকটের আভাস দিচ্ছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ’-এর মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের ওপর বছরে অতিরিক্ত প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার আর্থিক চাপ পড়তে পারে। এই সংকট মোকাবিলায় সরকারকে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাজার তদারকি জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।