ঢাকা ০৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

ব্যাংকিং খাতে ডলার সরবরাহ বেড়েছে, তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪০:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

রমজান মাসে আমদানি ব্যয় ব্যাপক বৃদ্ধির কারণে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ডলার সরবরাহ কিছুটা কমে গিয়েছিল। তবে এখন সেই পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ব্যাংকগুলোর ডলার ধারণের সীমা বা নেট ওপেন পজিশন লিমিট (এনওপি) কমে ৬০ কোটি ডলারে নেমে এলেও, বৃহস্পতিবার তা বেড়ে ১০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে ১০৮ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সাথে বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য পরিস্থিতিরও ইতিবাচক উন্নতি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকীর পাঠানো এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের ব্যাংকিং খাতে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা ও বাজার তারল্যে ইতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। নেট ওপেন পজিশন (এনওপি) এবং নেট এফএক্স হোল্ডিং—উভয় সূচকেই সময়ের সঙ্গে উন্নতির ধারাবাহিকতা পরিলক্ষিত হচ্ছে।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ২০২৩ সালের জুনে ব্যাংকগুলোর এনওপি ছিল ১০ কোটি ৭০ লাখ ডলার, যা ২০২৪ সালের জুনে বেড়ে দাঁড়ায় ২৭ কোটি ২৭ লাখ ডলার। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তা সাময়িকভাবে কমে ৬০ কোটি ২৭ লাখ ডলারে নেমে আসে, তবে বৃহস্পতিবার তা পুনরায় বৃদ্ধি পেয়ে ১০৮ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে রমজানকে কেন্দ্র করে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় এনওপি সাময়িকভাবে কমে গিয়েছিল। পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির ফলে এখন তা আবার বেড়েছে, যা ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় দৃঢ় অবস্থানকে নির্দেশ করে।

অন্যদিকে, বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য পরিস্থিতিতেও ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। ২০২৩ সালের জুনে নেট এফএক্স হোল্ডিং ছিল ৩৪০ কোটি ডলার, যা ২০২৪ সালের জুনে বৃদ্ধি পেয়ে ৩৮৯ কোটি ডলারে উন্নীত হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আমদানি ব্যয়ের চাপের কারণে তা ২৩০ কোটি ডলারে নেমে এলেও, মার্চ মাসে উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বাজার তারল্য ৩৩৯ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, সাময়িক চাপ থাকা সত্ত্বেও ব্যাংকিং খাত ও বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে। নীতিগত সহায়তা এবং কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ফলে খাতটির স্থিতিশীলতা আরও সুদৃঢ় হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উখিয়ায় সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের মহোৎসব

ব্যাংকিং খাতে ডলার সরবরাহ বেড়েছে, তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি

আপডেট সময় : ১০:৪০:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

রমজান মাসে আমদানি ব্যয় ব্যাপক বৃদ্ধির কারণে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ডলার সরবরাহ কিছুটা কমে গিয়েছিল। তবে এখন সেই পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ব্যাংকগুলোর ডলার ধারণের সীমা বা নেট ওপেন পজিশন লিমিট (এনওপি) কমে ৬০ কোটি ডলারে নেমে এলেও, বৃহস্পতিবার তা বেড়ে ১০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে ১০৮ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সাথে বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য পরিস্থিতিরও ইতিবাচক উন্নতি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকীর পাঠানো এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের ব্যাংকিং খাতে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা ও বাজার তারল্যে ইতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। নেট ওপেন পজিশন (এনওপি) এবং নেট এফএক্স হোল্ডিং—উভয় সূচকেই সময়ের সঙ্গে উন্নতির ধারাবাহিকতা পরিলক্ষিত হচ্ছে।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ২০২৩ সালের জুনে ব্যাংকগুলোর এনওপি ছিল ১০ কোটি ৭০ লাখ ডলার, যা ২০২৪ সালের জুনে বেড়ে দাঁড়ায় ২৭ কোটি ২৭ লাখ ডলার। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তা সাময়িকভাবে কমে ৬০ কোটি ২৭ লাখ ডলারে নেমে আসে, তবে বৃহস্পতিবার তা পুনরায় বৃদ্ধি পেয়ে ১০৮ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে রমজানকে কেন্দ্র করে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় এনওপি সাময়িকভাবে কমে গিয়েছিল। পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির ফলে এখন তা আবার বেড়েছে, যা ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় দৃঢ় অবস্থানকে নির্দেশ করে।

অন্যদিকে, বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য পরিস্থিতিতেও ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। ২০২৩ সালের জুনে নেট এফএক্স হোল্ডিং ছিল ৩৪০ কোটি ডলার, যা ২০২৪ সালের জুনে বৃদ্ধি পেয়ে ৩৮৯ কোটি ডলারে উন্নীত হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আমদানি ব্যয়ের চাপের কারণে তা ২৩০ কোটি ডলারে নেমে এলেও, মার্চ মাসে উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বাজার তারল্য ৩৩৯ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, সাময়িক চাপ থাকা সত্ত্বেও ব্যাংকিং খাত ও বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে। নীতিগত সহায়তা এবং কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ফলে খাতটির স্থিতিশীলতা আরও সুদৃঢ় হয়েছে।