ঢাকা ০৮:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

দেশের অর্থনীতিতে ইসলামী ব্যাংকের বিশাল অবদান: রেমিট্যান্স আহরণে শীর্ষে

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:০৩:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

দেশের ব্যাংকিং খাতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। বিশেষ করে রেমিট্যান্স আহরণে ব্যাংকটির অবদান বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করতে অবিচ্ছেদ্য ভূমিকা রাখছে।

বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা প্রায় ২ কোটি প্রবাসী বাংলাদেশীর মধ্যে প্রায় ৫০ লাখ প্রবাসী তাদের কষ্টার্জিত অর্থ দেশে পাঠাতে ইসলামী ব্যাংককে বেছে নিয়েছেন। স্বচ্ছ ও দ্রুত লেনদেন ব্যবস্থার কারণে প্রিয়জনের কাছে অর্থ পৌঁছে দেওয়ার নিশ্চয়তাই এই বিশাল আস্থা অর্জনের মূল কারণ।

২০২৫ সালে প্রবাসীদের পাঠানো মোট ৩৩ বিলিয়ন ডলার বা ৪ হাজার ২৬ বিলিয়ন টাকার মধ্যে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৬ হাজার ২০৪ মিলিয়ন ডলার, যা প্রায় ৭৫৬ বিলিয়ন টাকার সমপরিমাণ। এই পরিসংখ্যান ব্যাংকটির রেমিট্যান্স সেবার কার্যকারিতা ও প্রবাসীদের আস্থার চিত্র তুলে ধরে।

বর্তমানে ব্যাংকটির ৩ কোটিরও বেশি গ্রাহকের আমানতের পরিমাণ ১ লাখ ৮৬ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের ব্যাংকিং খাতে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক। শরী’আহভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের প্রতি মানুষের ক্রমবর্ধমান আগ্রহের প্রতিফলন দেখা যায় এই বিপুল আমানত সংগ্রহে। দেশের ইসলামী ব্যাংকগুলোর মোট আমানতের প্রায় ৩৯ শতাংশই এককভাবে ধারণ করছে ইসলামী ব্যাংক।

এই বিশাল আমানত ব্যাংকটিকে শিল্পায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নে বড় ধরনের বিনিয়োগের সুযোগ করে দিচ্ছে। আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্যেও ব্যাংকটি শীর্ষস্থানীয় ভূমিকা পালন করছে, যা দেশের সরবরাহ শৃঙ্খল সচল রাখতে সহায়তা করছে। শুধু বৃহৎ শিল্প নয়, দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতেও ব্যাংকটির গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে ব্যাংকটির বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।

পাশাপাশি, পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প (আরডিএস)-এর মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা হয়েছে। এর ফলে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যা দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর লেনদেন ব্যবস্থাতেও ব্যাংকটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে, যা ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে পৌঁছে দিয়ে লেনদেনের গতি বাড়িয়েছে।

টেকসই প্রবৃদ্ধি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি ভবিষ্যতেও দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ৩ কোটিরও বেশি গ্রাহক ও প্রবাসীদের অটুট বিশ্বাসই ব্যাংকটির অন্যতম প্রধান শক্তি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বার কাউন্সিল পরীক্ষায় ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের জন্য বৈষম্য দূর করার আহ্বান আইনমন্ত্রীর

দেশের অর্থনীতিতে ইসলামী ব্যাংকের বিশাল অবদান: রেমিট্যান্স আহরণে শীর্ষে

আপডেট সময় : ০৬:০৩:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

দেশের ব্যাংকিং খাতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। বিশেষ করে রেমিট্যান্স আহরণে ব্যাংকটির অবদান বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করতে অবিচ্ছেদ্য ভূমিকা রাখছে।

বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা প্রায় ২ কোটি প্রবাসী বাংলাদেশীর মধ্যে প্রায় ৫০ লাখ প্রবাসী তাদের কষ্টার্জিত অর্থ দেশে পাঠাতে ইসলামী ব্যাংককে বেছে নিয়েছেন। স্বচ্ছ ও দ্রুত লেনদেন ব্যবস্থার কারণে প্রিয়জনের কাছে অর্থ পৌঁছে দেওয়ার নিশ্চয়তাই এই বিশাল আস্থা অর্জনের মূল কারণ।

২০২৫ সালে প্রবাসীদের পাঠানো মোট ৩৩ বিলিয়ন ডলার বা ৪ হাজার ২৬ বিলিয়ন টাকার মধ্যে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৬ হাজার ২০৪ মিলিয়ন ডলার, যা প্রায় ৭৫৬ বিলিয়ন টাকার সমপরিমাণ। এই পরিসংখ্যান ব্যাংকটির রেমিট্যান্স সেবার কার্যকারিতা ও প্রবাসীদের আস্থার চিত্র তুলে ধরে।

বর্তমানে ব্যাংকটির ৩ কোটিরও বেশি গ্রাহকের আমানতের পরিমাণ ১ লাখ ৮৬ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের ব্যাংকিং খাতে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক। শরী’আহভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের প্রতি মানুষের ক্রমবর্ধমান আগ্রহের প্রতিফলন দেখা যায় এই বিপুল আমানত সংগ্রহে। দেশের ইসলামী ব্যাংকগুলোর মোট আমানতের প্রায় ৩৯ শতাংশই এককভাবে ধারণ করছে ইসলামী ব্যাংক।

এই বিশাল আমানত ব্যাংকটিকে শিল্পায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নে বড় ধরনের বিনিয়োগের সুযোগ করে দিচ্ছে। আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্যেও ব্যাংকটি শীর্ষস্থানীয় ভূমিকা পালন করছে, যা দেশের সরবরাহ শৃঙ্খল সচল রাখতে সহায়তা করছে। শুধু বৃহৎ শিল্প নয়, দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতেও ব্যাংকটির গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে ব্যাংকটির বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।

পাশাপাশি, পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প (আরডিএস)-এর মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা হয়েছে। এর ফলে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যা দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর লেনদেন ব্যবস্থাতেও ব্যাংকটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে, যা ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে পৌঁছে দিয়ে লেনদেনের গতি বাড়িয়েছে।

টেকসই প্রবৃদ্ধি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি ভবিষ্যতেও দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ৩ কোটিরও বেশি গ্রাহক ও প্রবাসীদের অটুট বিশ্বাসই ব্যাংকটির অন্যতম প্রধান শক্তি।