ঢাকা ০৫:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ ১৮ ঘণ্টা পর স্বাভাবিক

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৩:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শাহপুরে সিলেটগামী তেলবাহী একটি ট্রেনের পাঁচটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হয়।

মনতলা স্টেশন মাস্টার আতাউর রহমান খাদেম জানান, সকালে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী আন্তঃনগর পারাবত ট্রেনটি প্রায় পৌনে ৪টার দিকে মনতলা স্টেশন অতিক্রম করে। এর আগে বুধবার দিনগত রাত পৌনে ১০টার দিকে ঢাকা-সিলেট রেলপথে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর থেকে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ, সেনাবাহিনী, বিজিবি এবং পুলিশ উদ্ধার কাজ শুরু করে। সৌভাগ্যবশত, এই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তেলবাহী ট্রেনটি লাইনচ্যুত হওয়ার সময় বিকট শব্দ হয় এবং পাঁচটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে খাদে পড়ে যায়। অন্য বগিগুলোও কাত হয়ে পড়ে। ঘটনার পর স্থানীয়রা সেখানে ভিড় জমায় এবং কেউ কেউ লাইনচ্যুত বগি থেকে তেল লুটের চেষ্টা করে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং প্রায় এক হাজার লিটার তেল উদ্ধার করতে সক্ষম হন।

রেলওয়ে সূত্রমতে, জ্বালানি তেলবাহী ট্রেনটি চট্টগ্রাম থেকে সিলেট যাচ্ছিল। মনতলা রেলস্টেশন অতিক্রম করার সময় এটি লাইনচ্যুত হয়, যার ফলে সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

বিজিবি হবিগঞ্জ-৫৫ ব্যাটেলিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানজিলুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে তারা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তেল লুটপাট বন্ধ করেন এবং প্রায় এক হাজার লিটার তেল উদ্ধার করেন। ফায়ার সার্ভিসসহ তারা উদ্ধার কাজে অংশ নেন।

বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার এবিএম কামরুজ্জামান বলেন, ট্রেনটির ধারণ ক্ষমতা ছিল ৩৯ হাজার লিটার তেল। তবে ঠিক কত লিটার তেল নষ্ট হয়েছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি জানান, দুটি ওয়াগন সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে, একটির ৯০ শতাংশ এবং অন্য দুটির ৭০ শতাংশ তেল ভালো আছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত কমিটি নির্ধারণ করবে।

মনতলা স্টেশন মাস্টার আতাউর রহমান খাদেম আরও জানান, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে স্থানীয় মানুষের ভিড় জমে। রাত সোয়া ২টায় আখাউড়া থেকে একটি রিলিফ ট্রেন এসে উদ্ধার কাজ শুরু করে। রেলওয়ের পাশাপাশি বিজিবি, সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরাও উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা চ্যালেঞ্জ করে হরমুজ প্রণালি পার হলো ইরানি সুপারট্যাঙ্কার

সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ ১৮ ঘণ্টা পর স্বাভাবিক

আপডেট সময় : ০৪:৫৩:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শাহপুরে সিলেটগামী তেলবাহী একটি ট্রেনের পাঁচটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হয়।

মনতলা স্টেশন মাস্টার আতাউর রহমান খাদেম জানান, সকালে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী আন্তঃনগর পারাবত ট্রেনটি প্রায় পৌনে ৪টার দিকে মনতলা স্টেশন অতিক্রম করে। এর আগে বুধবার দিনগত রাত পৌনে ১০টার দিকে ঢাকা-সিলেট রেলপথে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর থেকে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ, সেনাবাহিনী, বিজিবি এবং পুলিশ উদ্ধার কাজ শুরু করে। সৌভাগ্যবশত, এই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তেলবাহী ট্রেনটি লাইনচ্যুত হওয়ার সময় বিকট শব্দ হয় এবং পাঁচটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে খাদে পড়ে যায়। অন্য বগিগুলোও কাত হয়ে পড়ে। ঘটনার পর স্থানীয়রা সেখানে ভিড় জমায় এবং কেউ কেউ লাইনচ্যুত বগি থেকে তেল লুটের চেষ্টা করে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং প্রায় এক হাজার লিটার তেল উদ্ধার করতে সক্ষম হন।

রেলওয়ে সূত্রমতে, জ্বালানি তেলবাহী ট্রেনটি চট্টগ্রাম থেকে সিলেট যাচ্ছিল। মনতলা রেলস্টেশন অতিক্রম করার সময় এটি লাইনচ্যুত হয়, যার ফলে সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

বিজিবি হবিগঞ্জ-৫৫ ব্যাটেলিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানজিলুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে তারা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তেল লুটপাট বন্ধ করেন এবং প্রায় এক হাজার লিটার তেল উদ্ধার করেন। ফায়ার সার্ভিসসহ তারা উদ্ধার কাজে অংশ নেন।

বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার এবিএম কামরুজ্জামান বলেন, ট্রেনটির ধারণ ক্ষমতা ছিল ৩৯ হাজার লিটার তেল। তবে ঠিক কত লিটার তেল নষ্ট হয়েছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি জানান, দুটি ওয়াগন সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে, একটির ৯০ শতাংশ এবং অন্য দুটির ৭০ শতাংশ তেল ভালো আছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত কমিটি নির্ধারণ করবে।

মনতলা স্টেশন মাস্টার আতাউর রহমান খাদেম আরও জানান, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে স্থানীয় মানুষের ভিড় জমে। রাত সোয়া ২টায় আখাউড়া থেকে একটি রিলিফ ট্রেন এসে উদ্ধার কাজ শুরু করে। রেলওয়ের পাশাপাশি বিজিবি, সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরাও উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন।