স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো বর্তমানে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। বিচারপতি নিয়োগ অধ্যাদেশ, বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় গঠন এবং অধস্তন আদালত নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিধিবিধানের অধ্যাদেশগুলো বাতিলের উদ্যোগ ও সংশোধনের সরকারি পদক্ষেপ এই অনিশ্চয়তাকেই নির্দেশ করছে। সরকারের এই ধরনের পদক্ষেপের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বিরোধী দল।
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন, এর ফলে উচ্চ আদালতের রায় এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কাঠামোগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে, বিচারপতি নিয়োগ অধ্যাদেশ এবং পৃথক সচিবালয় সংক্রান্ত বিধিবিধানগুলো নিয়ে সরকারের ভেতরে ও বাইরে অনীহা নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
গত বছরের ২০ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকার স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক স্বতন্ত্রীকরণ নিশ্চিত করতে প্রধান বিচারপতির উদ্যোগে সুপ্রিম কোর্ট থেকে পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় গঠনসংক্রান্ত প্রস্তাবের অংশ হিসেবে এটি করা হয়েছিল। গত বছরের ১১ ডিসেম্বর থেকে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় তার কার্যক্রম শুরু করে এবং পৃথক সচিবালয়ের জন্য একজন সচিব, ১৫ জন জুডিশিয়াল অফিসার এবং ১৯ জন স্টাফ নিয়োগ দেওয়া হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশের আলোকে সুপ্রিম কোর্ট পৃথক সচিবালয় কার্যক্রম শুরু করলেও, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনের পর থেকে এর কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। স্বাধীন বিচার বিভাগ নিয়ে যে আশা তৈরি হয়েছিল, তা মুখ থুবড়ে পড়েছে। সদ্য সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ জানিয়েছেন, স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং বিচারপতি নিয়োগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বিচারপতি নিয়োগ অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে এই উদ্যোগগুলো আরও এগিয়ে নেওয়া হবে এবং সরকারের সর্বশেষ আপডেট পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন।
রিপোর্টারের নাম 






















