ঢাকা ০৫:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

ন্যাটো জোট থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহারের হুমকি, ট্রাম্পের ইরান নীতিতে ফাটল

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৫১:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রভাব সামাল দিতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর দিকে তাঁর ক্ষোভের বড় অংশ ঘুরিয়ে দিচ্ছেন, যা জোটটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউরোপীয় মিত্ররা সমর্থন না দেওয়ায় এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলতে সামরিক সহায়তা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ট্রাম্প ক্ষুব্ধ। কিছু ক্ষেত্রে মার্কিন যুদ্ধবিমানকে ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতিও দেওয়া হয়নি।

ব্রিটিশ দৈনিক টেলিগ্রাফকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ন্যাটোকে ‘কাগুজে বাঘ’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন যে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে জোট থেকে প্রত্যাহারের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছেন। ট্রাম্পের এই মনোভাব নতুন নয়; এর আগেও তিনি ন্যাটোকে ‘অচল’ বলে অভিহিত করেছিলেন এবং সদস্য দেশগুলো প্রতিরক্ষা ব্যয় না বাড়ালে তাদের সুরক্ষা না দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন।

এবার পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে, কারণ শুধু ট্রাম্প নন—যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও সতর্ক করেছেন, ইউরোপীয় দেশগুলো যদি মার্কিন বাহিনীকে ঘাঁটি ব্যবহারে বাধা দেয়, তবে ওয়াশিংটনকে ন্যাটোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে। সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত আইভো ডালডার এই সংকটকে জোটের ভেতরের আস্থার ভিত্তি নাড়িয়ে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন এবং এটিকে ‘ন্যাটোর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সংকট’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ইউরোপীয় দেশগুলো এবার ট্রাম্পের চাপে নতি স্বীকার করতে অনিচ্ছুক, কারণ ইরানে হামলার আগে তাদের সঙ্গে কোনো পরামর্শ করা হয়নি। ফলে তারা এখন এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে চাইছে না। একজন ন্যাটো কূটনীতিক পরিস্থিতিকে ‘দিন দিন আরও গুরুতর’ বলে বর্ণনা করেছেন।

তবে সবাই হতাশ নন। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, ‘ন্যাটো বহু দশক ধরে আমাদের নিরাপত্তা দিয়েছে, আমরা এই জোটে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ ন্যাটো প্রধান মার্ক রুটেও মনে করেন, ট্রাম্পের চাপ ইউরোপীয় দেশগুলোকে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াতে বাধ্য করেছে, ফলে জোট আগের চেয়ে শক্তিশালী হয়েছে। আগামী জুলাই মাসে তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠেয় ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্পের সঙ্গে অন্যান্য ৩১ নেতার মুখোমুখি বৈঠক হতে চলেছে, যা এই সংকটের একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান যুদ্ধে মার্কিনদের সমর্থন হ্রাস: ট্রাম্পের জনপ্রিয়তাও তলানিতে

ন্যাটো জোট থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহারের হুমকি, ট্রাম্পের ইরান নীতিতে ফাটল

আপডেট সময় : ০১:৫১:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রভাব সামাল দিতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর দিকে তাঁর ক্ষোভের বড় অংশ ঘুরিয়ে দিচ্ছেন, যা জোটটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউরোপীয় মিত্ররা সমর্থন না দেওয়ায় এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলতে সামরিক সহায়তা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ট্রাম্প ক্ষুব্ধ। কিছু ক্ষেত্রে মার্কিন যুদ্ধবিমানকে ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতিও দেওয়া হয়নি।

ব্রিটিশ দৈনিক টেলিগ্রাফকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ন্যাটোকে ‘কাগুজে বাঘ’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন যে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে জোট থেকে প্রত্যাহারের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছেন। ট্রাম্পের এই মনোভাব নতুন নয়; এর আগেও তিনি ন্যাটোকে ‘অচল’ বলে অভিহিত করেছিলেন এবং সদস্য দেশগুলো প্রতিরক্ষা ব্যয় না বাড়ালে তাদের সুরক্ষা না দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন।

এবার পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে, কারণ শুধু ট্রাম্প নন—যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও সতর্ক করেছেন, ইউরোপীয় দেশগুলো যদি মার্কিন বাহিনীকে ঘাঁটি ব্যবহারে বাধা দেয়, তবে ওয়াশিংটনকে ন্যাটোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে। সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত আইভো ডালডার এই সংকটকে জোটের ভেতরের আস্থার ভিত্তি নাড়িয়ে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন এবং এটিকে ‘ন্যাটোর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সংকট’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ইউরোপীয় দেশগুলো এবার ট্রাম্পের চাপে নতি স্বীকার করতে অনিচ্ছুক, কারণ ইরানে হামলার আগে তাদের সঙ্গে কোনো পরামর্শ করা হয়নি। ফলে তারা এখন এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে চাইছে না। একজন ন্যাটো কূটনীতিক পরিস্থিতিকে ‘দিন দিন আরও গুরুতর’ বলে বর্ণনা করেছেন।

তবে সবাই হতাশ নন। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, ‘ন্যাটো বহু দশক ধরে আমাদের নিরাপত্তা দিয়েছে, আমরা এই জোটে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ ন্যাটো প্রধান মার্ক রুটেও মনে করেন, ট্রাম্পের চাপ ইউরোপীয় দেশগুলোকে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াতে বাধ্য করেছে, ফলে জোট আগের চেয়ে শক্তিশালী হয়েছে। আগামী জুলাই মাসে তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠেয় ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্পের সঙ্গে অন্যান্য ৩১ নেতার মুখোমুখি বৈঠক হতে চলেছে, যা এই সংকটের একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।