ঢাকা ০২:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এখনও অটুট: মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর অকপট স্বীকারোক্তি

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ স্বীকার করেছেন যে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের এক মাসব্যাপী হামলার পরও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে পাল্টা জবাব দেওয়ার সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা যায়নি। মঙ্গলবার পেন্টাগনে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, যুদ্ধ কখন শেষ হবে, সেই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপরই নির্ভর করছে।

হেগসেথ সাংবাদিকদের জানান, ইরান এখনও পাল্টা জবাব দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। তিনি বলেন, “তারা কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়বে; আমরা সেগুলো ভূপাতিত করব।” তবে একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।

প্রায় দুই সপ্তাহ পর এই প্রথমবারের মতো যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং দেয় মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর। এর আগে সর্বশেষ ১৯ মার্চ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছিল। হেগসেথ আরও জানান, তিনি সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের সঙ্গে দেখা করতে একটি অঘোষিত সফর করেছেন। সেখানে তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা সেনাদের মনোবল ও দ্রুত অভিযান শেষ করার তাগিদ প্রত্যক্ষ করেছেন বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন “জয়ের আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে কাছাকাছি” অবস্থানে রয়েছে। তবে বাস্তবতা হলো, চলমান এই সংঘাতের প্রভাব ইতিমধ্যেই বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। জ্বালানি বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সীমিত হলেও কার্যকর ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং কৌশলগত অবস্থান এই যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সামরিক অগ্রগতি সত্ত্বেও সংঘাতের দ্রুত সমাপ্তি অনিশ্চিত রয়ে গেছে। পরিস্থিতি বিশ্লেষণে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সামরিক শক্তির পাশাপাশি কূটনৈতিক সমাধান ছাড়া এই যুদ্ধের স্থায়ী অবসান সম্ভব নয়। আর সে সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত দায়িত্ব এখন হোয়াইট হাউসের নেতৃত্বের ওপরই নির্ভর করছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রামগড়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত কলাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়, ২০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এখনও অটুট: মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর অকপট স্বীকারোক্তি

আপডেট সময় : ০৮:৫৪:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ স্বীকার করেছেন যে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের এক মাসব্যাপী হামলার পরও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে পাল্টা জবাব দেওয়ার সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা যায়নি। মঙ্গলবার পেন্টাগনে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, যুদ্ধ কখন শেষ হবে, সেই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপরই নির্ভর করছে।

হেগসেথ সাংবাদিকদের জানান, ইরান এখনও পাল্টা জবাব দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। তিনি বলেন, “তারা কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়বে; আমরা সেগুলো ভূপাতিত করব।” তবে একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।

প্রায় দুই সপ্তাহ পর এই প্রথমবারের মতো যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং দেয় মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর। এর আগে সর্বশেষ ১৯ মার্চ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছিল। হেগসেথ আরও জানান, তিনি সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের সঙ্গে দেখা করতে একটি অঘোষিত সফর করেছেন। সেখানে তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা সেনাদের মনোবল ও দ্রুত অভিযান শেষ করার তাগিদ প্রত্যক্ষ করেছেন বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন “জয়ের আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে কাছাকাছি” অবস্থানে রয়েছে। তবে বাস্তবতা হলো, চলমান এই সংঘাতের প্রভাব ইতিমধ্যেই বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। জ্বালানি বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সীমিত হলেও কার্যকর ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং কৌশলগত অবস্থান এই যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সামরিক অগ্রগতি সত্ত্বেও সংঘাতের দ্রুত সমাপ্তি অনিশ্চিত রয়ে গেছে। পরিস্থিতি বিশ্লেষণে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সামরিক শক্তির পাশাপাশি কূটনৈতিক সমাধান ছাড়া এই যুদ্ধের স্থায়ী অবসান সম্ভব নয়। আর সে সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত দায়িত্ব এখন হোয়াইট হাউসের নেতৃত্বের ওপরই নির্ভর করছে।