খুলনার রূপসা উপজেলায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার দুটি তেলের পাম্পে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ না থাকায় সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালক, পাঠাও-উবার চালক, পরিবহন শ্রমিক এবং সাধারণ জনগণ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রূপসা উপজেলার মনির উদ্দীন ফুয়েল স্টেশনে প্রথম থেকেই তেলের সরবরাহ নেই। কাজী সোবহান পাম্পে তেল আসার আগেই শত শত মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার এবং অন্যান্য যানবাহন দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছে। অনেক চালক দুই থেকে তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর মাত্র ১০০ থেকে ২০০ টাকার তেল পাচ্ছেন। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে অল্প সংখ্যক যানবাহনে তেল সরবরাহের পরই পাম্পে তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অনেকেই তেল না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
ভুক্তভোগী চালকরা জানিয়েছেন, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও প্রয়োজন অনুযায়ী তেল পাচ্ছেন না। দীর্ঘ অপেক্ষার পরও অল্প তেল দিয়ে তাদের চাহিদা পূরণ হচ্ছে না, যা তাদের সময় নষ্ট করছে, কাজ ব্যাহত করছে এবং আর্থিক ক্ষতির কারণ হচ্ছে।
এ বিষয়ে কাজী সোবহান পাম্পের ম্যানেজার জানিয়েছেন, তারা কোম্পানি থেকে খুবই অল্প পরিমাণে তেল পাচ্ছেন এবং চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম। এই কারণে তারা সীমিত পরিমাণে তেল দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এই তেলের সংকটের পেছনে কোনো সিন্ডিকেট কাজ করছে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। এই সংকট কোথা থেকে এবং কীভাবে তৈরি হচ্ছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য কেউ দিতে পারছে না। অন্যদিকে, খুচরা দোকানে প্রতি লিটার তেল ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দোকানিরা প্রথমে দরকষাকষি করেন এবং পরে চাহিদামতো টাকা পেলে তেল সরবরাহ করেন।
এ বিষয়ে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দড়ি দিয়ে বেষ্টনী তৈরি করে এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে এবং সেনাবাহিনীর একটি দল উদ্ধার তৎপরতা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























