ঢাকা ০১:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

নেছারাবাদে ডিজেলের তীব্র সংকট: ৩০ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান চাষ ঝুঁকিতে

নেছারাবাদে ডিজেলের তীব্র সংকটের কারণে ইরি-বোরো ধান চাষ মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। ডিজেল না পাওয়ায় এবং সময়মতো সেচ দিতে না পারায় কৃষকরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। পানির অভাবে জমি ফেটে যাচ্ছে এবং সবুজ ধানের চারা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, কিছু ডিজেল মজুতদার বাজারে সরবরাহ কমিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। এই পরিস্থিতিতে উপজেলার হাজার হাজার কৃষক চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন, কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কোনো নজরদারি দেখা যাচ্ছে না। কৃষকরা দ্রুত ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং বাজার তদারকি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

উপজেলার প্রায় ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ কার্যক্রম ভেঙে পড়ায় পুরো মৌসুমের বোরো ধান উৎপাদন এখন চরম ঝুঁকির মুখে। কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলে ডিজেলচালিত পাম্পই সেচের একমাত্র ভরসা, কিন্তু জ্বালানির এই সংকট কৃষকদের অসহায় করে তুলেছে। স্থানীয় কৃষকদের কণ্ঠে হতাশা ও ক্ষোভের সুর শোনা যাচ্ছে। তারা বলছেন, ডিজেলের অভাবে পাম্প চালাতে না পারলে এবং জমিতে সময়মতো পানি দিতে না পারলে পুরো ফসল নষ্ট হয়ে যাবে, তাদের সব পরিশ্রম বৃথা যাবে।

দৈহারি ইউনিয়নের কৃষক মকবুল হোসেন জানান, ডিজেলের কারণে বোরো ও ইরি ধানের ফলনের যে অবস্থা, তাতে তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। স্থানীয় সুশীল সমাজ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছে, এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে জাতীয় পর্যায়েও খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে, কারণ দেশের খাদ্যচাহিদার একটি বড় অংশ ইরি-বোরো ধানের ওপর নির্ভরশীল।

কৃষকরা দ্রুত ডিজেল ও পেট্রোল সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অন্যথায়, এই অঞ্চলে ইরি-বোরো উৎপাদনে বড় ধরনের ধসের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান স্বীকার করেছেন যে, ইরি-বোরো ধান সম্পূর্ণ সেচনির্ভর ফসল এবং এই শেষ সময়ে জমিতে নিয়মিত পানি না থাকলে শীষ গঠন বাধাগ্রস্ত হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শরিফুলের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন: তপ্ত গরমে কিউইদের নাভিশ্বাস

নেছারাবাদে ডিজেলের তীব্র সংকট: ৩০ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান চাষ ঝুঁকিতে

আপডেট সময় : ০২:৫৭:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

নেছারাবাদে ডিজেলের তীব্র সংকটের কারণে ইরি-বোরো ধান চাষ মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। ডিজেল না পাওয়ায় এবং সময়মতো সেচ দিতে না পারায় কৃষকরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। পানির অভাবে জমি ফেটে যাচ্ছে এবং সবুজ ধানের চারা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, কিছু ডিজেল মজুতদার বাজারে সরবরাহ কমিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। এই পরিস্থিতিতে উপজেলার হাজার হাজার কৃষক চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন, কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কোনো নজরদারি দেখা যাচ্ছে না। কৃষকরা দ্রুত ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং বাজার তদারকি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

উপজেলার প্রায় ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ কার্যক্রম ভেঙে পড়ায় পুরো মৌসুমের বোরো ধান উৎপাদন এখন চরম ঝুঁকির মুখে। কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলে ডিজেলচালিত পাম্পই সেচের একমাত্র ভরসা, কিন্তু জ্বালানির এই সংকট কৃষকদের অসহায় করে তুলেছে। স্থানীয় কৃষকদের কণ্ঠে হতাশা ও ক্ষোভের সুর শোনা যাচ্ছে। তারা বলছেন, ডিজেলের অভাবে পাম্প চালাতে না পারলে এবং জমিতে সময়মতো পানি দিতে না পারলে পুরো ফসল নষ্ট হয়ে যাবে, তাদের সব পরিশ্রম বৃথা যাবে।

দৈহারি ইউনিয়নের কৃষক মকবুল হোসেন জানান, ডিজেলের কারণে বোরো ও ইরি ধানের ফলনের যে অবস্থা, তাতে তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। স্থানীয় সুশীল সমাজ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছে, এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে জাতীয় পর্যায়েও খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে, কারণ দেশের খাদ্যচাহিদার একটি বড় অংশ ইরি-বোরো ধানের ওপর নির্ভরশীল।

কৃষকরা দ্রুত ডিজেল ও পেট্রোল সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অন্যথায়, এই অঞ্চলে ইরি-বোরো উৎপাদনে বড় ধরনের ধসের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান স্বীকার করেছেন যে, ইরি-বোরো ধান সম্পূর্ণ সেচনির্ভর ফসল এবং এই শেষ সময়ে জমিতে নিয়মিত পানি না থাকলে শীষ গঠন বাধাগ্রস্ত হয়।