ঢাকা ০১:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

কারখানার বর্জ্যে নরসিংদীর নদীগুলো আজ বিষাক্ত, হুমকির মুখে জনজীবন ও পরিবেশ

শীতলক্ষ্যা ও মেঘনা নদীবেষ্টিত নরসিংদী জেলার শাখা নদীগুলো, যেমন ব্রহ্মপুত্র, আড়িয়াল খাঁ, হাঁড়িধোয়া, পাহাড়িয়া এবং পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, বর্তমানে কল-কারখানার বিষাক্ত কেমিক্যাল মিশ্রিত বর্জ্যে মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। এর ফলে এই নদ-নদীগুলো অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে এবং নদীর তীরবর্তী জনজীবন ও পরিবেশ-প্রতিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয় জনগণ ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো এসব নদ-নদীকে রক্ষার জন্য জোর দাবি জানিয়েছে।

এক সময় এসব নদী দিয়ে বড় বড় জাহাজ ও পালতোলা নৌকা চলত এবং ব্যবসায়ীরা বাণিজ্য করতে আসতেন। কিন্তু নদীর তীরে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় নদীর আয়তন সংকুচিত হয়ে আসে। বর্তমানে বছরের বেশিরভাগ সময়ই নদীতে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় নৌকাও চলাচল করতে পারে না। সম্প্রতি, ২৩২ কিলোমিটার নদী পুনঃখনন করা হলেও, দূষণের মাত্রা এতটাই বেশি যে নাব্যতা সংকট কাটছে না।

গত কয়েক বছর ধরে, নদী তীরবর্তী কল-কারখানা থেকে পাইপের সাহায্যে নদীতে ফেলা বিষাক্ত কেমিক্যাল মিশ্রিত পানি নদীগুলোকে আরও দূষিত করছে। এর ফলে বর্ষা মৌসুমেও পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়ায় মাছসহ জলজ প্রাণীরা বেঁচে থাকতে পারছে না। ‘রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টার’-এর গবেষণা অনুযায়ী, নরসিংদীর ৩৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের হাঁড়িধোয়া নদী সবচেয়ে দূষিত নদীর তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। এই নদীর পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ মাত্র ০.৬ এবং ক্ষারত্ব ৪.১, যা মানব স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

বিষাক্ত বর্জ্যের কারণে এই নদীগুলো এখন এলাকাবাসীর জন্য অভিশাপে পরিণত হয়েছে। এখানে আর মাছ পাওয়া যায় না, এমনকি পশুপাখির জন্যও এই পানি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। হাঁড়িধোয়ার পানিতে নামলেই খোস-পাঁচড়া, চর্ম রোগসহ নানা ধরনের মারাত্মক রোগ হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা একাধিকবার সতর্ক করেছেন যে, এসব নদীর দূষিত পানি জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বর্তমানে নরসিংদীর নদ-নদীর পানি এতটাই বিষাক্ত যে, তা মাছ ও জলজপ্রাণীর বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে এবং নদীর তীরবর্তী আগাছাও মরে যাচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শরিফুলের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন: তপ্ত গরমে কিউইদের নাভিশ্বাস

কারখানার বর্জ্যে নরসিংদীর নদীগুলো আজ বিষাক্ত, হুমকির মুখে জনজীবন ও পরিবেশ

আপডেট সময় : ০১:৫০:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

শীতলক্ষ্যা ও মেঘনা নদীবেষ্টিত নরসিংদী জেলার শাখা নদীগুলো, যেমন ব্রহ্মপুত্র, আড়িয়াল খাঁ, হাঁড়িধোয়া, পাহাড়িয়া এবং পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, বর্তমানে কল-কারখানার বিষাক্ত কেমিক্যাল মিশ্রিত বর্জ্যে মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। এর ফলে এই নদ-নদীগুলো অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে এবং নদীর তীরবর্তী জনজীবন ও পরিবেশ-প্রতিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয় জনগণ ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো এসব নদ-নদীকে রক্ষার জন্য জোর দাবি জানিয়েছে।

এক সময় এসব নদী দিয়ে বড় বড় জাহাজ ও পালতোলা নৌকা চলত এবং ব্যবসায়ীরা বাণিজ্য করতে আসতেন। কিন্তু নদীর তীরে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় নদীর আয়তন সংকুচিত হয়ে আসে। বর্তমানে বছরের বেশিরভাগ সময়ই নদীতে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় নৌকাও চলাচল করতে পারে না। সম্প্রতি, ২৩২ কিলোমিটার নদী পুনঃখনন করা হলেও, দূষণের মাত্রা এতটাই বেশি যে নাব্যতা সংকট কাটছে না।

গত কয়েক বছর ধরে, নদী তীরবর্তী কল-কারখানা থেকে পাইপের সাহায্যে নদীতে ফেলা বিষাক্ত কেমিক্যাল মিশ্রিত পানি নদীগুলোকে আরও দূষিত করছে। এর ফলে বর্ষা মৌসুমেও পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়ায় মাছসহ জলজ প্রাণীরা বেঁচে থাকতে পারছে না। ‘রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টার’-এর গবেষণা অনুযায়ী, নরসিংদীর ৩৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের হাঁড়িধোয়া নদী সবচেয়ে দূষিত নদীর তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। এই নদীর পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ মাত্র ০.৬ এবং ক্ষারত্ব ৪.১, যা মানব স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

বিষাক্ত বর্জ্যের কারণে এই নদীগুলো এখন এলাকাবাসীর জন্য অভিশাপে পরিণত হয়েছে। এখানে আর মাছ পাওয়া যায় না, এমনকি পশুপাখির জন্যও এই পানি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। হাঁড়িধোয়ার পানিতে নামলেই খোস-পাঁচড়া, চর্ম রোগসহ নানা ধরনের মারাত্মক রোগ হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা একাধিকবার সতর্ক করেছেন যে, এসব নদীর দূষিত পানি জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বর্তমানে নরসিংদীর নদ-নদীর পানি এতটাই বিষাক্ত যে, তা মাছ ও জলজপ্রাণীর বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে এবং নদীর তীরবর্তী আগাছাও মরে যাচ্ছে।