ঢাকা ০১:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

বীরগঞ্জে আত্রাই নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার কাশিপুর মৌজায় আত্রাই নদী থেকে একটি প্রভাবশালী চক্র কর্তৃক অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, মহামান্য হাইকোর্টে একটি রিট মামলা (নং ১৪৬৮৯/২০২৫) চলমান থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের জ্ঞাতসারে এই চক্রটি দিনরাত প্রকাশ্যে প্রস্তাবিত কাশিপুর বালুমহালে বালু উত্তোলনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

ঘটনাটি ব্যাপক আকার ধারণ করলে এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলে জানাজানি হলে, গত ২৯ মার্চ রবিবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমা খাতুন পুলিশ টিমসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে চাঁন মিয়ার জমিতে (বাগানে) স্তূপ করে রাখা অবৈধ বালু জব্দ করেন।

এ ঘটনায় বীরগঞ্জ থানায় সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী এবং মৃত তমিজ উদ্দিনের পুত্র আব্দুস সালাম বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা (নং ২১) দায়ের করেছেন। তবে, অভিযোগ রয়েছে যে এই মামলার মাধ্যমে মূল হোতাকে আইনের আওতার বাইরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এলাকাবাসীর মতে, উচ্চ আদালতে মামলা থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের চোখের সামনেই প্রতিদিন নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এটি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করছে, তীরবর্তী কৃষিজমি ও বসতবাড়ির জন্য হুমকি তৈরি করছে এবং সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় একাধিক সচেতন ব্যক্তি জানিয়েছেন, ‘আমরা বহুবার বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করে আসছি, কিন্তু কোনো স্থায়ী সমাধান পাইনি। মামলা হলেও প্রকৃত দায়ীসহ অভিযুক্তরা এখনো ধরা পড়েনি।’

জব্দকৃত আনুমানিক ১,৫০০ সিএফটি বালু স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শাহিনুর রহমান শাহীন চৌধুরীর জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। এতে এলাকাবাসী অসন্তোষ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, অবৈধ বালু উত্তোলনের মূল হোতা বিএনপি নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান শাহীন চৌধুরী নিজেই। তাদের অভিযোগ, জব্দকৃত বালু তাকে জিম্মা দিয়ে প্রকৃত ঘটনা আড়াল এবং ভিন্নখাতে প্রবাহিত করা হয়েছে। স্থানীয়দের বিশ্বাস, সঠিক তদন্ত হলেই মূল রহস্য বেরিয়ে আসবে এবং উত্তোলিত বালু চেয়ারম্যান তার ঠিকাদারি রাস্তার কাজে ব্যবহার ও বিক্রি করেছেন, অথচ মামলা হয়েছে নিরীহ মানুষের নামে। স্থানীয়রা এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলতে থাকলে নদীর নাব্য কমে যাওয়া, তীর ভাঙন বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এলাকাবাসী অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শরিফুলের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন: তপ্ত গরমে কিউইদের নাভিশ্বাস

বীরগঞ্জে আত্রাই নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট সময় : ১২:৪২:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার কাশিপুর মৌজায় আত্রাই নদী থেকে একটি প্রভাবশালী চক্র কর্তৃক অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, মহামান্য হাইকোর্টে একটি রিট মামলা (নং ১৪৬৮৯/২০২৫) চলমান থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের জ্ঞাতসারে এই চক্রটি দিনরাত প্রকাশ্যে প্রস্তাবিত কাশিপুর বালুমহালে বালু উত্তোলনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

ঘটনাটি ব্যাপক আকার ধারণ করলে এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলে জানাজানি হলে, গত ২৯ মার্চ রবিবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমা খাতুন পুলিশ টিমসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে চাঁন মিয়ার জমিতে (বাগানে) স্তূপ করে রাখা অবৈধ বালু জব্দ করেন।

এ ঘটনায় বীরগঞ্জ থানায় সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী এবং মৃত তমিজ উদ্দিনের পুত্র আব্দুস সালাম বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা (নং ২১) দায়ের করেছেন। তবে, অভিযোগ রয়েছে যে এই মামলার মাধ্যমে মূল হোতাকে আইনের আওতার বাইরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এলাকাবাসীর মতে, উচ্চ আদালতে মামলা থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের চোখের সামনেই প্রতিদিন নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এটি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করছে, তীরবর্তী কৃষিজমি ও বসতবাড়ির জন্য হুমকি তৈরি করছে এবং সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় একাধিক সচেতন ব্যক্তি জানিয়েছেন, ‘আমরা বহুবার বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করে আসছি, কিন্তু কোনো স্থায়ী সমাধান পাইনি। মামলা হলেও প্রকৃত দায়ীসহ অভিযুক্তরা এখনো ধরা পড়েনি।’

জব্দকৃত আনুমানিক ১,৫০০ সিএফটি বালু স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শাহিনুর রহমান শাহীন চৌধুরীর জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। এতে এলাকাবাসী অসন্তোষ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, অবৈধ বালু উত্তোলনের মূল হোতা বিএনপি নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান শাহীন চৌধুরী নিজেই। তাদের অভিযোগ, জব্দকৃত বালু তাকে জিম্মা দিয়ে প্রকৃত ঘটনা আড়াল এবং ভিন্নখাতে প্রবাহিত করা হয়েছে। স্থানীয়দের বিশ্বাস, সঠিক তদন্ত হলেই মূল রহস্য বেরিয়ে আসবে এবং উত্তোলিত বালু চেয়ারম্যান তার ঠিকাদারি রাস্তার কাজে ব্যবহার ও বিক্রি করেছেন, অথচ মামলা হয়েছে নিরীহ মানুষের নামে। স্থানীয়রা এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলতে থাকলে নদীর নাব্য কমে যাওয়া, তীর ভাঙন বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এলাকাবাসী অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।