ঢাকা ১০:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

মার্চের ২৮ দিনেই রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড, ৩.৩৩ বিলিয়ন ডলার পাঠালেন প্রবাসীরা

চলতি মার্চ মাসের প্রথম ২৮ দিনে দেশে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে। এই সময়ে ৩৩৩ কোটি ২০ লাখ ডলার বা ৩.৩৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে একক মাস হিসেবে সর্বোচ্চ। এর আগে গত বছরের মার্চে একক মাসে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ৬৩ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্য বাংলাদেশের প্রবাসী আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। বর্তমান অস্থিরতার মধ্যে সেখানকার বাংলাদেশিরা কিছুটা আতঙ্কিত থাকতে পারেন, যার ফলে অনেকে জমানো অর্থ দেশে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। এছাড়াও, রমজান ও ঈদ উপলক্ষে পরিবারের খরচ মেটাতে প্রবাসীরা সাধারণত এই সময়ে বেশি অর্থ পাঠান, যা রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। প্রবাসী আয় বৃদ্ধির ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও শক্তিশালী হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের ২৮ মার্চ পর্যন্ত আসা রেমিট্যান্স গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩.৮০ শতাংশ বেশি। গত বছরের এই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩২০ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এছাড়া, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৫৭৮ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮.১৮ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, অর্থ পাচার এবং অবৈধ চ্যানেলে অর্থ লেনদেন প্রতিরোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কঠোর অবস্থান নিয়েছে। হুন্ডি প্রবণতা কমে যাওয়ায় বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে। এই রেমিট্যান্স বৃদ্ধির উপর ভর করেই দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার দিন শেষে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪.৯৯ বিলিয়ন ডলার। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম–৬ পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ ২৯.২৯ বিলিয়ন ডলার।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ভয়াবহ বয়লার বিস্ফোরণ: নিহত বেড়ে ১১, আশঙ্কাজনক অনেকে

মার্চের ২৮ দিনেই রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড, ৩.৩৩ বিলিয়ন ডলার পাঠালেন প্রবাসীরা

আপডেট সময় : ০৮:৫১:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

চলতি মার্চ মাসের প্রথম ২৮ দিনে দেশে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে। এই সময়ে ৩৩৩ কোটি ২০ লাখ ডলার বা ৩.৩৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে একক মাস হিসেবে সর্বোচ্চ। এর আগে গত বছরের মার্চে একক মাসে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ৬৩ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্য বাংলাদেশের প্রবাসী আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। বর্তমান অস্থিরতার মধ্যে সেখানকার বাংলাদেশিরা কিছুটা আতঙ্কিত থাকতে পারেন, যার ফলে অনেকে জমানো অর্থ দেশে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। এছাড়াও, রমজান ও ঈদ উপলক্ষে পরিবারের খরচ মেটাতে প্রবাসীরা সাধারণত এই সময়ে বেশি অর্থ পাঠান, যা রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। প্রবাসী আয় বৃদ্ধির ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও শক্তিশালী হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের ২৮ মার্চ পর্যন্ত আসা রেমিট্যান্স গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩.৮০ শতাংশ বেশি। গত বছরের এই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩২০ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এছাড়া, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৫৭৮ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮.১৮ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, অর্থ পাচার এবং অবৈধ চ্যানেলে অর্থ লেনদেন প্রতিরোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কঠোর অবস্থান নিয়েছে। হুন্ডি প্রবণতা কমে যাওয়ায় বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে। এই রেমিট্যান্স বৃদ্ধির উপর ভর করেই দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার দিন শেষে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪.৯৯ বিলিয়ন ডলার। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম–৬ পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ ২৯.২৯ বিলিয়ন ডলার।