ঢাকা ১০:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

নতুন বিধিমালা সত্ত্বেও আইপিও বাজারে আশার আলো ক্ষীণ: দীর্ঘ খরা অব্যাহত

পুঁজিবাজারে নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে নতুন বিধিমালা কার্যকর হলেও, সহসা আইপিও (Initial Public Offering) খরা কাটছে না। প্রায় দুই বছর ধরে চলা এই পরিস্থিতি আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) অনুমোদন পাওয়ার পরও নতুন কোম্পানিগুলোর বাজারে তালিকাভুক্ত হতে আরও প্রায় এক বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে বলে বাজার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, আইপিও আবেদনের জন্য কোম্পানির প্রসপেক্টাসে দাখিল করা নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন ১২০ দিনের বেশি পুরনো হওয়া যাবে না। এছাড়াও, কেবল অর্ধবার্ষিক বা প্রান্তিক সময়ের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন দিয়ে আইপিও আবেদনের সুযোগ থাকছে না। আয়কর পরিপত্র ২০১৫ অনুসারে, ব্যাংক, বীমা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আর্থিক বছর সমাপ্তির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১ ডিসেম্বর, যা পূর্বে ৩০ জুন ছিল। অন্যান্য কোম্পানির জন্য এই তারিখ ৩০ জুনই বহাল রয়েছে। বিদেশি বহুজাতিক কোম্পানিগুলো তাদের নিজস্ব আর্থিক হিসাব বছর অনুসরণ করার সুযোগ পাবে।

এই হিসাব বছর সমাপ্তির সময়সীমা বিবেচনা করলে, ৩১ ডিসেম্বর হিসাব বছর সমাপ্ত হওয়া ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো চলতি বছরের এপ্রিল মাসের মধ্যে আইপিও আবেদনের সুযোগ পাবে। অন্যদিকে, মার্চে হিসাব বছর সমাপ্ত হওয়া বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য এই সুযোগ থাকবে জুলাই মাস পর্যন্ত। তবে, বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতিতে ব্যাংক, বীমা ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আইপিওতে আসার সম্ভাবনা খুবই কম। তালিকাভুক্তির জন্য মূল ব্যবসা থেকে মুনাফা থাকা এবং আবেদনের সময় কোনো সঞ্চিত লোকসান না থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও গ্রিনফিল্ড কোম্পানির জন্য এই শর্তে কিছু শিথিলতা থাকলেও, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে তাদেরও তালিকাভুক্তিতে আগ্রহ কম থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ভয়াবহ বয়লার বিস্ফোরণ: নিহত বেড়ে ১১, আশঙ্কাজনক অনেকে

নতুন বিধিমালা সত্ত্বেও আইপিও বাজারে আশার আলো ক্ষীণ: দীর্ঘ খরা অব্যাহত

আপডেট সময় : ১০:৪৪:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

পুঁজিবাজারে নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে নতুন বিধিমালা কার্যকর হলেও, সহসা আইপিও (Initial Public Offering) খরা কাটছে না। প্রায় দুই বছর ধরে চলা এই পরিস্থিতি আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) অনুমোদন পাওয়ার পরও নতুন কোম্পানিগুলোর বাজারে তালিকাভুক্ত হতে আরও প্রায় এক বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে বলে বাজার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, আইপিও আবেদনের জন্য কোম্পানির প্রসপেক্টাসে দাখিল করা নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন ১২০ দিনের বেশি পুরনো হওয়া যাবে না। এছাড়াও, কেবল অর্ধবার্ষিক বা প্রান্তিক সময়ের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন দিয়ে আইপিও আবেদনের সুযোগ থাকছে না। আয়কর পরিপত্র ২০১৫ অনুসারে, ব্যাংক, বীমা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আর্থিক বছর সমাপ্তির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১ ডিসেম্বর, যা পূর্বে ৩০ জুন ছিল। অন্যান্য কোম্পানির জন্য এই তারিখ ৩০ জুনই বহাল রয়েছে। বিদেশি বহুজাতিক কোম্পানিগুলো তাদের নিজস্ব আর্থিক হিসাব বছর অনুসরণ করার সুযোগ পাবে।

এই হিসাব বছর সমাপ্তির সময়সীমা বিবেচনা করলে, ৩১ ডিসেম্বর হিসাব বছর সমাপ্ত হওয়া ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো চলতি বছরের এপ্রিল মাসের মধ্যে আইপিও আবেদনের সুযোগ পাবে। অন্যদিকে, মার্চে হিসাব বছর সমাপ্ত হওয়া বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য এই সুযোগ থাকবে জুলাই মাস পর্যন্ত। তবে, বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতিতে ব্যাংক, বীমা ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আইপিওতে আসার সম্ভাবনা খুবই কম। তালিকাভুক্তির জন্য মূল ব্যবসা থেকে মুনাফা থাকা এবং আবেদনের সময় কোনো সঞ্চিত লোকসান না থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও গ্রিনফিল্ড কোম্পানির জন্য এই শর্তে কিছু শিথিলতা থাকলেও, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে তাদেরও তালিকাভুক্তিতে আগ্রহ কম থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।