ঢাকা ০৯:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

যুদ্ধ, মূল্যবৃদ্ধি ও নীতিবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ: ‘নো কিংস’ আন্দোলনে লাখো মানুষের প্রতিবাদ

আমেরিকার যুদ্ধংদেহী নীতি, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়ে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের ৩ হাজার ১০০টিরও বেশি শহরে ‘নো কিংস’ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বিক্ষোভে লাখ লাখ মানুষ অংশ নেন এবং তাদের প্রতিবাদের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও। আয়োজকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি, আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি এবং ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে তীব্র অসন্তোষ রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা থেকে ওয়াইমিং এবং এমনকি আর্কটিক সার্কেল পর্যন্ত রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট অধ্যুষিত রাজ্যের বড় শহর, শহরতলি এবং ছোট শহরগুলোতেও এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সাথে ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি এবং স্পেনের মতো ইউরোপীয় দেশগুলোতেও ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ লক্ষ্য করা গেছে। গত বছর অনুষ্ঠিত দুটি ‘নো কিংস’ বিক্ষোভেও লাখ লাখ মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে তাদের প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। এরপর থেকে ট্রাম্পের দেশব্যাপী অভিবাসন অভিযান এবং বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আমেরিকানরা আকাশছোঁয়া গ্যাসের দাম ও দুর্বল অর্থনীতির মুখোমুখি হয়েছেন, যা তাদের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিস, বোস্টন, ওয়াশিংটন ডিসি, নিউ ইয়র্ক সিটি, লস অ্যাঞ্জেলেস, আটলান্টা, শিকাগো, সিয়াটলসহ বিভিন্ন স্থানে ‘নো কিংস’ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত ‘নো কিংস’ বিক্ষোভে বিশাল জনসমাগম লক্ষ্য করা যায়। নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস বিক্ষোভে অংশ নিয়ে বলেছেন যে তিনি এবং দেশজুড়ে আজ ‘নো কিংস’ বিক্ষোভে অংশ নিতে প্রস্তুত হাজার হাজার মানুষ গণতন্ত্র রক্ষার জন্য লড়াই করছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আইনের শাসন, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং ক্ষমতা জনগণের হাতে—এ মৌলিক ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত একটি জাতি। এ মুহূর্তে সে নীতিগুলোই পরীক্ষিত হচ্ছে। আমরা লড়াই চালিয়ে যাব, কারণ আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নেই। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং যথাযথ বিচার প্রক্রিয়া আমাদের গণতন্ত্রের ভিত্তি।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন যে সংবিধান রক্ষা করাই তার দায়িত্ব এবং তিনি এই অবস্থান থেকে পিছু হটবেন না। আমেরিকাজুড়ে দিনব্যাপী বিক্ষোভের আগে স্পেনের মানুষও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে ঐতিহাসিক রাস্তায় নেমে আসেন।

২০২২ সালে প্রেসিডেন্ট ও ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের বিরুদ্ধে দেওয়ানি জালিয়াতির মামলার পর থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রোষানলে থাকা জেমস বলেন, ‘গণতন্ত্র একটি প্রকল্প’, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আমেরিকানরা রক্ষা করে আসছে। তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন যে সংবিধান রক্ষা করাই তার কাজ এবং তিনি এই দায়িত্ব পালনে অবিচল থাকবেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হজের মাসে ওমরাহ পালনের বিধান ও বিশেষ গুরুত্ব

যুদ্ধ, মূল্যবৃদ্ধি ও নীতিবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ: ‘নো কিংস’ আন্দোলনে লাখো মানুষের প্রতিবাদ

আপডেট সময় : ০২:৩৪:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

আমেরিকার যুদ্ধংদেহী নীতি, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়ে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের ৩ হাজার ১০০টিরও বেশি শহরে ‘নো কিংস’ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বিক্ষোভে লাখ লাখ মানুষ অংশ নেন এবং তাদের প্রতিবাদের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও। আয়োজকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি, আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি এবং ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে তীব্র অসন্তোষ রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা থেকে ওয়াইমিং এবং এমনকি আর্কটিক সার্কেল পর্যন্ত রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট অধ্যুষিত রাজ্যের বড় শহর, শহরতলি এবং ছোট শহরগুলোতেও এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সাথে ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি এবং স্পেনের মতো ইউরোপীয় দেশগুলোতেও ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ লক্ষ্য করা গেছে। গত বছর অনুষ্ঠিত দুটি ‘নো কিংস’ বিক্ষোভেও লাখ লাখ মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে তাদের প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। এরপর থেকে ট্রাম্পের দেশব্যাপী অভিবাসন অভিযান এবং বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আমেরিকানরা আকাশছোঁয়া গ্যাসের দাম ও দুর্বল অর্থনীতির মুখোমুখি হয়েছেন, যা তাদের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিস, বোস্টন, ওয়াশিংটন ডিসি, নিউ ইয়র্ক সিটি, লস অ্যাঞ্জেলেস, আটলান্টা, শিকাগো, সিয়াটলসহ বিভিন্ন স্থানে ‘নো কিংস’ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত ‘নো কিংস’ বিক্ষোভে বিশাল জনসমাগম লক্ষ্য করা যায়। নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস বিক্ষোভে অংশ নিয়ে বলেছেন যে তিনি এবং দেশজুড়ে আজ ‘নো কিংস’ বিক্ষোভে অংশ নিতে প্রস্তুত হাজার হাজার মানুষ গণতন্ত্র রক্ষার জন্য লড়াই করছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আইনের শাসন, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং ক্ষমতা জনগণের হাতে—এ মৌলিক ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত একটি জাতি। এ মুহূর্তে সে নীতিগুলোই পরীক্ষিত হচ্ছে। আমরা লড়াই চালিয়ে যাব, কারণ আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নেই। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং যথাযথ বিচার প্রক্রিয়া আমাদের গণতন্ত্রের ভিত্তি।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন যে সংবিধান রক্ষা করাই তার দায়িত্ব এবং তিনি এই অবস্থান থেকে পিছু হটবেন না। আমেরিকাজুড়ে দিনব্যাপী বিক্ষোভের আগে স্পেনের মানুষও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে ঐতিহাসিক রাস্তায় নেমে আসেন।

২০২২ সালে প্রেসিডেন্ট ও ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের বিরুদ্ধে দেওয়ানি জালিয়াতির মামলার পর থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রোষানলে থাকা জেমস বলেন, ‘গণতন্ত্র একটি প্রকল্প’, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আমেরিকানরা রক্ষা করে আসছে। তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন যে সংবিধান রক্ষা করাই তার কাজ এবং তিনি এই দায়িত্ব পালনে অবিচল থাকবেন।