ঢাকা ০৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীদের ভোগান্তি: রংপুর-ঢাকা রুটে দ্বিগুণ ভাড়া আদায়

ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফিরতে গিয়ে রংপুর থেকে ঢাকাগামী যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বাস সংকট এবং সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যের কারণে টিকিটের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও সিট মিলছে না, উল্টো আদায় করা হচ্ছে দ্বিগুণ ভাড়া।

শনিবার নগরীর কামারপাড়া বাসস্ট্যান্ডে সরেজমিনে দেখা যায়, শত শত যাত্রী ঢাকাগামী টিকিটের জন্য কাউন্টারের সামনে অপেক্ষা করছেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, কাউন্টারে টিকিট না থাকলেও দালালদের মাধ্যমে অতিরিক্ত দামে টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। যাত্রীরা জানিয়েছেন, সাধারণত ৮০০ টাকার ভাড়া এখন ১৬০০ থেকে ১৮০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই ভাড়া ২ হাজার টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। বাস ফাঁকা থাকলেও কাউন্টারে টিকিট না দিয়ে ‘আগেই বুকিং হয়ে গেছে’ বলে জানানো হচ্ছে।

যাত্রী হানিফ মন্ডল অভিযোগ করে বলেন, “কাউন্টার বলছে সিট নেই, কিন্তু বাইরে দালালরা দ্বিগুণ দামে টিকিট দিচ্ছে। এখানে স্পষ্ট সিন্ডিকেট কাজ করছে।” আরেক যাত্রী নাসিম উদ্দিন জানান, “সব কাউন্টার ঘুরেও টিকিট পাইনি। অথচ বাস দাঁড়িয়ে আছে। দালালদের কাছে গেলে ২ হাজার টাকা চাচ্ছে।” কামারপাড়া বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষারত বিপ্লব জানান, কিছু এসি বাসে সিট থাকলেও অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। একই ধরনের অভিযোগ করেন রহিম মিয়া, যিনি সিলেট যাওয়ার পরিকল্পনা বদলে ঢাকা হয়ে যেতে চাইলেও টিকিট পাচ্ছেন না।

অন্যদিকে, বাস কাউন্টার সংশ্লিষ্টরা ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। একটি পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার আতাউর রহমান জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে রুটে বাসের সংখ্যা কমে গেছে। আগে যেখানে ১৮টি বাস চলাচল করত, এখন সেখানে ১২টি চলছে। ফলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। বাস মালিকদের দাবি, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে কোনো অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না। তবে যাত্রীরা এ দাবিকে পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। উল্লেখ্য, শুক্রবার রাতে নগরীর মডার্ন মোড় এলাকায় অতিরিক্ত ভাড়ার প্রতিবাদে যাত্রীরা সড়ক অবরোধ করেন। এতে প্রায় ২-৩ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ২৯ ও ৩০ মার্চ পর্যন্ত টিকিটের চাহিদা বেশি থাকায় ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন যাত্রীরা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান ও লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্পের কড়া বার্তা: যা বললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট

ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীদের ভোগান্তি: রংপুর-ঢাকা রুটে দ্বিগুণ ভাড়া আদায়

আপডেট সময় : ১১:২৭:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফিরতে গিয়ে রংপুর থেকে ঢাকাগামী যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বাস সংকট এবং সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যের কারণে টিকিটের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও সিট মিলছে না, উল্টো আদায় করা হচ্ছে দ্বিগুণ ভাড়া।

শনিবার নগরীর কামারপাড়া বাসস্ট্যান্ডে সরেজমিনে দেখা যায়, শত শত যাত্রী ঢাকাগামী টিকিটের জন্য কাউন্টারের সামনে অপেক্ষা করছেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, কাউন্টারে টিকিট না থাকলেও দালালদের মাধ্যমে অতিরিক্ত দামে টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। যাত্রীরা জানিয়েছেন, সাধারণত ৮০০ টাকার ভাড়া এখন ১৬০০ থেকে ১৮০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই ভাড়া ২ হাজার টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। বাস ফাঁকা থাকলেও কাউন্টারে টিকিট না দিয়ে ‘আগেই বুকিং হয়ে গেছে’ বলে জানানো হচ্ছে।

যাত্রী হানিফ মন্ডল অভিযোগ করে বলেন, “কাউন্টার বলছে সিট নেই, কিন্তু বাইরে দালালরা দ্বিগুণ দামে টিকিট দিচ্ছে। এখানে স্পষ্ট সিন্ডিকেট কাজ করছে।” আরেক যাত্রী নাসিম উদ্দিন জানান, “সব কাউন্টার ঘুরেও টিকিট পাইনি। অথচ বাস দাঁড়িয়ে আছে। দালালদের কাছে গেলে ২ হাজার টাকা চাচ্ছে।” কামারপাড়া বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষারত বিপ্লব জানান, কিছু এসি বাসে সিট থাকলেও অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। একই ধরনের অভিযোগ করেন রহিম মিয়া, যিনি সিলেট যাওয়ার পরিকল্পনা বদলে ঢাকা হয়ে যেতে চাইলেও টিকিট পাচ্ছেন না।

অন্যদিকে, বাস কাউন্টার সংশ্লিষ্টরা ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। একটি পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার আতাউর রহমান জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে রুটে বাসের সংখ্যা কমে গেছে। আগে যেখানে ১৮টি বাস চলাচল করত, এখন সেখানে ১২টি চলছে। ফলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। বাস মালিকদের দাবি, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে কোনো অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না। তবে যাত্রীরা এ দাবিকে পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। উল্লেখ্য, শুক্রবার রাতে নগরীর মডার্ন মোড় এলাকায় অতিরিক্ত ভাড়ার প্রতিবাদে যাত্রীরা সড়ক অবরোধ করেন। এতে প্রায় ২-৩ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ২৯ ও ৩০ মার্চ পর্যন্ত টিকিটের চাহিদা বেশি থাকায় ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন যাত্রীরা।