ঢাকা ০৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

কাউনিয়ায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট: কৃষক-চালক উভয়ই হয়রানির শিকার

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এর ফলে কৃষক, সাধারণ মানুষ এবং যানবাহন চালকরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকে প্রয়োজনীয় তেল সংগ্রহ করতে পারছেন না।

উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এই সংকট পরিলক্ষিত হলেও কাউনিয়া রেলগেট সংলগ্ন মা সুফিয়া ফিলিং স্টেশনে ভিড় সবচেয়ে বেশি। এখানে তেলের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও অনেককে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। ফিলিং স্টেশনের মালিক শফিকুল ইসলাম শফিক জানিয়েছেন, সরবরাহ কম থাকায় চাহিদা অনুযায়ী তেল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, “আমরা নিজেরাই পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছি না। যতটুকু পাচ্ছি, তা দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে।” পরিস্থিতি সামাল দিতে শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্ত তেল সরবরাহ অব্যাহত রাখা হয়েছিল বলেও তিনি জানান।

এদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী উচ্চমূল্যে তেল বিক্রি করছেন। অভিযোগ রয়েছে, কোথাও কোথাও প্রতি লিটার পেট্রোল ও অকটেন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, পুরো উপজেলায় জ্বালানি সংকট তীব্র হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোনো নজরদারি দেখা যাচ্ছে না। এতে কালোবাজারি আরও বাড়ছে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা বলেন, “কেউ যদি তেল মজুদ বা অবৈধভাবে বিক্রি করার সঙ্গে জড়িত থাকে, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” অন্যদিকে সরকারি সূত্রে জানা গেছে, দেশে জ্বালানির কোনো সংকট নেই। তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার সঙ্গে এই বক্তব্যের অমিল থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন ও ক্ষোভ বাড়ছে। ভুক্তভোগীরা দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান ও লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্পের কড়া বার্তা: যা বললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট

কাউনিয়ায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট: কৃষক-চালক উভয়ই হয়রানির শিকার

আপডেট সময় : ১১:২৭:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এর ফলে কৃষক, সাধারণ মানুষ এবং যানবাহন চালকরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকে প্রয়োজনীয় তেল সংগ্রহ করতে পারছেন না।

উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এই সংকট পরিলক্ষিত হলেও কাউনিয়া রেলগেট সংলগ্ন মা সুফিয়া ফিলিং স্টেশনে ভিড় সবচেয়ে বেশি। এখানে তেলের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও অনেককে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। ফিলিং স্টেশনের মালিক শফিকুল ইসলাম শফিক জানিয়েছেন, সরবরাহ কম থাকায় চাহিদা অনুযায়ী তেল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, “আমরা নিজেরাই পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছি না। যতটুকু পাচ্ছি, তা দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে।” পরিস্থিতি সামাল দিতে শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্ত তেল সরবরাহ অব্যাহত রাখা হয়েছিল বলেও তিনি জানান।

এদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী উচ্চমূল্যে তেল বিক্রি করছেন। অভিযোগ রয়েছে, কোথাও কোথাও প্রতি লিটার পেট্রোল ও অকটেন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, পুরো উপজেলায় জ্বালানি সংকট তীব্র হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোনো নজরদারি দেখা যাচ্ছে না। এতে কালোবাজারি আরও বাড়ছে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা বলেন, “কেউ যদি তেল মজুদ বা অবৈধভাবে বিক্রি করার সঙ্গে জড়িত থাকে, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” অন্যদিকে সরকারি সূত্রে জানা গেছে, দেশে জ্বালানির কোনো সংকট নেই। তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার সঙ্গে এই বক্তব্যের অমিল থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন ও ক্ষোভ বাড়ছে। ভুক্তভোগীরা দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।