ঢাকা ০৯:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের শীর্ষ নেতা গুরুতর অসুস্থ, দাবি ট্রাম্পের; দেশটি নেতৃত্বশূন্য বলে মন্তব্য

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি হয়তো মৃত্যুবরণ করেছেন অথবা অত্যন্ত গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রয়েছেন। তিনি আরও মন্তব্য করেছেন যে, বর্তমানে ইরান নেতৃত্বশূন্য একটি দেশে পরিণত হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ফ্লোরিডার মিয়ামিতে আয়োজিত ‘ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ প্রায়োরিটি’ ফোরামের এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ট্রাম্প এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ ইরানের নেতৃত্ব ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। তাদের নেতারা সবাই মৃত। আয়াতুল্লাহ খামেনি আর ক্ষমতায় নেই, তিনি মারা গেছেন। তার ছেলেও হয় মারা গেছেন, নয়তো জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন।

ট্রাম্প আরও জানান, ইরানের নৌবাহিনী বলে কিছু অবশিষ্ট নেই, কারণ পুরো নৌবহর ডুবে গেছে। বিমানবাহিনীও সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে পড়েছে, যুদ্ধবিমানগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে এবং সামরিক যোগাযোগের ব্যবস্থাও ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা এখন তাদের অস্ত্রের মজুদ ধ্বংস করছি, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরির কারখানাগুলো গুঁড়িয়ে দিচ্ছি। এমনভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে যা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। তাদের প্রতিরক্ষা শিল্প বলে আর কিছুই থাকবে না।”

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রথম দিনই মোজতবা খামেনির বাবা এবং ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। সেই হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্ত্রী, কন্যা, নাতি এবং মোজতবা খামেনির স্ত্রীও প্রাণ হারান, এবং মোজতবা নিজেও আহত হন।

আহত মোজতবা খামেনিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচন করা হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোয় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি হামলায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন। তবে একাধিক ইরানি সূত্র জানিয়েছে, মোজতবা পায়ে আঘাত পেয়েছেন এবং তা প্রাণঘাতী নয়। যুদ্ধের দ্বাদশ দিনে, অর্থাৎ ১২ মার্চ, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আমন্ত্রণে তিনি একটি রুশ সামরিক বিমানে চড়ে মস্কো যান এবং বর্তমানে সেখানকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হজের মাসে ওমরাহ পালনের বিধান ও বিশেষ গুরুত্ব

ইরানের শীর্ষ নেতা গুরুতর অসুস্থ, দাবি ট্রাম্পের; দেশটি নেতৃত্বশূন্য বলে মন্তব্য

আপডেট সময় : ০৯:০৯:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি হয়তো মৃত্যুবরণ করেছেন অথবা অত্যন্ত গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রয়েছেন। তিনি আরও মন্তব্য করেছেন যে, বর্তমানে ইরান নেতৃত্বশূন্য একটি দেশে পরিণত হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ফ্লোরিডার মিয়ামিতে আয়োজিত ‘ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ প্রায়োরিটি’ ফোরামের এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ট্রাম্প এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ ইরানের নেতৃত্ব ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। তাদের নেতারা সবাই মৃত। আয়াতুল্লাহ খামেনি আর ক্ষমতায় নেই, তিনি মারা গেছেন। তার ছেলেও হয় মারা গেছেন, নয়তো জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন।

ট্রাম্প আরও জানান, ইরানের নৌবাহিনী বলে কিছু অবশিষ্ট নেই, কারণ পুরো নৌবহর ডুবে গেছে। বিমানবাহিনীও সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে পড়েছে, যুদ্ধবিমানগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে এবং সামরিক যোগাযোগের ব্যবস্থাও ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা এখন তাদের অস্ত্রের মজুদ ধ্বংস করছি, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরির কারখানাগুলো গুঁড়িয়ে দিচ্ছি। এমনভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে যা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। তাদের প্রতিরক্ষা শিল্প বলে আর কিছুই থাকবে না।”

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রথম দিনই মোজতবা খামেনির বাবা এবং ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। সেই হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্ত্রী, কন্যা, নাতি এবং মোজতবা খামেনির স্ত্রীও প্রাণ হারান, এবং মোজতবা নিজেও আহত হন।

আহত মোজতবা খামেনিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচন করা হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোয় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি হামলায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন। তবে একাধিক ইরানি সূত্র জানিয়েছে, মোজতবা পায়ে আঘাত পেয়েছেন এবং তা প্রাণঘাতী নয়। যুদ্ধের দ্বাদশ দিনে, অর্থাৎ ১২ মার্চ, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আমন্ত্রণে তিনি একটি রুশ সামরিক বিমানে চড়ে মস্কো যান এবং বর্তমানে সেখানকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।