ঢাকা ১১:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

হবিগঞ্জে একই স্থানে দুই মাহফিলের প্রস্তুতি, ১৪৪ ধারা জারি: ভুয়া পোস্টার ঘিরে উত্তেজনা

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শিমুলঘর এলাকায় একই স্থানে দুটি ওয়াজ মাহফিলের প্রস্তুতিকে কেন্দ্র করে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। এতে মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরীর মাহফিল ঘিরে তৈরি হয়েছে উত্তেজনা।

জানা যায়, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে গত ২৮ মার্চ একটি মাহফিল আয়োজনের সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন ছিল। কিন্তু আয়োজকদের দাবি, প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পর থেকেই প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে মাহফিল বন্ধের তৎপরতা শুরু হয়। পরবর্তীতে শুক্রবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাসেম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, একই স্থানে ‘নূরে মদিনা গাউছিয়া যুব সংগঠন’ নামে একটি ব্যানারে আরেকটি ওয়াজ মাহফিলের ভুয়া পোস্টার ছড়িয়ে পড়ে। এই পোস্টারে উল্লেখিত সভাপতি ও বক্তাদের কেউই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি স্বার্থান্বেষী মহল ভুয়া পোস্টার তৈরি করে এলাকায় পাল্টাপাল্টি মাহফিলের পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে এবং প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করেছে।

ভুয়া পোস্টারে সভাপতি হিসেবে দেখানো স্থানীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা রোকন উদ্দিন সালেহী বলেন, ‘আমার নাম ব্যবহার করে যে পোস্টার তৈরি করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভুয়া। আমি এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেব।’

তিনি আরও জানান, প্রকৃত মাহফিলটি আয়োজন করছেন মুফতি মুজাম্মেল হকের নেতৃত্বাধীন কমিটি। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে থাকছেন মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী, প্রধান অতিথি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম এবং সভাপতিত্ব করার কথা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মিনহাজ উদ্দিন চৌধুরীর।

মাহফিল পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে মুফতি মুজাম্মেল হক মাসুমী অভিযোগ করেন, ‘একটি চক্র প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করে আমাদের মাহফিল বন্ধ করার চেষ্টা করছে। আমরা জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। প্রয়োজনে আমরা আইনগত ব্যবস্থায় যাব।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য কামাল মিয়া বলেন, ‘তাহেরী হুজুরের মাহফিলকে বাধাগ্রস্ত করতেই একটি চক্র এ কাজ করেছে। আমরা প্রশাসনকে বলেছি ১৪৪ ধারার প্রয়োজন ছিল না। তারপরও এটি জারি করা হয়েছে। আমরা চাই মাহফিলটি অনুষ্ঠিত হোক।’

এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। ভুয়া পোস্টারের প্রধান অতিথি মাওলানা ড. খাজা মাহবুবুর রহমান এই পোস্টারের কথা শুনে রীতিমতো আশ্চর্য হয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে ছাত্রলীগ-যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল

হবিগঞ্জে একই স্থানে দুই মাহফিলের প্রস্তুতি, ১৪৪ ধারা জারি: ভুয়া পোস্টার ঘিরে উত্তেজনা

আপডেট সময় : ০৫:২৫:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শিমুলঘর এলাকায় একই স্থানে দুটি ওয়াজ মাহফিলের প্রস্তুতিকে কেন্দ্র করে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। এতে মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরীর মাহফিল ঘিরে তৈরি হয়েছে উত্তেজনা।

জানা যায়, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে গত ২৮ মার্চ একটি মাহফিল আয়োজনের সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন ছিল। কিন্তু আয়োজকদের দাবি, প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পর থেকেই প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে মাহফিল বন্ধের তৎপরতা শুরু হয়। পরবর্তীতে শুক্রবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাসেম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, একই স্থানে ‘নূরে মদিনা গাউছিয়া যুব সংগঠন’ নামে একটি ব্যানারে আরেকটি ওয়াজ মাহফিলের ভুয়া পোস্টার ছড়িয়ে পড়ে। এই পোস্টারে উল্লেখিত সভাপতি ও বক্তাদের কেউই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি স্বার্থান্বেষী মহল ভুয়া পোস্টার তৈরি করে এলাকায় পাল্টাপাল্টি মাহফিলের পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে এবং প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করেছে।

ভুয়া পোস্টারে সভাপতি হিসেবে দেখানো স্থানীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা রোকন উদ্দিন সালেহী বলেন, ‘আমার নাম ব্যবহার করে যে পোস্টার তৈরি করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভুয়া। আমি এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেব।’

তিনি আরও জানান, প্রকৃত মাহফিলটি আয়োজন করছেন মুফতি মুজাম্মেল হকের নেতৃত্বাধীন কমিটি। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে থাকছেন মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী, প্রধান অতিথি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম এবং সভাপতিত্ব করার কথা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মিনহাজ উদ্দিন চৌধুরীর।

মাহফিল পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে মুফতি মুজাম্মেল হক মাসুমী অভিযোগ করেন, ‘একটি চক্র প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করে আমাদের মাহফিল বন্ধ করার চেষ্টা করছে। আমরা জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। প্রয়োজনে আমরা আইনগত ব্যবস্থায় যাব।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য কামাল মিয়া বলেন, ‘তাহেরী হুজুরের মাহফিলকে বাধাগ্রস্ত করতেই একটি চক্র এ কাজ করেছে। আমরা প্রশাসনকে বলেছি ১৪৪ ধারার প্রয়োজন ছিল না। তারপরও এটি জারি করা হয়েছে। আমরা চাই মাহফিলটি অনুষ্ঠিত হোক।’

এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। ভুয়া পোস্টারের প্রধান অতিথি মাওলানা ড. খাজা মাহবুবুর রহমান এই পোস্টারের কথা শুনে রীতিমতো আশ্চর্য হয়েছেন।