ঢাকা ০৩:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

ধ্বংসলীলার মাঝেও ইসরাইল-আমেরিকার বিরুদ্ধে লড়ছে ইরান

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা চালায়। একই দিনে তেহরানও ইসরাইল এবং মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা শুরু করে। যুদ্ধের প্রথম দিন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হলেও দেশটির শাসনব্যবস্থায় কোনো পরিবর্তন আসেনি। বরং, সমালোচকরাও শত্রুদের হাত থেকে দেশ রক্ষায় সরকারকে সহযোগিতা করছে, ফলে ইরান প্রাথমিক লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। এক মাস পেরিয়ে গেলেও ইরান সমানতালে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান তার সামরিক সক্ষমতার প্রমাণ দিয়ে আসছে। ইসরাইলে হামলার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে একের পর এক হামলা চালিয়েছে, যা এ অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটির সক্ষমতা হ্রাস করেছে। এছাড়াও, যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদিন প্রায় এক বিলিয়ন ডলার ব্যয় হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ থেকে সরে আসার চেষ্টা করছেন এবং বারবার বলছেন যে ইরান চুক্তি করে যুদ্ধ থেকে বাঁচতে চায়। তবে ইরান এই বক্তব্য অস্বীকার করে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

এ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই ইরান ও লেবাননের নাগরিক। ইরানে নিহত হয়েছেন অন্তত এক হাজার ৯৩৭ জন এবং আহত হয়েছেন প্রায় ২৫ হাজার। লেবাননে ইসরাইলি হামলায় নিহত হয়েছেন এক হাজার ১১৬ জন এবং আহত হয়েছেন প্রায় ৩২০০ এর বেশি মানুষ। ইসরাইলে ১৯ জন নিহত এবং প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, মার্কিন ১৩ সেনা নিহত এবং ২০০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়াও, ইরাকে ৯৬ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১১ জন, ওমানে তিনজন, সৌদি আরবে দুজন, ফিলিস্তিনে চারজন, সিরিয়ায় চারজন এবং কুয়েতে ছয়জন নিহত হয়েছেন। কাতার ও জর্ডানসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে কয়েকশ মানুষ আহত হয়েছেন। কৌশলগতভাবে, মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখার মাধ্যমে ইরান বর্তমানে এগিয়ে রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীর ছয় থানা এলাকায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৬০ জন গ্রেপ্তার

ধ্বংসলীলার মাঝেও ইসরাইল-আমেরিকার বিরুদ্ধে লড়ছে ইরান

আপডেট সময় : ১০:৩১:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা চালায়। একই দিনে তেহরানও ইসরাইল এবং মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা শুরু করে। যুদ্ধের প্রথম দিন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হলেও দেশটির শাসনব্যবস্থায় কোনো পরিবর্তন আসেনি। বরং, সমালোচকরাও শত্রুদের হাত থেকে দেশ রক্ষায় সরকারকে সহযোগিতা করছে, ফলে ইরান প্রাথমিক লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। এক মাস পেরিয়ে গেলেও ইরান সমানতালে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান তার সামরিক সক্ষমতার প্রমাণ দিয়ে আসছে। ইসরাইলে হামলার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে একের পর এক হামলা চালিয়েছে, যা এ অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটির সক্ষমতা হ্রাস করেছে। এছাড়াও, যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদিন প্রায় এক বিলিয়ন ডলার ব্যয় হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ থেকে সরে আসার চেষ্টা করছেন এবং বারবার বলছেন যে ইরান চুক্তি করে যুদ্ধ থেকে বাঁচতে চায়। তবে ইরান এই বক্তব্য অস্বীকার করে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

এ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই ইরান ও লেবাননের নাগরিক। ইরানে নিহত হয়েছেন অন্তত এক হাজার ৯৩৭ জন এবং আহত হয়েছেন প্রায় ২৫ হাজার। লেবাননে ইসরাইলি হামলায় নিহত হয়েছেন এক হাজার ১১৬ জন এবং আহত হয়েছেন প্রায় ৩২০০ এর বেশি মানুষ। ইসরাইলে ১৯ জন নিহত এবং প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, মার্কিন ১৩ সেনা নিহত এবং ২০০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়াও, ইরাকে ৯৬ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১১ জন, ওমানে তিনজন, সৌদি আরবে দুজন, ফিলিস্তিনে চারজন, সিরিয়ায় চারজন এবং কুয়েতে ছয়জন নিহত হয়েছেন। কাতার ও জর্ডানসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে কয়েকশ মানুষ আহত হয়েছেন। কৌশলগতভাবে, মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখার মাধ্যমে ইরান বর্তমানে এগিয়ে রয়েছে।