ঢাকা ০৪:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ ও প্রবীণদের মধ্যে বিভাজন

ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল রাজনৈতিক মহলে একটি সুস্পষ্ট প্রজন্মগত বিভাজন দেখা দিয়েছে। টেক্সাসের ডালাসের বাইরে অনুষ্ঠিত কনজারভেটিভ পলিটিক্যাল অ্যাকশন কনফারেন্স (সিএপিসি)-এ তরুণ ও প্রবীণ অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে এই মতপার্থক্য বিশেষভাবে পরিলক্ষিত হয়েছে।

তরুণ রক্ষণশীলদের অনেকেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানে সামরিক হামলার সিদ্ধান্তের প্রতি গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন এবং এটিকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, ট্রাম্প বিদেশে সামরিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বর্তমান পদক্ষেপ তার পরিপন্থী। অস্টিনের ২৫ বছর বয়সী বেনজামিন উইলিয়ামস বলেন, ‘আমরা নতুন করে কোনো যুদ্ধ চাইনি, বরং আমরা প্রকৃত ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি চেয়েছিলাম। এটা নিশ্চিতভাবেই বিশ্বাসঘাতকতার মতো মনে হচ্ছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমার প্রজন্মের মানুষের জন্য ট্রাম্পের বক্তব্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’

অনেক তরুণ সমর্থকই ইরানে মার্কিন সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনা নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। অবার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সিন ও’ব্রায়েন বলেন, ‘সেনা পাঠানো হলে সেটা হবে পুরোপুরি বিশ্বাসঘাতকতা, এতে আমি খুশি নই।’ তিনি আরও জানান যে ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের অন্তত এক হাজার মার্কিন সৈন্য মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনের প্রস্তুতি চলছে, যা তাকে ‘রাতে ঘুমাতে দেয় না’।

অন্যদিকে, প্রবীণ রক্ষণশীলদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছেন। তাদের মতে, ইরানের হুমকির মুখে এটি একটি বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ ছিল এবং তারা ট্রাম্পকে ‘বিচক্ষণ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ৭০ বছর বয়সী সাবেক প্রতিরক্ষা ঠিকাদার জো রোপার বলেন, ‘আমি মনে করি না তিনি নতুন যুদ্ধ শুরু করেছেন। এটি ছিল ইরানের দীর্ঘদিনের কার্যক্রমের জবাব।’ ৬১ বছর বয়সী কেলি ফিলিপস একই সুরে বলেন, ‘নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি এক জিনিস, কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন। ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রকে ধ্বংস করতে চায়, তখন বসে থাকা যায় না। ‘

তবে এই বিভাজন কেবল সাধারণ অংশগ্রহণকারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, প্রভাবশালী রক্ষণশীল ব্যক্তিত্বদের মধ্যেও তা দেখা গেছে। বিশ্লেষক ও উপস্থাপক টাকার কার্লসনের মতো ব্যক্তিরা শুরু থেকেই যুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন। এছাড়া, হোমল্যান্ড সিকিউরিটির সেন্টার ফর কাউন্টারটেররিজমের পরিচালক জো কেন্ট পদত্যাগ করে বলেছেন যে নৈতিকভাবে তিনি এই যুদ্ধকে সমর্থন করতে পারছেন না এবং তার মতে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো আসন্ন হুমকি ছিল না।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীর ছয় থানা এলাকায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৬০ জন গ্রেপ্তার

ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ ও প্রবীণদের মধ্যে বিভাজন

আপডেট সময় : ০৩:১৩:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল রাজনৈতিক মহলে একটি সুস্পষ্ট প্রজন্মগত বিভাজন দেখা দিয়েছে। টেক্সাসের ডালাসের বাইরে অনুষ্ঠিত কনজারভেটিভ পলিটিক্যাল অ্যাকশন কনফারেন্স (সিএপিসি)-এ তরুণ ও প্রবীণ অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে এই মতপার্থক্য বিশেষভাবে পরিলক্ষিত হয়েছে।

তরুণ রক্ষণশীলদের অনেকেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানে সামরিক হামলার সিদ্ধান্তের প্রতি গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন এবং এটিকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, ট্রাম্প বিদেশে সামরিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বর্তমান পদক্ষেপ তার পরিপন্থী। অস্টিনের ২৫ বছর বয়সী বেনজামিন উইলিয়ামস বলেন, ‘আমরা নতুন করে কোনো যুদ্ধ চাইনি, বরং আমরা প্রকৃত ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি চেয়েছিলাম। এটা নিশ্চিতভাবেই বিশ্বাসঘাতকতার মতো মনে হচ্ছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমার প্রজন্মের মানুষের জন্য ট্রাম্পের বক্তব্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’

অনেক তরুণ সমর্থকই ইরানে মার্কিন সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনা নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। অবার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সিন ও’ব্রায়েন বলেন, ‘সেনা পাঠানো হলে সেটা হবে পুরোপুরি বিশ্বাসঘাতকতা, এতে আমি খুশি নই।’ তিনি আরও জানান যে ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের অন্তত এক হাজার মার্কিন সৈন্য মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনের প্রস্তুতি চলছে, যা তাকে ‘রাতে ঘুমাতে দেয় না’।

অন্যদিকে, প্রবীণ রক্ষণশীলদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছেন। তাদের মতে, ইরানের হুমকির মুখে এটি একটি বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ ছিল এবং তারা ট্রাম্পকে ‘বিচক্ষণ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ৭০ বছর বয়সী সাবেক প্রতিরক্ষা ঠিকাদার জো রোপার বলেন, ‘আমি মনে করি না তিনি নতুন যুদ্ধ শুরু করেছেন। এটি ছিল ইরানের দীর্ঘদিনের কার্যক্রমের জবাব।’ ৬১ বছর বয়সী কেলি ফিলিপস একই সুরে বলেন, ‘নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি এক জিনিস, কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন। ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রকে ধ্বংস করতে চায়, তখন বসে থাকা যায় না। ‘

তবে এই বিভাজন কেবল সাধারণ অংশগ্রহণকারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, প্রভাবশালী রক্ষণশীল ব্যক্তিত্বদের মধ্যেও তা দেখা গেছে। বিশ্লেষক ও উপস্থাপক টাকার কার্লসনের মতো ব্যক্তিরা শুরু থেকেই যুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন। এছাড়া, হোমল্যান্ড সিকিউরিটির সেন্টার ফর কাউন্টারটেররিজমের পরিচালক জো কেন্ট পদত্যাগ করে বলেছেন যে নৈতিকভাবে তিনি এই যুদ্ধকে সমর্থন করতে পারছেন না এবং তার মতে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো আসন্ন হুমকি ছিল না।