ঢাকা ০৪:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

ইরান-আমেরিকা সংঘাত নিরসনে পাকিস্তানের উদ্যোগ, ভারতের কপালে চিন্তার ভাঁজ

প্রায় এক মাস ধরে চলমান ইরান-আমেরিকা সংঘাত অবসানে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে এগিয়ে এসেছে পাকিস্তান। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ইসলামাবাদ আমেরিকার পক্ষ থেকে দেওয়া শান্তি প্রতিষ্ঠার ১৫ দফা প্রস্তাব তেহরানের কাছে পৌঁছে দিয়েছে এবং একই সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য একটি প্রস্তাবও পেশ করেছে।

এই ঘটনা ভারতের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে পাকিস্তান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে, অন্যদিকে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বিদ্যমান টানাপোড়েন নয়া দিল্লিকে সতর্ক অবস্থানে রেখেছে। এই কূটনৈতিক তৎপরতার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজ দেশে বিরোধী দলগুলোর সমালোচনার মুখে পড়েছেন।

লন্ডনভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক পত্রিকা জানিয়েছে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির গত রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন এবং ইরান-আমেরিকা আলোচনার জন্য ইসলামাবাদকে একটি সম্ভাব্য স্থান হিসেবে প্রস্তাব করেছেন। একই সময়ে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানির সঙ্গেও শান্তি আলোচনার বিষয়ে আলোকপাত করেছেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই আলোচনাগুলো আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে পারে, যেখানে মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং ইরানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।

বিশ্ব কূটনীতিতে পাকিস্তানের এই ক্রমবর্ধমান ভূমিকার প্রেক্ষাপটে, ভারতের অন্যতম প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিদেশনীতিকে ‘হাস্যকর’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের বিদেশনীতি এখন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত বিদেশনীতিতে পরিণত হয়েছে, যার ফল আমরা দেখতে পাচ্ছি। এটি বিশ্ব দরবারে ভারতের ভাবমূর্তিকে এক রসিকতায় পরিণত করেছে।’

পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক উদ্যোগের খবর প্রকাশিত হওয়ার দিনই নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ঘোষণা করেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং প্রধানমন্ত্রী মোদির মধ্যে একটি ফোনালাপ হয়েছে, যদিও সেই আলাপের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

পরবর্তীতে, প্রধানমন্ত্রী মোদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান যে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য উভয় নেতা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে সম্মত হয়েছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ইরানের উপকূলের নিকটবর্তী গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা অত্যন্ত জরুরি। এই প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে ভারতসহ এশিয়ার অধিকাংশ দেশের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নয়াদিল্লির শিব নাদার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হ্যাপিমন জ্যাকব মনে করেন, সাধারণত জাতিসংঘ বা কাতারের মতো দেশগুলো এই ধরনের কূটনৈতিক মধ্যস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীর ছয় থানা এলাকায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৬০ জন গ্রেপ্তার

ইরান-আমেরিকা সংঘাত নিরসনে পাকিস্তানের উদ্যোগ, ভারতের কপালে চিন্তার ভাঁজ

আপডেট সময় : ০২:১১:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

প্রায় এক মাস ধরে চলমান ইরান-আমেরিকা সংঘাত অবসানে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে এগিয়ে এসেছে পাকিস্তান। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ইসলামাবাদ আমেরিকার পক্ষ থেকে দেওয়া শান্তি প্রতিষ্ঠার ১৫ দফা প্রস্তাব তেহরানের কাছে পৌঁছে দিয়েছে এবং একই সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য একটি প্রস্তাবও পেশ করেছে।

এই ঘটনা ভারতের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে পাকিস্তান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে, অন্যদিকে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বিদ্যমান টানাপোড়েন নয়া দিল্লিকে সতর্ক অবস্থানে রেখেছে। এই কূটনৈতিক তৎপরতার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজ দেশে বিরোধী দলগুলোর সমালোচনার মুখে পড়েছেন।

লন্ডনভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক পত্রিকা জানিয়েছে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির গত রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন এবং ইরান-আমেরিকা আলোচনার জন্য ইসলামাবাদকে একটি সম্ভাব্য স্থান হিসেবে প্রস্তাব করেছেন। একই সময়ে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানির সঙ্গেও শান্তি আলোচনার বিষয়ে আলোকপাত করেছেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই আলোচনাগুলো আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে পারে, যেখানে মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং ইরানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।

বিশ্ব কূটনীতিতে পাকিস্তানের এই ক্রমবর্ধমান ভূমিকার প্রেক্ষাপটে, ভারতের অন্যতম প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিদেশনীতিকে ‘হাস্যকর’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের বিদেশনীতি এখন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত বিদেশনীতিতে পরিণত হয়েছে, যার ফল আমরা দেখতে পাচ্ছি। এটি বিশ্ব দরবারে ভারতের ভাবমূর্তিকে এক রসিকতায় পরিণত করেছে।’

পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক উদ্যোগের খবর প্রকাশিত হওয়ার দিনই নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ঘোষণা করেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং প্রধানমন্ত্রী মোদির মধ্যে একটি ফোনালাপ হয়েছে, যদিও সেই আলাপের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

পরবর্তীতে, প্রধানমন্ত্রী মোদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান যে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য উভয় নেতা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে সম্মত হয়েছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ইরানের উপকূলের নিকটবর্তী গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা অত্যন্ত জরুরি। এই প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে ভারতসহ এশিয়ার অধিকাংশ দেশের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নয়াদিল্লির শিব নাদার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হ্যাপিমন জ্যাকব মনে করেন, সাধারণত জাতিসংঘ বা কাতারের মতো দেশগুলো এই ধরনের কূটনৈতিক মধ্যস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।