দেশের জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে সরকার জ্বালানি তেলে প্রতিদিন প্রায় ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি প্রদান করছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। শুক্রবার দুপুরে যশোর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সভাকক্ষে সমাজসেবা অধিদপ্তর আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, বৈশ্বিক অস্থিরতা সত্ত্বেও সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা করেনি। তেলের দাম বৃদ্ধি পেলে বিদ্যুৎ, গণপরিবহন এবং খাদ্যপণ্যের খরচ বেড়ে যায়, যা সাধারণ মানুষের উপর বিরাট চাপ সৃষ্টি করে। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে সরকার জনগণের স্বার্থে তেলের মূল্য স্থিতিশীল রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। তিনি আরও বলেন, জনগণের ভোগান্তি কমাতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। বিশ্বের বহু দেশ জ্বালানির দাম বাড়ালেও বাংলাদেশে তা বাড়ানো হয়নি এবং সরবরাহ ব্যবস্থাও স্বাভাবিক রাখা হয়েছে।
জ্বালানি সরবরাহ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, দেশে জ্বালানির চাহিদা পূরণে সরকার সক্ষম হয়েছে এবং আগামী এপ্রিল মাস পর্যন্ত পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি জানান, পবিত্র ঈদকে সামনে রেখে জ্বালানির চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যেখানে পূর্বে প্রতিদিন গড়ে ১২ হাজার টন ডিজেলের চাহিদা ছিল, সেখানে বর্তমানে ২৪ থেকে ২৫ হাজার মেট্রিক টন পর্যন্ত সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, ৯০ দিনের জ্বালানি মজুদ নিশ্চিত করার কাজও শুরু হয়েছে।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কল্যাণে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে এবং প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে ভাতা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপকারভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার রাজনৈতিক বা ধর্মীয় পরিচয় যেন প্রাধান্য না পায়, সে বিষয়ে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম চালু হয়েছে এবং পহেলা বৈশাখে কৃষক কার্ড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানের শেষে ১৫৩ জন দুঃস্থ ও অসহায় ব্যক্তির মাঝে এককালীন আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার এবং প্রেসক্লাব সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন সহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
রিপোর্টারের নাম 























