ঢাকা ০৬:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে ১০ হাজার সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত ১০ হাজার সেনা পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে। এই বিশাল সংখ্যক সেনা মূলত ইরানে দেশটির বিভিন্ন আগ্রাসী কার্যকলাপের প্রতিক্রিয়ায় মোতায়েন করা হবে বলে জানা গেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল শুক্রবার তাদের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দেশটির এক কর্মকর্তার বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে যাতে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক পদক্ষেপের আরও বিকল্প থাকে, সে লক্ষ্যেই এই অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পেন্টাগনের এই অনুমোদন পেলে অঞ্চলটিতে নতুন সেনা সদস্যদের পাশাপাশি আরও বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও সাজোয়া যান প্রবেশ করবে। এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হওয়া ৫ হাজার মেরিন সেনা ও ৮২ এয়ারবর্ন ডিভিশনের প্যারাট্রুপারদের সাথে তারা যোগ দেবে।

উল্লেখ্য, এর আগে ইরানকে সতর্ক করে ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মানতে ব্যর্থ হলে ইরান ‘সবচেয়ে ভয়াবহ দুঃস্বপ্নে’ পরিণত হবে। এসব দাবির মধ্যে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা এবং পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করার মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত। এমনকি তিনি ইরানের জ্বালানি তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ারও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

অন্যদিকে, গত বুধবার ইরানের এক কর্মকর্তা জানান, ওয়াশিংটন যদি তাদের ভূখণ্ডে স্থল অভিযান চালায়, তবে তেহরান ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ব্যবহার করে লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে প্রতিশোধ নেবে।

ইরান যদি সত্যিই হুতিদের দিয়ে জাহাজে হামলা চালায়, তবে তা অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামরিক সংঘাতের এই যুদ্ধে একটি নতুন রণক্ষেত্র তৈরি করবে। এমন পরিস্থিতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার জোর দিয়ে বলছেন যে, ইরানে সরাসরি সেনা পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা তার নেই।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, এই অতিরিক্ত সেনা মধ্যপ্রাচ্যের ঠিক কোন এলাকায় মোতায়েন করা হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ধারণা করা হচ্ছে, তারা ইরানের মূল ভূখণ্ড এবং গুরুত্বপূর্ণ তেল রফতানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের আশেপাশে অবস্থান করবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীর ছয় থানা এলাকায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৬০ জন গ্রেপ্তার

মধ্যপ্রাচ্যে ১০ হাজার সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

আপডেট সময় : ০৬:২৪:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত ১০ হাজার সেনা পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে। এই বিশাল সংখ্যক সেনা মূলত ইরানে দেশটির বিভিন্ন আগ্রাসী কার্যকলাপের প্রতিক্রিয়ায় মোতায়েন করা হবে বলে জানা গেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল শুক্রবার তাদের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দেশটির এক কর্মকর্তার বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে যাতে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক পদক্ষেপের আরও বিকল্প থাকে, সে লক্ষ্যেই এই অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পেন্টাগনের এই অনুমোদন পেলে অঞ্চলটিতে নতুন সেনা সদস্যদের পাশাপাশি আরও বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও সাজোয়া যান প্রবেশ করবে। এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হওয়া ৫ হাজার মেরিন সেনা ও ৮২ এয়ারবর্ন ডিভিশনের প্যারাট্রুপারদের সাথে তারা যোগ দেবে।

উল্লেখ্য, এর আগে ইরানকে সতর্ক করে ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মানতে ব্যর্থ হলে ইরান ‘সবচেয়ে ভয়াবহ দুঃস্বপ্নে’ পরিণত হবে। এসব দাবির মধ্যে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা এবং পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করার মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত। এমনকি তিনি ইরানের জ্বালানি তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ারও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

অন্যদিকে, গত বুধবার ইরানের এক কর্মকর্তা জানান, ওয়াশিংটন যদি তাদের ভূখণ্ডে স্থল অভিযান চালায়, তবে তেহরান ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ব্যবহার করে লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে প্রতিশোধ নেবে।

ইরান যদি সত্যিই হুতিদের দিয়ে জাহাজে হামলা চালায়, তবে তা অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামরিক সংঘাতের এই যুদ্ধে একটি নতুন রণক্ষেত্র তৈরি করবে। এমন পরিস্থিতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার জোর দিয়ে বলছেন যে, ইরানে সরাসরি সেনা পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা তার নেই।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, এই অতিরিক্ত সেনা মধ্যপ্রাচ্যের ঠিক কোন এলাকায় মোতায়েন করা হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ধারণা করা হচ্ছে, তারা ইরানের মূল ভূখণ্ড এবং গুরুত্বপূর্ণ তেল রফতানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের আশেপাশে অবস্থান করবে।