ঢাকা ০১:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশসহ ৬ দেশের জাহাজে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ঘোষণা দিল ইরান

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০২:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের জাহাজের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। এই নিরাপদ তালিকায় থাকা দেশগুলো হলো— বাংলাদেশ, ভারত, চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান ও ইরাক। ইরান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ‘বন্ধুরাষ্ট্র’ হিসেবে বিবেচিত এই দেশগুলো অথবা বিশেষ অনুমোদনপ্রাপ্ত দেশগুলোর জাহাজ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে কোনো বাধা ছাড়াই নিরাপদে চলাচল করতে পারবে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পশ্চিমা গণমাধ্যমের দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এমন তথ্য সঠিক নয়। তিনি স্পষ্ট করেন যে, অনেক দেশ তাদের জাহাজের নিরাপদ যাতায়াতের জন্য ইতোমধ্যে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং সেই প্রেক্ষিতে অনুমোদনপ্রাপ্ত দেশগুলোর জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

আব্বাস আরাগচি আরও উল্লেখ করেন যে, চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান ও ভারতের জাহাজগুলো ইতোমধ্যে এই পথ ব্যবহার করে সফলভাবে চলাচল করেছে এবং বাংলাদেশও এই নিরাপদ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে তারা বিশ্বাস করেন। তবে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলসহ যেসব দেশকে ইরান তাদের ‘শত্রুপক্ষ’ হিসেবে বিবেচনা করে, তাদের জন্য এই প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ট্রানজিট অনুমতি না থাকার অজুহাতে পাকিস্তানগামী একটি কনটেইনার জাহাজকে মাঝপথ থেকেই ফিরিয়ে দেয় ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোর। হরমুজ প্রণালি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল, কারণ বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির পর তেহরান এই পথে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক শিপিং বিশ্লেষণের তথ্যমতে, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২০টি জাহাজ এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করলেও চলতি মাসে সেই সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। জ্বালানি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘কেপলার’ জানিয়েছে, মার্চের প্রথম ২৫ দিনে মাত্র ১৫৫টি জাহাজ এই পথ ব্যবহার করতে পেরেছে, যার সিংহভাগই ছিল তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাংকার। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের এই নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও তীব্র হবে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতির ওপর। তবে ইরানের এই নতুন ঘোষণার ফলে বাংলাদেশের পণ্যবাহী ও জ্বালানিবাহী জাহাজগুলোর জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা মিলল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষক স্বল্পতা মোকাবিলায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের তালিকা তৈরির নির্দেশ

হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশসহ ৬ দেশের জাহাজে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ঘোষণা দিল ইরান

আপডেট সময় : ১০:০২:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের জাহাজের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। এই নিরাপদ তালিকায় থাকা দেশগুলো হলো— বাংলাদেশ, ভারত, চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান ও ইরাক। ইরান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ‘বন্ধুরাষ্ট্র’ হিসেবে বিবেচিত এই দেশগুলো অথবা বিশেষ অনুমোদনপ্রাপ্ত দেশগুলোর জাহাজ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে কোনো বাধা ছাড়াই নিরাপদে চলাচল করতে পারবে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পশ্চিমা গণমাধ্যমের দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এমন তথ্য সঠিক নয়। তিনি স্পষ্ট করেন যে, অনেক দেশ তাদের জাহাজের নিরাপদ যাতায়াতের জন্য ইতোমধ্যে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং সেই প্রেক্ষিতে অনুমোদনপ্রাপ্ত দেশগুলোর জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

আব্বাস আরাগচি আরও উল্লেখ করেন যে, চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান ও ভারতের জাহাজগুলো ইতোমধ্যে এই পথ ব্যবহার করে সফলভাবে চলাচল করেছে এবং বাংলাদেশও এই নিরাপদ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে তারা বিশ্বাস করেন। তবে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলসহ যেসব দেশকে ইরান তাদের ‘শত্রুপক্ষ’ হিসেবে বিবেচনা করে, তাদের জন্য এই প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ট্রানজিট অনুমতি না থাকার অজুহাতে পাকিস্তানগামী একটি কনটেইনার জাহাজকে মাঝপথ থেকেই ফিরিয়ে দেয় ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোর। হরমুজ প্রণালি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল, কারণ বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির পর তেহরান এই পথে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক শিপিং বিশ্লেষণের তথ্যমতে, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২০টি জাহাজ এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করলেও চলতি মাসে সেই সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। জ্বালানি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘কেপলার’ জানিয়েছে, মার্চের প্রথম ২৫ দিনে মাত্র ১৫৫টি জাহাজ এই পথ ব্যবহার করতে পেরেছে, যার সিংহভাগই ছিল তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাংকার। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের এই নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও তীব্র হবে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতির ওপর। তবে ইরানের এই নতুন ঘোষণার ফলে বাংলাদেশের পণ্যবাহী ও জ্বালানিবাহী জাহাজগুলোর জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা মিলল বলে ধারণা করা হচ্ছে।