ঢাকা ০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

লোকসানে কলাপাড়ার তরমুজ চাষি: ভালো ফলন সত্ত্বেও হতাশ কৃষকেরা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:০২:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় চলতি মৌসুমে তরমুজ চাষ করে ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন সহস্রাধিক কৃষক। ভালো ফলন হলেও পাইকারের অভাব, বাজারে চাহিদা কমে যাওয়া এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তাদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে। অনেক কৃষক দূর-দূরান্ত থেকে জমি লিজ নিয়ে এই ফসল চাষ করেছিলেন, কিন্তু বর্তমান বাজার পরিস্থিতি তাদের আশাহত করেছে।

চরচান্দুপাড়া গ্রামের তরুণ চাষি ফেরদৌস তালুকদার ৬৪ বিঘা জমিতে প্রায় ২১ লাখ টাকা ব্যয় করে তরমুজ চাষ করেছেন। ঈদের আগে তরমুজ বিক্রি শুরু হলেও পরিবহন খরচ বেশি হওয়ায় লাভের পরিমাণ কমে গেছে। তিনি জানান, প্রতি মণ তরমুজ যেখানে ২২০০ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা, সেখানে বাধ্য হয়ে ১২০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে তার প্রায় ১২ লাখ টাকা লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে। একই ধরণের অভিযোগ করেছেন মো. রিয়াজ (২৪ বিঘা) এবং অলিউল্লাহ (৪০ বিঘা) সহ আরও অনেক চাষি।

চাষিদের অভিযোগ, এ বছর এলাকায় পাইকারদের আনাগোনা কম এবং মোকামগুলোতেও তরমুজের চাহিদা নেই। এছাড়াও, ঈদের আগে কয়েক দফা বৃষ্টিতে ক্ষেত কাদাময় হওয়ায় তরমুজের গুণগত মান কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফাল্গুন ও চৈত্র মাসে স্বাভাবিকের তুলনায় তাপমাত্রা কম থাকায় বাজারে চাহিদা আরও কমে গেছে বলে তারা জানান।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কলাপাড়ায় এবার ৪৪৪৭ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে, যেখানে প্রায় তিন হাজার কৃষক জড়িত। যদিও বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪০৪ কোটি টাকা, তবে চূড়ান্ত হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. নাহিদ হাসান জানিয়েছেন, যারা আগাম তরমুজ চাষ করে রমজানের মধ্যে বিক্রি করতে পেরেছেন, তারা লাভবান হয়েছেন। তবে প্রায় অর্ধেক চাষি লোকসানে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সার্বিকভাবে, বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হলে কলাপাড়ার তরমুজ চাষিদের একটি বড় অংশ আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা: অগ্রগতি সত্ত্বেও বড় ব্যবধান রয়ে গেছে বলে দাবি গালিবাফের

লোকসানে কলাপাড়ার তরমুজ চাষি: ভালো ফলন সত্ত্বেও হতাশ কৃষকেরা

আপডেট সময় : ০৫:০২:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় চলতি মৌসুমে তরমুজ চাষ করে ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন সহস্রাধিক কৃষক। ভালো ফলন হলেও পাইকারের অভাব, বাজারে চাহিদা কমে যাওয়া এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তাদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে। অনেক কৃষক দূর-দূরান্ত থেকে জমি লিজ নিয়ে এই ফসল চাষ করেছিলেন, কিন্তু বর্তমান বাজার পরিস্থিতি তাদের আশাহত করেছে।

চরচান্দুপাড়া গ্রামের তরুণ চাষি ফেরদৌস তালুকদার ৬৪ বিঘা জমিতে প্রায় ২১ লাখ টাকা ব্যয় করে তরমুজ চাষ করেছেন। ঈদের আগে তরমুজ বিক্রি শুরু হলেও পরিবহন খরচ বেশি হওয়ায় লাভের পরিমাণ কমে গেছে। তিনি জানান, প্রতি মণ তরমুজ যেখানে ২২০০ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা, সেখানে বাধ্য হয়ে ১২০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে তার প্রায় ১২ লাখ টাকা লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে। একই ধরণের অভিযোগ করেছেন মো. রিয়াজ (২৪ বিঘা) এবং অলিউল্লাহ (৪০ বিঘা) সহ আরও অনেক চাষি।

চাষিদের অভিযোগ, এ বছর এলাকায় পাইকারদের আনাগোনা কম এবং মোকামগুলোতেও তরমুজের চাহিদা নেই। এছাড়াও, ঈদের আগে কয়েক দফা বৃষ্টিতে ক্ষেত কাদাময় হওয়ায় তরমুজের গুণগত মান কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফাল্গুন ও চৈত্র মাসে স্বাভাবিকের তুলনায় তাপমাত্রা কম থাকায় বাজারে চাহিদা আরও কমে গেছে বলে তারা জানান।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কলাপাড়ায় এবার ৪৪৪৭ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে, যেখানে প্রায় তিন হাজার কৃষক জড়িত। যদিও বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪০৪ কোটি টাকা, তবে চূড়ান্ত হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. নাহিদ হাসান জানিয়েছেন, যারা আগাম তরমুজ চাষ করে রমজানের মধ্যে বিক্রি করতে পেরেছেন, তারা লাভবান হয়েছেন। তবে প্রায় অর্ধেক চাষি লোকসানে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সার্বিকভাবে, বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হলে কলাপাড়ার তরমুজ চাষিদের একটি বড় অংশ আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।