ঢাকা ১২:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

ইউরোপীয় বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বড় ধস: ২৫% পতন

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য একটি দুঃসংবাদ হলো ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাজারে রপ্তানি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে গেছে। বছরের শুরুতেই এই বড় বাজারটিতে ২৫.২৫ শতাংশের মতো পতন দেখা দিয়েছে, যা খাত সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পর ইইউ বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির অন্যতম প্রধান গন্তব্য হওয়ায় এই পরিস্থিতি সামগ্রিক রপ্তানি আয় এবং অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইউরোস্ট্যাটের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪৩ কোটি ইউরো, যা গত বছরের একই সময়ের ১৯১ কোটি ইউরোর তুলনায় প্রায় ৪৮ কোটি ইউরো কম। এই পতনের পেছনে দুটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে: রপ্তানির পরিমাণ হ্রাস এবং পণ্যের গড় মূল্য কমে যাওয়া। জানুয়ারিতে রপ্তানির পরিমাণ ১৭.৪৯ শতাংশ কমেছে এবং প্রতি কেজি পোশাকের গড় দাম কমেছে ৯.৪১ শতাংশ।

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, ইইউ বাজার থেকে দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় অর্ধেক আসে। তাই এই বাজারে এমন পতন দীর্ঘস্থায়ী হলে তা জাতীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তারা মনে করছেন, বিশ্ব বাণিজ্য পরিস্থিতির পরিবর্তন, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত পরিবর্তন এবং বিভিন্ন বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতার কারণে চীন, ভারত, ভিয়েতনামের মতো প্রতিযোগী দেশগুলো ইউরোপীয় বাজারে আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এতে প্রতিযোগিতা তীব্রতর হয়েছে।

অন্যদিকে, ইউরোপের ভোক্তা বাজারেও দুর্বলতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, সুদের হার বেড়ে যাওয়া এবং খুচরা বিক্রিতে ধীরগতির কারণে পোশাকের চাহিদা কমেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা আগের চেয়ে বেশি সতর্ক হয়ে অর্ডার দিচ্ছেন এবং দর কষাকষির মাধ্যমে কম দামে পণ্য কিনতে চাইছেন। এই পরিস্থিতি সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর মূল্যছাড়ের চাপ বাড়াচ্ছে। ইইউতে অন্যান্য প্রধান রপ্তানিকারক দেশগুলোও এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনকে ইরানের তেল নিতে দেবে না যুক্তরাষ্ট্র, হরমুজ প্রণালিতে কড়াকড়ির হুঁশিয়ারি

ইউরোপীয় বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বড় ধস: ২৫% পতন

আপডেট সময় : ১১:২৩:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য একটি দুঃসংবাদ হলো ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাজারে রপ্তানি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে গেছে। বছরের শুরুতেই এই বড় বাজারটিতে ২৫.২৫ শতাংশের মতো পতন দেখা দিয়েছে, যা খাত সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পর ইইউ বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির অন্যতম প্রধান গন্তব্য হওয়ায় এই পরিস্থিতি সামগ্রিক রপ্তানি আয় এবং অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইউরোস্ট্যাটের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪৩ কোটি ইউরো, যা গত বছরের একই সময়ের ১৯১ কোটি ইউরোর তুলনায় প্রায় ৪৮ কোটি ইউরো কম। এই পতনের পেছনে দুটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে: রপ্তানির পরিমাণ হ্রাস এবং পণ্যের গড় মূল্য কমে যাওয়া। জানুয়ারিতে রপ্তানির পরিমাণ ১৭.৪৯ শতাংশ কমেছে এবং প্রতি কেজি পোশাকের গড় দাম কমেছে ৯.৪১ শতাংশ।

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, ইইউ বাজার থেকে দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় অর্ধেক আসে। তাই এই বাজারে এমন পতন দীর্ঘস্থায়ী হলে তা জাতীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তারা মনে করছেন, বিশ্ব বাণিজ্য পরিস্থিতির পরিবর্তন, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত পরিবর্তন এবং বিভিন্ন বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতার কারণে চীন, ভারত, ভিয়েতনামের মতো প্রতিযোগী দেশগুলো ইউরোপীয় বাজারে আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এতে প্রতিযোগিতা তীব্রতর হয়েছে।

অন্যদিকে, ইউরোপের ভোক্তা বাজারেও দুর্বলতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, সুদের হার বেড়ে যাওয়া এবং খুচরা বিক্রিতে ধীরগতির কারণে পোশাকের চাহিদা কমেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা আগের চেয়ে বেশি সতর্ক হয়ে অর্ডার দিচ্ছেন এবং দর কষাকষির মাধ্যমে কম দামে পণ্য কিনতে চাইছেন। এই পরিস্থিতি সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর মূল্যছাড়ের চাপ বাড়াচ্ছে। ইইউতে অন্যান্য প্রধান রপ্তানিকারক দেশগুলোও এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছে।