ঢাকা ০১:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

২৫ মার্চের গণহত্যা ছিল সুপরিকল্পিত ও বর্বরোচিত: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতের ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডকে একটি সুপরিকল্পিত এবং বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ হিসেবে অভিহিত করেছেন। বুধবার ‘জাতীয় গণহত্যা দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি সেই রাতে শাহাদাতবরণকারী সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং দিনটিকে স্বাধীনতাকামী বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি কলঙ্কিত ও নৃশংসতম অধ্যায় হিসেবে বর্ণনা করেন। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এই সুপরিকল্পিত গণহত্যা কেন প্রতিরোধ করা সম্ভব হলো না, তা আজও ইতিহাসের গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের এই দিবাগত রাতে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’–এর নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা ও রাজারবাগ পুলিশ লাইনসহ বিভিন্ন স্থানে নিরস্ত্র শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী এবং সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ ও হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল। এই নৃশংসতার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ‘উই রিভোল্ট’ বলে আনুষ্ঠানিকভাবে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল, যার মাধ্যমেই শুরু হয়েছিল দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মহান মুক্তিযুদ্ধ।

বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতার প্রকৃত মূল্য ও তাৎপর্য তুলে ধরার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী একটি ন্যায়ভিত্তিক, উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা—সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতিদান দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে কৃষিজমি ধ্বংস করে অপরিকল্পিত পাথর উত্তোলন, উদ্বেগ পরিবেশবাদীদের

২৫ মার্চের গণহত্যা ছিল সুপরিকল্পিত ও বর্বরোচিত: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আপডেট সময় : ১০:৫৮:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতের ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডকে একটি সুপরিকল্পিত এবং বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ হিসেবে অভিহিত করেছেন। বুধবার ‘জাতীয় গণহত্যা দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি সেই রাতে শাহাদাতবরণকারী সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং দিনটিকে স্বাধীনতাকামী বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি কলঙ্কিত ও নৃশংসতম অধ্যায় হিসেবে বর্ণনা করেন। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এই সুপরিকল্পিত গণহত্যা কেন প্রতিরোধ করা সম্ভব হলো না, তা আজও ইতিহাসের গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের এই দিবাগত রাতে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’–এর নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা ও রাজারবাগ পুলিশ লাইনসহ বিভিন্ন স্থানে নিরস্ত্র শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী এবং সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ ও হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল। এই নৃশংসতার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ‘উই রিভোল্ট’ বলে আনুষ্ঠানিকভাবে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল, যার মাধ্যমেই শুরু হয়েছিল দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মহান মুক্তিযুদ্ধ।

বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতার প্রকৃত মূল্য ও তাৎপর্য তুলে ধরার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী একটি ন্যায়ভিত্তিক, উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা—সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতিদান দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।