ঢাকা ০৩:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

তিন খাটিয়ায় তিন প্রাণ: লালপুরের নগরকয়া গ্রামে শোকের মাতম

নাটোরের লালপুর উপজেলার দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের নগরকয়া গ্রামে এখন বইছে শোকের ভারী বাতাস। একটি ঘাতক ট্রাকের চাপায় প্রাণ হারিয়েছেন গ্রামের তিন দিনমজুর, যা কেবল তিনটি প্রাণহানিই নয়, বরং তিনটি পরিবারের স্বপ্ন চুরমার করে দিয়েছে। গ্রামের প্রতিটি কোণে এখন স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদ আর আহাজারি শোনা যাচ্ছে। একই সঙ্গে তিনটি খাটিয়া সাজানোর এমন দৃশ্য স্তব্ধ করে দিয়েছে পুরো এলাকাকে।

নিহত বাবুলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় হৃদয়বিদারক দৃশ্য। ছেলের লাশের পাশে বসে বিলাপ করছেন বৃদ্ধা মা, আর শোকে পাথর হয়ে গেছেন স্ত্রী রাখি। সংসারের অভাব ঘোচাতে প্রায়ই বাড়ির বাইরে কাজে যেতেন বাবুল, কিন্তু এবার আর জীবিত ফেরা হলো না তার। তার দুই সন্তান রাকিবুল ও বৃষ্টির নির্বাক চাহনি যেন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের প্রতিচ্ছবি।

অন্যদিকে, নিহত মনিরুল ইসলামের পরিবারে চলছে চরম মাতম। তার সাত বছরের এক সন্তান রয়েছে এবং স্ত্রী লিমা বর্তমানে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। উপার্জক্ষম একমাত্র ব্যক্তিকে হারিয়ে এই পরিবারটি এখন দিশেহারা। মনিরুলের বৃদ্ধা মা ও বোন শোক সইতে না পেরে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদের স্বপ্ন দেখা মনিরুলের সংসারে এখন শুধুই অন্ধকার।

একই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো জাহিদুল ইসলামের পরিবারেও নেমে এসেছে ঘোর অনিশ্চয়তা। অভাবের তাড়নায় জীবনে প্রথমবার বাইরের জেলায় কাজে গিয়েছিলেন তিনি। রেখে গেছেন কলেজ ও স্কুলে পড়ুয়া দুই মেধাবী মেয়েকে। বাবার আকস্মিক মৃত্যুতে তাদের পড়াশোনা ও আগামীর স্বপ্নগুলো এখন থমকে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। পুরো গ্রামবাসী এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় শোকাতুর হয়ে পড়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীতে যানবাহন চুরির হিড়িক: প্রতিদিন গড়ে চুরি হচ্ছে একটি গাড়ি বা মোটরসাইকেল

তিন খাটিয়ায় তিন প্রাণ: লালপুরের নগরকয়া গ্রামে শোকের মাতম

আপডেট সময় : ১০:৪৩:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

নাটোরের লালপুর উপজেলার দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের নগরকয়া গ্রামে এখন বইছে শোকের ভারী বাতাস। একটি ঘাতক ট্রাকের চাপায় প্রাণ হারিয়েছেন গ্রামের তিন দিনমজুর, যা কেবল তিনটি প্রাণহানিই নয়, বরং তিনটি পরিবারের স্বপ্ন চুরমার করে দিয়েছে। গ্রামের প্রতিটি কোণে এখন স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদ আর আহাজারি শোনা যাচ্ছে। একই সঙ্গে তিনটি খাটিয়া সাজানোর এমন দৃশ্য স্তব্ধ করে দিয়েছে পুরো এলাকাকে।

নিহত বাবুলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় হৃদয়বিদারক দৃশ্য। ছেলের লাশের পাশে বসে বিলাপ করছেন বৃদ্ধা মা, আর শোকে পাথর হয়ে গেছেন স্ত্রী রাখি। সংসারের অভাব ঘোচাতে প্রায়ই বাড়ির বাইরে কাজে যেতেন বাবুল, কিন্তু এবার আর জীবিত ফেরা হলো না তার। তার দুই সন্তান রাকিবুল ও বৃষ্টির নির্বাক চাহনি যেন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের প্রতিচ্ছবি।

অন্যদিকে, নিহত মনিরুল ইসলামের পরিবারে চলছে চরম মাতম। তার সাত বছরের এক সন্তান রয়েছে এবং স্ত্রী লিমা বর্তমানে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। উপার্জক্ষম একমাত্র ব্যক্তিকে হারিয়ে এই পরিবারটি এখন দিশেহারা। মনিরুলের বৃদ্ধা মা ও বোন শোক সইতে না পেরে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদের স্বপ্ন দেখা মনিরুলের সংসারে এখন শুধুই অন্ধকার।

একই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো জাহিদুল ইসলামের পরিবারেও নেমে এসেছে ঘোর অনিশ্চয়তা। অভাবের তাড়নায় জীবনে প্রথমবার বাইরের জেলায় কাজে গিয়েছিলেন তিনি। রেখে গেছেন কলেজ ও স্কুলে পড়ুয়া দুই মেধাবী মেয়েকে। বাবার আকস্মিক মৃত্যুতে তাদের পড়াশোনা ও আগামীর স্বপ্নগুলো এখন থমকে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। পুরো গ্রামবাসী এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় শোকাতুর হয়ে পড়েছেন।