কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে একটি ট্রেন ও বাসের মর্মান্তিক সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হওয়ার ঘটনার পেছনে গেটম্যানদের চরম অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সময় দায়িত্বরত গেটম্যানরা নেশাগ্রস্ত থাকায় ট্রেনের সিগন্যাল শুনতে পাননি, যার ফলে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।
ঈদের দিন রাতে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড রেলক্রসিং এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের অনুসন্ধানে জানা যায়, গেটম্যানদের কক্ষগুলোতে মাদক সেবনের আলামত পাওয়া গেছে। সেখানে ইয়াবা ও গাঁজা সেবনের উপকরণ পড়ে ছিল। অভিযোগ রয়েছে, গেটম্যানদের জন্য নির্মিত সরকারি কক্ষগুলোতে নিয়মিত তদারকির অভাব থাকায় সেখানে প্রায়ই মাদক সেবনের আসর বসে। ঘটনার রাতেও গেটম্যান মেহেদী ও হেলাল বহিরাগতদের সঙ্গে মাদক সেবনে মত্ত ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
তবে, কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার শেখ আনোয়ার হোসেন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, গেটম্যানদের ঘরে কোনো মাদক সেবন হয় না এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ প্রকৌশল বিভাগ তদন্ত করে জানাবে। কুমিল্লা রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ইনচার্জ ফরহাদ সরকারও অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। লাকসাম রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ জসীমউদ্দীন জানিয়েছেন, গেটম্যানরা মাদক সেবন করেছেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয় এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এই ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তাদের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান জানিয়েছেন, তদন্তে যার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয়রা আশা করছেন, তদন্ত প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উঠে আসবে এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ভয়াবহ দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।
রিপোর্টারের নাম 
























