ঢাকা ০২:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

নীলফামারীতে জ্বালানি সংকট চরমে: পাম্পে তেল নেই, কালোবাজারে চড়া দাম

নীলফামারী জেলায় পেট্রোল ও অকটেনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, যার ফলে যানবাহন চালক ও সাধারণ মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন। জেলার অধিকাংশ পেট্রোল পাম্পে তেল সরবরাহ না থাকায় সেগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। হাতে গোনা দু-একটি পাম্পে তেল মিললেও সেখানে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে এবং গ্রাহকরা ১০০ বা ২০০ টাকার বেশি তেল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।

সরকার তেল বিক্রিতে রেশনিং পদ্ধতি তুলে নিলেও জেলার বেশিরভাগ পাম্প মালিক এখনো রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রি করছেন। এর সুযোগ নিয়ে কালোবাজারে চড়া দামে জ্বালানি বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, তেল পাম্পগুলোর সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও ভোক্তারা কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি পাচ্ছেন না। অধিকাংশ পাম্পেই ‘তেল নেই’ লেখা নোটিশ ঝুলছে। কোথাও সামান্য সরবরাহ এলেও তা মুহূর্তেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে, পাম্পে তেল না মিললেও হাট-বাজারের খুচরা দোকানগুলোতে অবাধে বিক্রি হচ্ছে পেট্রোল ও অকটেন, তবে তা সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে। প্রতি লিটার পেট্রোল প্রায় ৩০০ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যেখানে সরকার নির্ধারিত মূল্য যথাক্রমে ১১৬ ও ১২০ টাকা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ চক্র পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করে তা খুচরা বাজারে অধিক দামে বিক্রি করছে। গাড়ি চালকরা জানান, এক সপ্তাহ ধরে পাম্পে নিয়মিত তেল পাওয়া যাচ্ছে না এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে।

জেলা শহরের মোটরসাইকেল চালক হাবিব বলেন, গত তিন দিন ধরে তিনি ছয়টি পাম্প ঘুরেও কোথাও তেল পাননি। এদিকে সেচ মৌসুমে তেলের অভাবে কৃষকেরা জমিতে পানি দিতে পারছেন না, যা ফসল উৎপাদনে মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করেছে।

মেসার্স মোজাম্মেল অ্যান্ড ফিলিং স্টেশনের মালিক মোজাম্মেল হক এবং মেসার্স হক ফিলিং স্টেশনের মালিক শামসুল হক জানান, চাহিদার তুলনায় তেল না পাওয়ায় তাদের মজুত দ্রুত শেষ হয়ে গেছে। সরবরাহ কবে স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে তারাও অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।

তবে নীলফামারী জেলা পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মোট ৩৫টি পেট্রোল পাম্প রয়েছে এবং কোথাও তেলের প্রকৃত সংকটের খবর পাওয়া যায়নি। কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া জানান, অবৈধ মজুত বা অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় যুবশক্তির ঢাকা মহানগরের চার ইউনিটে নতুন কমিটি ঘোষণা

নীলফামারীতে জ্বালানি সংকট চরমে: পাম্পে তেল নেই, কালোবাজারে চড়া দাম

আপডেট সময় : ০৩:৪৯:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

নীলফামারী জেলায় পেট্রোল ও অকটেনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, যার ফলে যানবাহন চালক ও সাধারণ মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন। জেলার অধিকাংশ পেট্রোল পাম্পে তেল সরবরাহ না থাকায় সেগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। হাতে গোনা দু-একটি পাম্পে তেল মিললেও সেখানে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে এবং গ্রাহকরা ১০০ বা ২০০ টাকার বেশি তেল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।

সরকার তেল বিক্রিতে রেশনিং পদ্ধতি তুলে নিলেও জেলার বেশিরভাগ পাম্প মালিক এখনো রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রি করছেন। এর সুযোগ নিয়ে কালোবাজারে চড়া দামে জ্বালানি বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, তেল পাম্পগুলোর সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও ভোক্তারা কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি পাচ্ছেন না। অধিকাংশ পাম্পেই ‘তেল নেই’ লেখা নোটিশ ঝুলছে। কোথাও সামান্য সরবরাহ এলেও তা মুহূর্তেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে, পাম্পে তেল না মিললেও হাট-বাজারের খুচরা দোকানগুলোতে অবাধে বিক্রি হচ্ছে পেট্রোল ও অকটেন, তবে তা সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে। প্রতি লিটার পেট্রোল প্রায় ৩০০ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যেখানে সরকার নির্ধারিত মূল্য যথাক্রমে ১১৬ ও ১২০ টাকা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ চক্র পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করে তা খুচরা বাজারে অধিক দামে বিক্রি করছে। গাড়ি চালকরা জানান, এক সপ্তাহ ধরে পাম্পে নিয়মিত তেল পাওয়া যাচ্ছে না এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে।

জেলা শহরের মোটরসাইকেল চালক হাবিব বলেন, গত তিন দিন ধরে তিনি ছয়টি পাম্প ঘুরেও কোথাও তেল পাননি। এদিকে সেচ মৌসুমে তেলের অভাবে কৃষকেরা জমিতে পানি দিতে পারছেন না, যা ফসল উৎপাদনে মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করেছে।

মেসার্স মোজাম্মেল অ্যান্ড ফিলিং স্টেশনের মালিক মোজাম্মেল হক এবং মেসার্স হক ফিলিং স্টেশনের মালিক শামসুল হক জানান, চাহিদার তুলনায় তেল না পাওয়ায় তাদের মজুত দ্রুত শেষ হয়ে গেছে। সরবরাহ কবে স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে তারাও অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।

তবে নীলফামারী জেলা পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মোট ৩৫টি পেট্রোল পাম্প রয়েছে এবং কোথাও তেলের প্রকৃত সংকটের খবর পাওয়া যায়নি। কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া জানান, অবৈধ মজুত বা অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।