ঢাকা ০২:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

বন্ধের পথে হরমুজ প্রণালি: মধ্যপ্রাচ্যে ১০ কোটি মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে, যা এই অঞ্চলের প্রায় ১০ কোটি মানুষের খাদ্য সরবরাহে ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনার সংকেত দিচ্ছে। বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহের এই রুটটি মূলত মরুপ্রধান উপসাগরীয় দেশগুলোর ‘খাদ্য লাইফলাইন’ হিসেবে পরিচিত। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের মতো দেশগুলো তাদের মোট খাদ্যের ৮০ থেকে ৯৮ শতাংশই আমদানি করে, যার সিংহভাগ আসে এই প্রণালি দিয়ে। বাণিজ্যিক জাহাজে ক্রমাগত হামলার কারণে বর্তমানে এই পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বিকল্প দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে গিয়ে শিপিং খরচ আকাশচুম্বী হচ্ছে, যা সরাসরি সাধারণ ভোক্তাদের ওপর প্রভাব ফেলছে।

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সতর্ক করেছে যে, কোভিড-১৯ এবং ইউক্রেন যুদ্ধের পর বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল এখন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সংকটের দ্বারপ্রান্তে। শিপিং কোম্পানিগুলো মধ্যপ্রাচ্যগামী প্রতিটি কনটেইনারের জন্য অতিরিক্ত চার হাজার ডলার পর্যন্ত ‘যুদ্ধকালীন চার্জ’ আরোপ করেছে। অনেক ক্ষেত্রে সমুদ্রপথের পরিবর্তে আকাশপথ বা দীর্ঘ ১২ দিনের সড়কপথে ইউরোপ থেকে পণ্য আনার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে বহুগুণ। দুবাই ভিত্তিক আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান কিবসনস জানিয়েছে, তাদের বহু টন খাদ্যবাহী জাহাজ বর্তমানে প্রণালির বাইরে আটকা পড়ে আছে, যার ফলে দুগ্ধজাত পণ্য ও তাজা ফলের দাম ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত পণ্য খালাস দ্রুত করতে নতুন বাণিজ্য করিডর চালু করলেও নিরাপত্তাহীনতা কাটছে না। বিমা কোম্পানিগুলো এই অঞ্চলকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করায় প্রিমিয়ামের হার বহুগুণ বেড়ে গেছে। মার্কিন নৌবাহিনীর এসকর্ট দেওয়ার আলোচনা চললেও লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্সের মতে, সামরিক সহায়তা এলে খাদ্যবাহী জাহাজের চেয়ে তেলবাহী ট্যাংকারগুলোই বেশি অগ্রাধিকার পাবে। বর্তমানে এই অঞ্চলের দেশগুলোর হাতে গড়ে মাত্র এক মাসের খাদ্য মজুত রয়েছে। দ্রুত এই যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান না হলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো অচিরেই নজিরবিহীন দুর্ভিক্ষ ও খাদ্য সংকটের মুখোমুখি হতে পারে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

রামগড়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত কলাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়, ২০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি

বন্ধের পথে হরমুজ প্রণালি: মধ্যপ্রাচ্যে ১০ কোটি মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে

আপডেট সময় : ১০:২১:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে, যা এই অঞ্চলের প্রায় ১০ কোটি মানুষের খাদ্য সরবরাহে ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনার সংকেত দিচ্ছে। বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহের এই রুটটি মূলত মরুপ্রধান উপসাগরীয় দেশগুলোর ‘খাদ্য লাইফলাইন’ হিসেবে পরিচিত। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের মতো দেশগুলো তাদের মোট খাদ্যের ৮০ থেকে ৯৮ শতাংশই আমদানি করে, যার সিংহভাগ আসে এই প্রণালি দিয়ে। বাণিজ্যিক জাহাজে ক্রমাগত হামলার কারণে বর্তমানে এই পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বিকল্প দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে গিয়ে শিপিং খরচ আকাশচুম্বী হচ্ছে, যা সরাসরি সাধারণ ভোক্তাদের ওপর প্রভাব ফেলছে।

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সতর্ক করেছে যে, কোভিড-১৯ এবং ইউক্রেন যুদ্ধের পর বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল এখন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সংকটের দ্বারপ্রান্তে। শিপিং কোম্পানিগুলো মধ্যপ্রাচ্যগামী প্রতিটি কনটেইনারের জন্য অতিরিক্ত চার হাজার ডলার পর্যন্ত ‘যুদ্ধকালীন চার্জ’ আরোপ করেছে। অনেক ক্ষেত্রে সমুদ্রপথের পরিবর্তে আকাশপথ বা দীর্ঘ ১২ দিনের সড়কপথে ইউরোপ থেকে পণ্য আনার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে বহুগুণ। দুবাই ভিত্তিক আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান কিবসনস জানিয়েছে, তাদের বহু টন খাদ্যবাহী জাহাজ বর্তমানে প্রণালির বাইরে আটকা পড়ে আছে, যার ফলে দুগ্ধজাত পণ্য ও তাজা ফলের দাম ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত পণ্য খালাস দ্রুত করতে নতুন বাণিজ্য করিডর চালু করলেও নিরাপত্তাহীনতা কাটছে না। বিমা কোম্পানিগুলো এই অঞ্চলকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করায় প্রিমিয়ামের হার বহুগুণ বেড়ে গেছে। মার্কিন নৌবাহিনীর এসকর্ট দেওয়ার আলোচনা চললেও লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্সের মতে, সামরিক সহায়তা এলে খাদ্যবাহী জাহাজের চেয়ে তেলবাহী ট্যাংকারগুলোই বেশি অগ্রাধিকার পাবে। বর্তমানে এই অঞ্চলের দেশগুলোর হাতে গড়ে মাত্র এক মাসের খাদ্য মজুত রয়েছে। দ্রুত এই যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান না হলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো অচিরেই নজিরবিহীন দুর্ভিক্ষ ও খাদ্য সংকটের মুখোমুখি হতে পারে।