ঢাকা ০৪:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

ঈদের নামাজের পর ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে হামলা, ১৫ জন আহত

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায়কে কেন্দ্র করে পূর্বশত্রুতার জের ধরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় নারী-পুরুষসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (২১ মার্চ) সকালে ঈদের নামাজ শেষে মোনাজাত চলাকালীন এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, হামলাকারীরা দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অতর্কিতভাবে উপস্থিত মুসল্লিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং এলোপাতাড়ি মারধর ও কুপিয়ে আহত করে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের সারন্দী গ্রামের নতুন ঈদগাহে প্রথমে সিদ্দিক শরীফ ও তার অনুসারীরা নামাজ আদায় করে স্থান ত্যাগ করেন। এরপর একই গ্রামের ওবায়দুর শরীফের নেতৃত্বে অন্য মুসল্লিরা নামাজ আদায় করতে গেলে, নামাজ শেষে মোনাজাতের সময় সিদ্দিকের অনুসারীরা হামলা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, হামলার পর সিদ্দিক ও মহাসীনের অনুসারীরা ওবায়দুর শরীফ এবং মোশাররফ শরীফের বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এতে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকাসহ প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন।

এই ঘটনায় রজ্জব আলী বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৫০-৬০ জন অজ্ঞাতনামা আসামী করে বোয়ালমারী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নং-৩০)। ভুক্তভোগী শাহআলম শরীফ জানান, ২০০৭ সালে তার চাচা হবিবুর রহমান হবিকে সিদ্দিক ও তার লোকজন হত্যা করেছিল। তখন স্থানীয়ভাবে মীমাংসা হলেও তারা শর্ত মানেনি। তিনি বলেন, ঈদের দিনে এমন হামলা হবে তা ভাবিনি। ওবায়দুর শরীফ ও মোশাররফ শরীফ উভয়েই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়েছেন। অভিযুক্ত সিদ্দিক শরীফ দাবি করেছেন, তার অনুসারী ছেলেরা না বুঝে এই কাজ করেছে এবং তিনি নিজে কাউকে মারেননি। তিনি বর্তমানে আত্মগোপনে আছেন বলে জানা গেছে।

বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, মামলার পর পুলিশ দুজন আসামিকে আটক করে আদালতে পাঠিয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ওমান সাগরে ইরানি জাহাজ জব্দের মার্কিন চেষ্টা নস্যাৎ করার দাবি

ঈদের নামাজের পর ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে হামলা, ১৫ জন আহত

আপডেট সময় : ১০:১০:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায়কে কেন্দ্র করে পূর্বশত্রুতার জের ধরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় নারী-পুরুষসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (২১ মার্চ) সকালে ঈদের নামাজ শেষে মোনাজাত চলাকালীন এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, হামলাকারীরা দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অতর্কিতভাবে উপস্থিত মুসল্লিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং এলোপাতাড়ি মারধর ও কুপিয়ে আহত করে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের সারন্দী গ্রামের নতুন ঈদগাহে প্রথমে সিদ্দিক শরীফ ও তার অনুসারীরা নামাজ আদায় করে স্থান ত্যাগ করেন। এরপর একই গ্রামের ওবায়দুর শরীফের নেতৃত্বে অন্য মুসল্লিরা নামাজ আদায় করতে গেলে, নামাজ শেষে মোনাজাতের সময় সিদ্দিকের অনুসারীরা হামলা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, হামলার পর সিদ্দিক ও মহাসীনের অনুসারীরা ওবায়দুর শরীফ এবং মোশাররফ শরীফের বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এতে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকাসহ প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন।

এই ঘটনায় রজ্জব আলী বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৫০-৬০ জন অজ্ঞাতনামা আসামী করে বোয়ালমারী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নং-৩০)। ভুক্তভোগী শাহআলম শরীফ জানান, ২০০৭ সালে তার চাচা হবিবুর রহমান হবিকে সিদ্দিক ও তার লোকজন হত্যা করেছিল। তখন স্থানীয়ভাবে মীমাংসা হলেও তারা শর্ত মানেনি। তিনি বলেন, ঈদের দিনে এমন হামলা হবে তা ভাবিনি। ওবায়দুর শরীফ ও মোশাররফ শরীফ উভয়েই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়েছেন। অভিযুক্ত সিদ্দিক শরীফ দাবি করেছেন, তার অনুসারী ছেলেরা না বুঝে এই কাজ করেছে এবং তিনি নিজে কাউকে মারেননি। তিনি বর্তমানে আত্মগোপনে আছেন বলে জানা গেছে।

বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, মামলার পর পুলিশ দুজন আসামিকে আটক করে আদালতে পাঠিয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।