জাতীয় নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরও দেশের সংকট পুরোপুরি কাটেনি বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ফ্যাসিবাদ তার বড় অংশ হারিয়ে বিদায় নিলেও এর কালো ছায়া এখনো সমাজে বিদ্যমান। দেশে অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা এবং প্রতিহিংসার প্রবণতা এখনো লক্ষ্যণীয়।
ডা. শফিকুর রহমান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ঘটনা দুঃখজনক। রাজনীতিবিদদের কথার সঙ্গে কাজের মিল না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে রাজনীতির প্রতি আস্থা কমে যাচ্ছে। একটি জবাবদিহিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণের ওপর জোর দেন তিনি।
রোববার সিলেটে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় ও মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ায় কর্মরত বিপুলসংখ্যক সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। এসময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে ডা. শফিকুর রহমান দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন এবং সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
গণভোট ও সংস্কার প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিলেও তা পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। এতে মানুষের মধ্যে নতুন করে অনাস্থা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। জনগণের অর্থ ও স্বার্থ রক্ষায় সরকারকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিরোধী দল হিসেবে তারা সংসদের ভেতরে ও বাইরে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে অঙ্গীকারবদ্ধ, তবে জনগণের অধিকার রক্ষায় কোনো আপস করা হবে না। গত নির্বাচনে নতুন ও ইতিবাচক ধারার রাজনীতি তৈরির লক্ষ্যে তারা নির্বাচন বর্জন করেননি জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তারা নির্বাচনকে বুকে চাপ নিয়ে মেনে নিয়েছেন। টিআইবি, সুজনের মতো সংগঠনগুলো নির্বাচন নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেছে, যা গত নির্বাচন কেমন হয়েছে তা বুঝতে সহায়ক হবে বলে তিনি মনে করেন।
পৃথিবীর অনেক দেশেই সংবিধান পরিবর্তন হয় উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংবিধান পরিবর্তন ও সংশোধন জাতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার এই দাবি দ্রুত পূরণ করবে। গত নির্বাচনে প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে সংস্কার চেয়েছেন, কিন্তু তাদের সেই প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি। গণভোটের একটি অংশ বাস্তবায়িত হলেও, অন্য অংশ এখনো উপেক্ষিত রয়ে গেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রিপোর্টারের নাম 

























