ঢাকা ১০:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

এসো হে বৈশাখ: নতুন সূর্যের আলোয় বর্ণিল বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

আজ পহেলা বৈশাখ। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রমনা বটমূলে ছায়ানটের শিল্পীদের কণ্ঠে ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’ গানের সুরলহরীতে বরণ করে নেওয়া হয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-কে। পুরোনো বছরের সব জরাজীর্ণতা, ক্লান্তি ও দুঃখ-গ্লানি পেছনে ফেলে এক নতুন স্বপ্নে বিভোর হয়ে আজ উৎসবে মেতেছে পুরো বাঙালি জাতি। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অসাম্প্রদায়িক চেতনার এই প্রাণের উৎসবে রাজধানী থেকে শুরু করে গ্রামবাংলার প্রতিটি জনপদ এখন উৎসবের রঙে রঙিন। লাল-সাদা পোশাক, প্রাণের মেলা, আর ঢোল-করতালের শব্দে চারদিকে এক আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

বাঙালির এই হাজার বছরের ঐতিহ্য কেবল বর্ষবরণেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। মুঘল সম্রাট আকবরের ফসলি সন থেকে শুরু হওয়া এই উৎসব কালক্রমে হয়ে উঠেছে অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক। ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে শুরু হওয়া ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ আজ ইউনেস্কো স্বীকৃত ‘মানবতার অমূল্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’। গ্রামীণ জীবনের হালখাতা আর পান্তা-ইলিশের প্রথা আজও টিকে আছে স্বমহিমায়, যার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আধুনিক যুগের ডিজিটাল উদযাপন ও সামাজিক মেলবন্ধন।

বাঙালির এই মিলনমেলায় প্রধান অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে অসাম্প্রদায়িক সমাজ গড়ার অঙ্গীকার। নতুন বছর মানেই নতুন আশা ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন। অতীতের সব অপ্রাপ্তি ভুলে নতুন প্রত্যয়ে এগিয়ে যাওয়ার এই দিনে প্রতিটি বাঙালির মনে বেজে উঠছে সাম্য ও মৈত্রীর জয়গান। বৈশ্বিক মহামারি বা সংকটের মেঘ সরিয়ে পহেলা বৈশাখের এই নতুন সূর্যোদয় আমাদের জাতীয় জীবনে বয়ে আনুক শান্তি, সমৃদ্ধি ও অনাবিল আনন্দ—এমনটাই আজ সবার প্রত্যাশা।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রাণীদের প্রতি ভালোবাসা: মাছ ও ডিম খাওয়া নিয়ে অনুশোচনায় জয়া আহসান

এসো হে বৈশাখ: নতুন সূর্যের আলোয় বর্ণিল বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩

আপডেট সময় : ০৯:০৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

আজ পহেলা বৈশাখ। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রমনা বটমূলে ছায়ানটের শিল্পীদের কণ্ঠে ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’ গানের সুরলহরীতে বরণ করে নেওয়া হয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-কে। পুরোনো বছরের সব জরাজীর্ণতা, ক্লান্তি ও দুঃখ-গ্লানি পেছনে ফেলে এক নতুন স্বপ্নে বিভোর হয়ে আজ উৎসবে মেতেছে পুরো বাঙালি জাতি। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অসাম্প্রদায়িক চেতনার এই প্রাণের উৎসবে রাজধানী থেকে শুরু করে গ্রামবাংলার প্রতিটি জনপদ এখন উৎসবের রঙে রঙিন। লাল-সাদা পোশাক, প্রাণের মেলা, আর ঢোল-করতালের শব্দে চারদিকে এক আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

বাঙালির এই হাজার বছরের ঐতিহ্য কেবল বর্ষবরণেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। মুঘল সম্রাট আকবরের ফসলি সন থেকে শুরু হওয়া এই উৎসব কালক্রমে হয়ে উঠেছে অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক। ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে শুরু হওয়া ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ আজ ইউনেস্কো স্বীকৃত ‘মানবতার অমূল্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’। গ্রামীণ জীবনের হালখাতা আর পান্তা-ইলিশের প্রথা আজও টিকে আছে স্বমহিমায়, যার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আধুনিক যুগের ডিজিটাল উদযাপন ও সামাজিক মেলবন্ধন।

বাঙালির এই মিলনমেলায় প্রধান অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে অসাম্প্রদায়িক সমাজ গড়ার অঙ্গীকার। নতুন বছর মানেই নতুন আশা ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন। অতীতের সব অপ্রাপ্তি ভুলে নতুন প্রত্যয়ে এগিয়ে যাওয়ার এই দিনে প্রতিটি বাঙালির মনে বেজে উঠছে সাম্য ও মৈত্রীর জয়গান। বৈশ্বিক মহামারি বা সংকটের মেঘ সরিয়ে পহেলা বৈশাখের এই নতুন সূর্যোদয় আমাদের জাতীয় জীবনে বয়ে আনুক শান্তি, সমৃদ্ধি ও অনাবিল আনন্দ—এমনটাই আজ সবার প্রত্যাশা।