উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হলো হরমুজ প্রণালি। এর উত্তরে ইরান এবং দক্ষিণে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত অবস্থিত। এই সরু জলপথটি পারস্য উপসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করে এবং এটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান সামুদ্রিক বাণিজ্য পথ। প্রণালিটি এতটাই গভীর যে বিশ্বের বৃহত্তম তেলবাহী জাহাজগুলোও এখানে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল ও গ্যাস উৎপাদনকারী দেশগুলো এবং তাদের ক্রেতারা এই পথটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে।
বিবিসির তথ্যমতে, হরমুজ প্রণালিটি প্রবেশ ও প্রস্থান মুখে প্রায় ৫০ কিলোমিটার প্রশস্ত এবং সবচেয়ে সরু স্থানে প্রায় ৩৩ কিলোমিটার। বিশ্বব্যাপী উৎপাদিত প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সাধারণত এই প্রণালি দিয়েই পরিবহন হয়। কেবল ইরান নয়, ইরাক, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও তেল এই পথ দিয়ে যায়। স্বাভাবিক সময়ে প্রতি মাসে প্রায় ৩,০০০ জাহাজ এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করে।
সাম্প্রতিক সময়ে, ইরান কর্তৃক ট্যাঙ্কার ও অন্যান্য জাহাজে হামলার হুমকির কারণে এই জলপথে চলাচলকারী জাহাজের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত ২১টি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে বা লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এই সংঘাতের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দামে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা এ বছর প্রায় ৭০ শতাংশ এবং গত বছরের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























