সাবেক ভারতীয় লেগ স্পিনার লক্ষ্মণ শিবরামকৃষ্ণান ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) বিরুদ্ধে বর্ণবৈষম্যের অভিযোগ এনে ধারাভাষ্য জগৎ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। প্রায় দুই দশকের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টানার এই সিদ্ধান্ত তিনি সম্প্রতি এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জানিয়েছেন। তার অভিযোগ, দীর্ঘ এই সময়ে তাকে যোগ্য সম্মান এবং কাঙ্ক্ষিত সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, যা তাকে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।
২০০০ সালে ধারাভাষ্যকার হিসেবে ক্রিকেট মাঠে নতুন পরিচয়ে যাত্রা শুরু করা শিবরামকৃষ্ণান মনে করেন, নতুন প্রজন্মের ধারাভাষ্যকাররা সুযোগ পেলেও তাকে বরাবরই উপেক্ষা করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘বিগত ২৩ বছর ধরে আমাকে টস বা প্রেজেন্টেশন করার মতো কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি। এমনকি রবি শাস্ত্রী যখন দলের কোচ ছিলেন, তখনও নতুন ধারাভাষ্যকারদের পিচ রিপোর্ট বা প্রেজেন্টেশন করতে দেখা গেছে। এর পেছনের কারণ কী হতে পারে বলে আপনাদের মনে হয়?’ এক মন্তব্যের জবাবে তিনি সরাসরি ‘বর্ণবৈষম্যকেই’ এই বঞ্চনার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
তার এই আকস্মিক বিদায় ভারতের অনেক ক্রিকেটপ্রেমী এবং সাবেক ক্রিকেটারকে হতাশ করেছে। ভারতের অন্যতম অভিজ্ঞ ক্রিকেটার রবিচন্দ্রন অশ্বিনও তার বিদায় নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘ওহ না! এই আইপিএলে কেন নয়?’ প্রসঙ্গত, লক্ষ্মণ শিবরামকৃষ্ণান ভারতের হয়ে ৯টি টেস্ট এবং ১৬টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন। ১৯৮৪ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ১২ উইকেট নিয়ে তিনি বিশ্ব মঞ্চে নিজের আগমনী বার্তা দিয়েছিলেন। তবে তার ক্যারিয়ারের সেরা সময় ছিল ১৯৮৫ সালে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত বেনসন অ্যান্ড হেজেস বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ, যেখানে তিনি সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হিসেবে ভারতকে শিরোপা জিততে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। বিশেষ করে, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিপক্ষে ফাইনাল ম্যাচে তার নিয়ন্ত্রিত বোলিং ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
রিপোর্টারের নাম 
























