ঢাকা ০৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমাতে ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল, তেহরানের ভিন্ন দাবি

বিশ্ববাজারে তেল ও জ্বালানির সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে এবং দামের লাগাম টানতে ইরানের অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের ওপর থেকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ৩০ দিনের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার জেরে বিশ্বজুড়ে তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এই সাময়িক অনুমোদন কেবল সেই তেলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে যা ইতোমধ্যে পরিবহন প্রক্রিয়ায় রয়েছে; নতুন কোনো অর্ডারের জন্য এটি কার্যকর হবে না। এর আগে এক সাক্ষাৎকারে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সাগরে ভাসমান প্রায় ১৪ কোটি ব্যারেল ইরানি তেল বাজারে আসার সুযোগ দেওয়া হতে পারে।

এদিকে, ইরান অবশ্য দাবি করেছে যে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোতে হামলা চালাচ্ছে। তাদের এই পদক্ষেপের ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও গ্যাস পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে, যা বিশ্ববাজারে তেলের দামের অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলার আশঙ্কা তৈরি করছে।

মার্কিন অর্থমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর ইরান পাল্টা দাবি করেছে যে, আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করার মতো তাদের কাছে অতিরিক্ত কোনো অপরিশোধিত তেল নেই। ইরানের তেল মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সামান গোদ্দোসি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে স্পষ্ট করেছেন, ‘বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে দেওয়ার মতো ইরানের কাছে কোনো অতিরিক্ত অপরিশোধিত তেল নেই—না সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায়, না অন্য কোথাও মজুদ হিসেবে।’ তিনি আরও দাবি করেন, মার্কিন অর্থমন্ত্রীর এই বক্তব্য মূলত সম্ভাব্য ক্রেতাদের মধ্যে মিথ্যা আশাবাদ জাগিয়ে তোলার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আজকের খেলার সূচি: ইউরোপিয়ান ফুটবল ও ক্রিকেট ম্যাচের জমজমাট লড়াই

বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমাতে ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল, তেহরানের ভিন্ন দাবি

আপডেট সময় : ০৬:৩৪:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬

বিশ্ববাজারে তেল ও জ্বালানির সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে এবং দামের লাগাম টানতে ইরানের অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের ওপর থেকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ৩০ দিনের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার জেরে বিশ্বজুড়ে তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এই সাময়িক অনুমোদন কেবল সেই তেলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে যা ইতোমধ্যে পরিবহন প্রক্রিয়ায় রয়েছে; নতুন কোনো অর্ডারের জন্য এটি কার্যকর হবে না। এর আগে এক সাক্ষাৎকারে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সাগরে ভাসমান প্রায় ১৪ কোটি ব্যারেল ইরানি তেল বাজারে আসার সুযোগ দেওয়া হতে পারে।

এদিকে, ইরান অবশ্য দাবি করেছে যে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোতে হামলা চালাচ্ছে। তাদের এই পদক্ষেপের ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও গ্যাস পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে, যা বিশ্ববাজারে তেলের দামের অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলার আশঙ্কা তৈরি করছে।

মার্কিন অর্থমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর ইরান পাল্টা দাবি করেছে যে, আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করার মতো তাদের কাছে অতিরিক্ত কোনো অপরিশোধিত তেল নেই। ইরানের তেল মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সামান গোদ্দোসি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে স্পষ্ট করেছেন, ‘বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে দেওয়ার মতো ইরানের কাছে কোনো অতিরিক্ত অপরিশোধিত তেল নেই—না সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায়, না অন্য কোথাও মজুদ হিসেবে।’ তিনি আরও দাবি করেন, মার্কিন অর্থমন্ত্রীর এই বক্তব্য মূলত সম্ভাব্য ক্রেতাদের মধ্যে মিথ্যা আশাবাদ জাগিয়ে তোলার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে।