ঢাকা ১২:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

বিসিবির নির্বাচন নিয়ে জটিলতা: আইসিসির হস্তক্ষেপে স্থগিতাদেশের শঙ্কা

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সর্বশেষ নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটি গঠন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিসিবি। এই পরিস্থিতিকে তারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে আশ্রয় খোঁজার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। এনএসসি পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, যাদের আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

বিসিবি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে তাদের সর্বশেষ নির্বাচন গঠনতন্ত্র মেনেই নিয়মতান্ত্রিকভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এনএসসির এই তদন্ত কমিটি গঠন তাদের কাছে উদ্বেগজনক মনে হচ্ছে এবং এর ফলে আইসিসি বাংলাদেশের সদস্যপদ স্থগিত করতে পারে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। বিসিবি বিষয়গুলো নিয়ে এনএসসির সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে, তবে আলোচনার সম্ভাব্য তারিখ এখনো জানায়নি।

এই ঘটনাটি ক্রিকেট মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে, ফারুক আহমেদ, নাজমুল আবেদিন ফাহিম এবং আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বিসিবিতে অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সরকারের পতনের পর এনএসসির মনোনয়ন নিয়ে ফাহিম ও ফারুক বিসিবিতে আসেন এবং পরবর্তীতে ফারুক আহমেদের পরিবর্তে আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে আনা হয়। এই পুরো প্রক্রিয়াটিতেও সরকারের হস্তক্ষেপ ছিল কিনা, তা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

বিসিবির সাবেক পরিচালক ও বর্তমানে বিদ্রোহী পক্ষের রফিকুল ইসলাম বাবু মন্তব্য করেছেন যে, এই ধরনের বিবৃতিতে সর্বশেষ নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তিনি মনে করেন, যদি নির্বাচন সঠিকভাবে হয়ে থাকে, তাহলে তদন্ত কমিটি নিয়ে ভয়ের কিছু নেই। ভয়ের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেই এখন আইসিসির দোহাই দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে কী ঘটেছে তা আইসিসি জানে এবং বুলবুলের বিসিবিতে আসার প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলা যেতে পারে।

সব মিলিয়ে, নির্বাচন নিয়ে সরকার ও বিসিবির মধ্যে একটি বিরোধী অবস্থান তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন বিসিবির সাবেক পরিচালক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সিলর সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিসিবি এনএসসির একটি অংশ এবং এনএসসির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বিসিবি ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে, যা বিসিবির গঠনতন্ত্রেও উল্লেখ আছে। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী বিসিবি চললেও, সরকার হস্তক্ষেপ করতে পারে না এমনটি ঠিক নয় বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দ্বন্দ্বে মধ্যস্থতায় তেহরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান

বিসিবির নির্বাচন নিয়ে জটিলতা: আইসিসির হস্তক্ষেপে স্থগিতাদেশের শঙ্কা

আপডেট সময় : ১০:১১:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সর্বশেষ নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটি গঠন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিসিবি। এই পরিস্থিতিকে তারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে আশ্রয় খোঁজার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। এনএসসি পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, যাদের আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

বিসিবি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে তাদের সর্বশেষ নির্বাচন গঠনতন্ত্র মেনেই নিয়মতান্ত্রিকভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এনএসসির এই তদন্ত কমিটি গঠন তাদের কাছে উদ্বেগজনক মনে হচ্ছে এবং এর ফলে আইসিসি বাংলাদেশের সদস্যপদ স্থগিত করতে পারে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। বিসিবি বিষয়গুলো নিয়ে এনএসসির সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে, তবে আলোচনার সম্ভাব্য তারিখ এখনো জানায়নি।

এই ঘটনাটি ক্রিকেট মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে, ফারুক আহমেদ, নাজমুল আবেদিন ফাহিম এবং আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বিসিবিতে অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সরকারের পতনের পর এনএসসির মনোনয়ন নিয়ে ফাহিম ও ফারুক বিসিবিতে আসেন এবং পরবর্তীতে ফারুক আহমেদের পরিবর্তে আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে আনা হয়। এই পুরো প্রক্রিয়াটিতেও সরকারের হস্তক্ষেপ ছিল কিনা, তা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

বিসিবির সাবেক পরিচালক ও বর্তমানে বিদ্রোহী পক্ষের রফিকুল ইসলাম বাবু মন্তব্য করেছেন যে, এই ধরনের বিবৃতিতে সর্বশেষ নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তিনি মনে করেন, যদি নির্বাচন সঠিকভাবে হয়ে থাকে, তাহলে তদন্ত কমিটি নিয়ে ভয়ের কিছু নেই। ভয়ের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেই এখন আইসিসির দোহাই দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে কী ঘটেছে তা আইসিসি জানে এবং বুলবুলের বিসিবিতে আসার প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলা যেতে পারে।

সব মিলিয়ে, নির্বাচন নিয়ে সরকার ও বিসিবির মধ্যে একটি বিরোধী অবস্থান তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন বিসিবির সাবেক পরিচালক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সিলর সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিসিবি এনএসসির একটি অংশ এবং এনএসসির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বিসিবি ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে, যা বিসিবির গঠনতন্ত্রেও উল্লেখ আছে। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী বিসিবি চললেও, সরকার হস্তক্ষেপ করতে পারে না এমনটি ঠিক নয় বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।