আফ্রিকা কাপ অফ নেশনসের ফাইনাল ঘিরে তৈরি হওয়া তীব্র বিতর্কের নাটকীয় পরিণতিতে পাল্টে গেছে শিরোপার মালিকানা। মাঠে জয় উদযাপন করা সেনেগালের কাছ থেকে শিরোপা কেড়ে নিয়ে শেষ পর্যন্ত স্বাগতিক মরক্কোকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়েছে।
গত জানুয়ারিতে রাবাতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে সেনেগাল অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে মরক্কোকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল। কিন্তু ম্যাচ চলাকালীন ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলার জেরে বিষয়টি কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবলের (সিএএফ) আপিল বোর্ডে গড়ায়।
বিতর্কের সূত্রপাত হয় স্টপেজ টাইমে, যখন মরক্কোকে পেনাল্টি দেওয়ার সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে সেনেগাল দল প্রায় ১৫ মিনিট মাঠের বাইরে অবস্থান নেয়। ওই সময় দর্শকরাও মাঠে ঢোকার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দীর্ঘ বিরতির পর খেলা শুরু হলে মরক্কোর পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন সেনেগালের গোলকিপার এদুয়ার্দ মেন্দি। এরপর অতিরিক্ত সময়ে একমাত্র গোল করে সেনেগাল জয় নিশ্চিত করে।
এর আগেই আরেকটি বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, যখন স্টপেজ টাইমে সেনেগালের একটি গোল ফাউলের অভিযোগে বাতিল করা হয়। টেলিভিশন রিপ্লেতে দেখা যায়, ওই ফাউলের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন ছিল। প্রাথমিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থায় উভয় দলকে জরিমানা ও খেলোয়াড়দের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও ম্যাচের ফলাফল বহাল ছিল।
তবে আপিলে চূড়ান্তভাবে ম্যাচের ভাগ্য বদলে যায়। সিএএফ তাদের সিদ্ধান্তে প্রতিযোগিতার একটি ধারা উল্লেখ করেছে, যেখানে বলা হয়েছে— কোনো দল যদি ম্যাচ চলাকালে মাঠ ত্যাগ করে বা খেলা চালিয়ে যেতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে তাদের পরাজিত ঘোষণা করা হবে এবং প্রতিযোগিতা থেকে বহিষ্কার করা হবে। এই ধারার ভিত্তিতে আপিল বোর্ড সেনেগালকে অযোগ্য ঘোষণা করে এবং ম্যাচের ফলাফল ৩-০ ব্যবধানে মরক্কোর অনুকূলে দেয়।
এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সেনেগালের খেলোয়াড়রা। ডিফেন্ডার মুসা নিয়াখাতে সামাজিক মাধ্যমে ট্রফি হাতে নিজের ছবি দিয়ে লিখেছেন, ‘নিয়ে যাও তো দেখি। পাগল নাকি!’ আর এল হাজি মালিক দিওফ লিখেছেন, ‘এমনটা আমি আশা করিনি, এটা কোথাও যাচ্ছে না।’
অন্যদিকে, মরক্কোর ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, তারা কখনোই প্রতিপক্ষের ক্রীড়া নৈপুণ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়নি। বরং প্রতিযোগিতার নিয়ম যথাযথভাবে প্রয়োগের দাবি জানিয়েছিল। ফেডারেশন আরও বলেছে, তারা নিয়মের প্রতি সম্মান, প্রতিযোগিতার স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছে এবং অংশগ্রহণকারী সব দলকে অভিনন্দন জানিয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























