সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করার সময় আমরা প্রায়ই লক্ষ্য করি যে, আমাদের পছন্দের সাথে মিল রেখে বিভিন্ন ভিডিও বা পোস্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সামনে চলে আসে। এই প্রক্রিয়ার পেছনে কাজ করে অত্যন্ত জটিল ‘রেকমেন্ডেশন অ্যালগরিদম’। টিকটক বা ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহারকারীর আচরণ বিশ্লেষণ করে এই ব্যক্তিকেন্দ্রিক ফিড বা ‘ফর ইউ পেজ’ তৈরি করে।
এই ব্যবস্থার প্রধান লক্ষ্য হলো ব্যবহারকারীকে দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখা। একজন ব্যবহারকারী কোন ধরনের কনটেন্টে লাইক দিচ্ছেন, কোন ভিডিওটি পুরোটা দেখছেন কিংবা কোনটি এড়িয়ে যাচ্ছেন—এই প্রতিটি ক্ষুদ্র তথ্য অ্যালগরিদমের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ‘ওয়াচ টাইম’ বা ভিডিও দেখার সময়কালকে এখানে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। কোনো ভিডিও যদি অধিকাংশ মানুষ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দেখে, তবে অ্যালগরিদম সেটিকে আকর্ষণীয় হিসেবে চিহ্নিত করে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়।
তবে এই প্রযুক্তির একটি নেতিবাচক দিকও রয়েছে, যাকে বিশেষজ্ঞরা ‘ফিল্টার বাবল’ বা ‘ইকো চেম্বার’ বলে অভিহিত করেন। যেহেতু অ্যালগরিদম কেবল আপনার পছন্দের বিষয়গুলোই বারবার সামনে আনে, সেহেতু আপনি ভিন্ন মত বা নতুন কোনো দৃষ্টিভঙ্গি জানার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। এর ফলে মানুষের চিন্তাচেতনা একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
রিপোর্টারের নাম 























